Kolkata Midnight Talk

প্রতিদিন আমাদের সাথে অসংখ্য ঘটনা ঘটে। সেই সকল ঘটনা যেগুলো আমরা কেউ শেয়ার করার মতোন কাউকে পাইনা, আমাদের ব্লগে সেই সকল অজানা গল্প, অবলা পোষ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন লেখা ছাড়াও কিছু লেখকের ভূত ও ভালোবাসার গল্প পাবেন। আশা রাখছি আমাদের পাশে আপনাদের মতোন বন্ধুদেরকে সবসময় পাবো।

LightBlog

Breaking

বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২০

মৌমিতা ও পেটুকসোনার গল্প। Moumita Dhar।

ছবি - Moumita Dhar

হেই বন্ধুরা মাঝেমধ্যে আমরা সকলেই খুব তাড়াতাড়ি রেগে যাই। একটা ভালো কথা মুখ বাঁকিয়ে উত্তর দিই। হ্যাঁ কোনো সময় এর কারণ হয়ে থাকে মন খারাপ আবার কিছু পুরনো স্মৃতি যেগুলো খালি ভাবনার রাজ্যে নিয়ে যায় আবার হতে পারে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা আমাদের এই রাগের কারণ। এই রাগ,হিংসা আমাদের পক্ষে যে কতটা ক্ষতিকর হতে পারে এটা আমরা পরে বুঝতে পারি। সকলে শুধু রাগটাকেই বড়ো করে দেখে। আমরা যদি এই ছোটো ছোটো রাগ গুলোকে ঝেড়ে ফেলে দিতে পারি তাহলে বড়ো ধরনের একটা ক্ষয়ক্ষতির হাত দিয়ে আমরা বেঁচে যাবো। হাজার হোক রাগ করলে আর যাই হোক সমস্যার সমাধান হয়না। বরং সমস্যা আরও বাড়ে। আমাদের সকলকেই দরকার। কারণ আমাদের একটাই পরিচয় আমরা মানুষ। এইসব রাগ,হিংসা জীবনের পথে একটা বাধা যাকিনা সুখের রাস্তা জ্বালিয়ে দেওয়ার কাজে  ব্যবহার হয়। তবে আপনারা এখন গল্পের দুনিয়ায় প্রবেশ করতে চলেছেন তাই এখুনি মনের যতো রাগ,অভিমান আছে সেগুলি দুর করে ফেলুন তো দাদা-দিদিরা।

আমাদের Silient Talks Of Midnight Animals ফেসবুক পেজের গল্পের দুনিয়ায় আপনাকে জানাই স্বাগতম। 

আজ আপনারা যেই গল্পটি পড়তে চলেছেন সেটির শুরুটা ঠিক দুইবছর আগে।
২০১৮ সালের মার্চ মাসে..নিউ ব্যারাকপুরের আশেপাশের কোনো এক জায়গাই সদ্য জন্ম নেয় পেটুক নামের একটি মেয়ে বিড়ালের।

আলোচ্যে গল্পটির যাবতীয় তথ্য ও ছবি আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন - Moumita Dhar

উপস্থাপনায় - Silient Talks Of Midnight Animals.. 


যেইদিন আমাদের পেটুক সোনা ভুমিষ্ঠ হয়েছিলো ওইদিন কোনো কারন বশত মৌমিতা বাড়িতে ছিলোনা। পরে তিনি যখন বাড়ি ফেরে তখন সে তার মা ও বাবার কাছে এই ব্যাপারটি শুনেছে। সেইদিন খুব বৃষ্টি পড়ছিলো। যেই বিড়ালের সন্তান আমাদের পেটুক রানী। সেই বিড়ালটির প্রথম সন্তান ছিলো পেটুক। বাচ্চাটি কোথায় দিয়েছিলো সে সেটি কেউ ঠিকমতো বলতে পারেনি। তবে মৌমিতার বাড়ির গেটের সামনে বাচ্চাটির মা তার সন্তানকে ফেলে দিয়ে কোথায় যেন চলে যায়। তো মৌমিতার মা ওই বাচ্চাটিকে ঘরে নিয়ে আসে। বাচ্চাটিকে মুছিয়ে একটা গরম জায়গাই রেখে দিয়েছিলো। কিন্তু বৃষ্টি থামতেই বাচ্চাটির মা সেই গেটের সামনে এসে খুব কান্নাকাটি করতে থাকে..নিজের বাচ্চাকে না দেখতে পেয়ে। তখন মৌমিতার মা আমাদের পেটুকরানী কে তুলে দেয় তার মায়ের হাতে। আর ওর মা তার সন্তানকে নিয়ে চলে যায়।


পরের দিন,

মৌমিতার চোখে পড়ে সেই বাচ্চাটিকে মানে আমাদের পেটুকরানীকে। পেটুকের মা পেটুককে আবারো মুখে করে সেই বাড়িতে নিয়ে আসে। পেটুকের গায়ের একটুও লোম ছিলোনা, তার শরীরের পুরো লাল চামড়াটা দেখা যাচ্ছিলো..সেই দৃশ্য মৌমিতার গায়ের লোম কে দাক্বড় করিয়ে দেয়।

এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই পেটুকের মা পেটুককে মৌমিতার বাড়িতে নিয়ে আসতো। একদিন সন্ধ্যাবেলায় মৌমিতা একটু অন্যমনস্ক ছিলো, তখন পেটুকের মা পেটুককে নিয়ে আসে মৌমিতাদের বাড়িতে। তারা দুইজনেই খেলছিলো। খেলতে খেলতে পেটুকের মা একটু বেখেয়াল হয়ে যায়। ঠিক তখনি কোথা থেকে একটা বড়ো ইঁদুর এসে পেটুলের লেজ ধরে টানতে টানতে নিয়ে যায়। ওর মা যখন বুঝতে পারে যে তার সন্তানকে কেউ নিয়ে যাচ্ছে তখন সে চিৎকার করে উঠে। সেই চিৎকার শুনে মৌমিতা বাইরে যায় এবং সেই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে..তবে ইঁদুরটি তখন পালিয়ে গিয়েছিলো। পেটুকের মা তখন জোড়ে জোড়ে কাঁদছিলো। আর পেটুক ভয়ে চুপ করে এক জায়গায় বসে আছে। পেটুকের লেজের গোড়ায় লেগে আছে রক্ত। মৌমিতা বিড়ালছানাটিকে ঘরে নিয়ে আসে। ব্যস তারপর থেকে আর কখনো সে তার পেটুককে পেটুকের মায়ের কাছে তুলে দেয়নি। পেটুক তখন একটা নতুন ঘর পেলো, সাথে পেলো একটা নতুন পরিবার।


পেটুককে দেখতে না পেয়ে পেটুকের মা যখন খুব কান্নাকাটি করতো। তখন পেটুকের মা'কে ধরে এনে বারান্দায় আটকে রেখে পেটুককে তার মায়ের কাছে দিয়ে দিতো। ওখানে পেটুকের মা পেটুককে দুধ খাওয়াতো, আর আদর করতো। যাই হয়ে যাক না কেন..পেটুকের মায়ের কাছে পেটুককে কখনোই একা ছাড়তো না..আর পেটুকের মা যাতে পেটুককে না নিয়ে যেতে পারে সেইদিকেও লক্ষ্য রাখতো।
পেটুককে আদর করানো হোক, কিংবা খেলা করা সিব মৌমিতার বাড়িতেই হতো। একসময় যখন মোহ কাটতে থাকে তখন পেটুকের মা আস্তে আস্তে করে ওইবাড়িতে আসা বন্ধ করে দিলো। শুধু পরে থাকলো তার সন্তান। শুরু হলো একটা নতুন জীবনের গল্প। পেটুকরানীর গল্প।

মৌমিতার বাড়ির একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হলো পেটুক। যখনি মৌমিতার কোনো আত্মীয়স্বজন ফোন করতো তারা আগে পেটুকের খবর নিতো। পেটুকসোনা ছোটোবেলায় খুব খেতে ভালোবাসতো। ঘুমাতো খুব কম। সবসময়ই মুখ চলতে থাকতো পেটুকের। তাই এই নাম। মৌমিতার পাশের বাড়ির এক প্রতিবেশী আমাদের নাদুসনুদুস পেটুকের আরও একটা নাম দিয়েছিলেন..তারা ভালোবেসে টেপি বলে ডাকতেন।



পেটুকের যতো আদর তার দিদি মৌমিতার কাছে। পেটুক এসে মৌমিতার নাকে চুমু দেয়, কখনো পায়ের আঙুল কামড়ে কিংবা হাতের আঙুল মুখে নিয়ে বোঝাতে চাইতো যে, আমাকে এখন আদর করো।

মৌমিতা যাই খাবার খাক না কেন..পেটুক মৌমিতার সামনে এসে আস্তে আস্তে মুখ নাড়াবে..মানে খাবার-টার ভাগ আমাকেও দাও।

ওর প্রিয় খাবার মিষ্টি।
বাড়িতে পূজো দেওয়ার সময় মৌমিতার মায়ের পাশে চুপ করে বসে থাকবে। মিষ্টির জন্য। ও জানে যে, মৌমিতার মা পূজো হয়ে গেলে ঠিক মিষ্টি দেবে।


আমাদের পেটুকরানীর রাগ ভাঙানোর জন্য হয় গুঁড়ো দুধ নাহয় মিষ্টি দিতেই হবে। নাহলে রাগ কমেনা।

মৌমিতার বাবা যেইদিন বাজারে যায়না সেইদিন পেটুক ঠিক বুঝে যায়। তখন পেটুক মৌমিতার বাবার পা টেনে ধরবে আর নাহলে পায়ে,হাতে মাথা দিয়ে আদর করে বোঝাতে চাইছে যে এখন বাজারে যাও। এটা একপ্রকার ঘুষ যেটার মাধ্যমে  পেটুক মৌমিতার বাবাকে বোঝাতে চাইছে এইবার বাজারে যাও।

বাবা যখন বাজারে যাবে তখন পেটুক গেট অবধি সে তার বাবাকে এগিয়ে দেবে, তখন সে গেটের আশেপাশেই অপেক্ষা করে..কখন মৌমিতার বাবা বাজার থেকে মাছ নিয়ে আসবে।


মৌমিতার বাবা যখন খেতেবসে..তখন পেটুক ও ওখানে বসে থাকে কারন সে জানে ওখানে বসে থাকলে কিছুনা কিছু সে পাবেই।

আমাদের এই ছোটো পেটুক মৌমিতার ছোটো বনের মতোন। মৌমিতা যাই করুক, যেই জিনিসটাই দেখুক তা সে ফুল হোক কিংবা অন্যকিছু সেইসব কিছুর-ই খুঁটিয়ে দেখে পেটুকরানী। পেটুকরানীর একটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো তার দিদি মৌমিতাকে সকালে ঘুম থেকে উঠিয়ে দেয়। তা সে চুমুর মাধ্যমে হোক কিংবা হাল্কা সুরে ডেকে। তবে এমনি এমনি নয়। সেইসময় পেটুককে চটকে চটকে আদর করতে হয়।


একবার মৌমিতা দুইদিন বাড়ি ছিলোনা সেইসময় পেটুক মৌমিতার বাবার সাথে ঘুমিয়েভহিলো। তো ওইদুইদিন রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠে মৌমিতার খাটের দিকে মাথা উঁচু করে দেখতো মৌমিতা আছে কি না। মৌমিতাকে না পেয়ে পেটুক মৌমিতার মায়ের কাছে গিয়ে ডাকতো।


ছবিতে যেই গোলাপফুলটা দেখছেন ওটা আগে মৌমিতার হাতে ছিলো। মৌমিতার সব জিনিস-ই পেটুকের পছন্দ তাইতো যখন মৌমিতা গোলাপফুলটা পেটুকের দিকে বাড়িয়ে দিলো..তখন পেটুক বুড়ো আঙুল দিয়ে ফুলটা ধরলো। আর ফুলের গন্ধ শুকে একভানে ফুলটার দিকে তাকিয়ে বুঝতে চেষ্টা করলো জিনিস-টা কি।


তো এটাই ছিলো আমাদের পেটুক সোনার গল্প। আমাদের আজকের গল্পটা কেমন লাগলো সেটা অবশ্যই জানাবেন।

বন্ধুরা আমাদের উদ্দেশ্যে সকলের মাঝে ভালোবাসা পৌঁছে দেওয়া যাতে একটু হলেও বিড়াল কুকুরের উপর অত্যাচার কম হয়। ওদের ও বাঁচার অধিকার আছে। আমরা মাঝেমধ্যে কোনো না কোনো ভাবে যারা বিড়াল কুকুর পোষে তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করি। এর মূলত অনেক কারণ আছে..এই যেমন ধরুন কারুর বাড়ির সামনে যদি অন্য কুকুরে এসে পায়খানা করে গেলো..তো সেক্ষেত্রে দোষ পড়বে পাশের বাড়ির কুকুরটার উপর। আবার এও ধরুন পাশের পাড়া থেকে একটা বিড়াল এসে এপাড়ার কারুর বাড়ি থেকে মাছ নিয়ে গেলো..তো এক্ষেত্রেও দোষটা সেই বিড়ালপ্রেমীদের বিড়ালের উপর পড়বেই। এছাড়া অনেকে বলে বিড়াল কুকুর ডাকা অমঙ্গল।

পায়খানা,বাথরুম,ডাক এগুলো স্বাভাবিক জিনিস। মানছি সবসময় উপরের কারণ গুলোর মতোন এপাড়ার বিড়ালগুলোর নির্দোষ নাও হতে পারে। 
তবে বিড়াল কুকুর পোষ মেনে গেলে ওরা প্রায় অনেক নিয়মকানুন মেনে চলে। আর সবথেকে বড়ো কথা কুকুর কে বাড়িতে রেখে যদিও পোষা যায় ( সবক্ষেত্রে নাও হতে পারে ) তবে বিড়ালকে আটকে রাখা একটু শক্ত। তবে পুরোপুরি পোষ মেনে গেলে আর তো কোনো কথাই নেই।

আপনাদের সকলের কাছে একটা বিনীত অনুরোধ, আপনি যদি কোনো বিড়াল কুকুরের দায়িত্ব না নিতে পারেন তবে যারা ওদের দেখভাল করে তাদের মনোযোগ ভেঙে দেবেন না। পারলে তাদের উৎসাহ দিন। ওইযে আগেই বলেছি ছোটো ছোটো রাগ গুলো আমরা যদি ঝেড়ে ফেলতে পারি তবে একটা বড়ো ধরণের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে আমরা নিজেদের রক্ষা করতে পারি।

অঙ্কিতা দিদি ও দিদির ছানাপোনা

বন্ধুরা সবাই কেমন আছো? অনেকদিন পর আবারো একটা গল্প নিয়ে চলে এলাম।  যেই গল্পের মুখ্য চরিত্র কাজল, আলু আর মায়াকে নিয়ে। অঙ্কিতা দিই হচ্ছে এই বাচ...