Kolkata Midnight Talk

প্রতিদিন আমাদের সাথে অসংখ্য ঘটনা ঘটে। সেই সকল ঘটনা যেগুলো আমরা কেউ শেয়ার করার মতোন কাউকে পাইনা, আমাদের ব্লগে সেই সকল অজানা গল্প, অবলা পোষ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন লেখা ছাড়াও কিছু লেখকের ভূত ও ভালোবাসার গল্প পাবেন। আশা রাখছি আমাদের পাশে আপনাদের মতোন বন্ধুদেরকে সবসময় পাবো।

LightBlog

Breaking

Street dog লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Street dog লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৩

আগস্ট ১৯, ২০২৩

জনপ্রিয় Meme Dog Cheems আর নেই।


বিখ্যাত Meme Dog Cheems আর নেই আমাদের মাঝে। সাধারনত Cheems কে আমরা মিমের মাধ্যমেই কমবেশি সকলেই চিনি। বাচ্চাটি একবছর বয়সের থেকে হংকং এর একটি পরিবারে বড়ো হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায়। তার সুন্দর সুন্দর কার্যকালাপ গুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব ভাইরাল হয়।

প্রতীকি ছবি - Unsplash

Cheems_Balltze নামে একটি Instagram পেজ চালু করা হয় পরে। সেই পেজটিও ভাইরাল হয়েছে। Cheems মুলত 2017 সালে একটি চতুর ছবির মাধ্যমে চারিদিকে প্রচুর খ্যাতি অর্জন করেছিলো তখন থেকে সে তার দুষ্টু চেহারা এবং কাজের জন্য বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়েছে।

গত ২০২৩ সালে জুলাই মাসে Cheems ক্যান্সার ধরা পড়ে। পরে চিকিৎসা করা হয়। তবে গতকালের অস্ত্রোপচার শেষে, Cheems এর শারীরিক থেরাপি ব্যর্থ হয়। ফলস্বরূপ Cheems চলে যায় তারাদের দেশে। Cheems মৃত্যুর খবর তার ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম পেজ balltze-তেও পোস্ট করা হয়েছে। তারাদের দেশে ভালো থাকিস। আমাদের কে মজার মজার মেমে/ভিডিওর মাধ্যমে অনেক আনন্দ দিয়েছো। তোমার মেমে/ভিডিও গুলো স্মৃতি হয়ে থাকবে।

ছবি - Unsplash
তথ্যে - সোশ্যাল মিডিয়া।

শনিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২০

ডিসেম্বর ১২, ২০২০

পুকুসোনা। Madhukrishna Dhar।

ছবি ও তথ্যসূত্র - Madhukrishna Dhar   
উপস্থাপনায়- Silient Talks Of Midnight Animals      

        পুকুসোনা
- Madhukrishna Dhar
বিড়াল এমন এক প্রাণী যাকে যতোই আদর করা হোকনা কেন মনটা ঠিক ভরেনা। সামান্য একটু আদর করলেই ওরা নিমেষে বন্ধু হয়ে যেতে পারে। আজ আমি আপনাদের এমনি এক খুদে বন্ধুর সঙ্গে পরিচয় করাবো। যার নাম পুকু।

ছবি - পুকু ও তার মা

এই পুঁচকে পুকু 04/03/2016 তারিখে হাওড়ার কোনো এক যায়গায় জন্মেছিলো। ছবিতে যেই দিদিকে দেখছেন তার নাম Madhukrishna দিদি। তার কাছেই মানুষ হয়েছে আমাদের এই প্রিয় পুকু সোনা।

ছবিতে- পুকু ও তার মা

সারাদিন দুষ্টুমি করলেও পুকু কিন্তু তার মা'কে প্রচন্ড ভালোবাসে। মায়ের সাথে খেলা করা ওহ মায়ের কোলে মাথা দিয়ে ঘুমানো পুকুর রোজকার অভ্যাস। বিড়াল কুকুরের ভাষা আমরা কেউ বুঝতে পারিনা এটা ঠিকই। তবে ওদের কে যারা নিজের মনঃসংযোগ এক করে বোঝার চেষ্টা করে, ওদেরকে ভালোবেসে আপন করে নিজের কাছে টেনে নেয় তারা যতোই ওদের ভাষা বুঝতে না পারুক তবে ওদের ইচ্ছা, ওরা কি বলতে চাইছে একটু হলেও সে উপলব্ধি করতে পারবে। আমাদের এই পুকু সোনার দেহর ভাষা ( Body Language ) ও গতিবিধি এবং এতো ছোটো থেকে একটা বিড়ালসোনাকে বড়ো করে তোলার অভীজ্ঞতা মারফৎ পুকু কি চায়..কোনটা তার ভালো লাগছে কিংবা কোনটা তার কাছে কটু লাগছে সেটি বুঝে যায়। পুকুরা একভাই,দুইবোন। পুকুর একটা বোন আছে। কিন্তু ওর যে ভাই ছিলো সে আছে " না ফেরার কোনো এক দেশে "

আমাদের প্রিয় পুকুসোনা।

পুকুর প্রিয় খাবার বিড়ালদের ড্রাই ফুড। তবে পুকু কিন্তু মাঝেমধ্যে রাগ করে। যখন রেগে যায় তখন তাকে সামলানো খুব মুস্কিল। তখন কোনো সময় পুকুর মা..তার মেয়েকে আদর করে কিংবা
তার মেয়ের কাছে ক্ষমা চায় কিংবা জোড় করে কোলে নিয়ে পুকুকে একটু বেশীক্ষণ আদর দিতে হয়।

তারপর আর কি..পুকু তার ছোটো ছোটো হাত দিয়ে তার মা'কে অভিমান করে আলতো করে মারে..তারপর যখন রাগ কমে যায় তখন আবার আদর করে দেয়।

এটাই ছিলো আমাদের প্রিয় পুকু সোনার গল্প।

রবিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২০

ডিসেম্বর ০৬, ২০২০

স্ট্রবেরি সোনার দুনিয়া। Megha Bose।

ছবি ও গল্প - Megha Bose
উপস্থাপনায় - Silient talks of midnight animals      

  ~ স্ট্রবেরি সোনার দুনিয়া। 

হেই বন্ধুরা আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই পছন্দের তালিকায় কিছুনা কিছু বিশেষ জিনিস থাকে। যেগুলো আমরা কারুর সাথে ভাগ করে নিতে চাইনা। কারণ সেই জিনিস টুকু শুধুই যে নিজস্ব হয় তাই নয় একান্ত ব্যক্তিগতও বটে। আজ আমি আপনাদের একটি খরগোশের গল্প শোনাবো। হ্যাঁ ছোটো একটা খরগোশ সোনার গল্প। যার নাম স্ট্রবেরি বাড়ি তার বেলঘরিয়ার কোনো একটা জায়গায়। তবে তার দিদিমা তাকে ভালোবেসে পিমপিম বলে ডাকে। এই পিমপিম সোনাকে তার দিদার কাছে....পিমপিমের দিদিমার যে দিদি তার ছেলে অক্টোবর মাসের পাঁচ তারিখে নিয়ে আসে।

স্ট্রবেরি সোনার দিদা যেহেতু সারাক্ষণ বাড়িতেই থাকে তাই তার সঙ্গী বলতে কেবল তার একমাত্র ছোটো সোনাটাই। স্ট্রবেরির দিদা স্ট্রবেরি'কে ডাকলে ও সাথে সাথে চলে আসে আর তার দিদা বসে থাকলে স্ট্রবেরি তার দিদার কোলের উপর উঠে বসে পড়ে। স্ট্রবেরি আদর খেতেও খুব পছন্দ করে । ওর কান টা আলতো হাতে কেও ধরলে ও খুব আরাম বোধ করে। ওর প্রিয় খাবার কলমি শাক আর গাজর। স্ট্রবেরি দূর্বা ঘাস খেতেও ভালোবাসে। স্ট্রবেরির পছন্দের তালিকায় আবার মুড়ি ও আছে।
ছবি - স্ট্রবেরির দিদা ও স্ট্রবেরির সাথে।  


স্ট্রবেরির কোনো ভাই বা বোন নেই স্ট্রবেরি একাই। তবে তাতে বিন্দুমাত্র দুঃখ স্ট্রবেরির নেই, স্ট্রবেরি তার দিদার সবচেয়ে প্রিয় এবং কাছের বন্ধু।


এমনিতে সারাক্ষন স্ট্রবেরির দিদা স্ট্রবেরিকে চোখে চোখেই রাখে। স্ট্রবেরি বাড়িতে থাকলেও তার দিদার নজর ছাড়া হয়না কখনো। স্ট্রবেরির  অভিমান হলে বা কষ্ট হলে স্ট্রবেরির দিদা সেটা বুঝতে পারে, স্ট্রবেরি তখন তার দিদার কাছে এসে খুব আদর খেতে চায় । আর তখন স্ট্রবেরিকে ওর প্রিয় কলমি শাক আর গাজর দিলে সব কান্না ও ভুলে যায় আর সেগুলো তৃপ্তি নিয়ে খায়। এছাড়া ওর প্রিয় টেডির ওপর মাথা দিয়ে ঘুমোতে খুব ভালোবাসে। 

স্ট্রবেরি বাড়ির সবার মধ্যে শুধু দিদাকেই মানে এবং সবথেকে বেশী চেনে, স্ট্রবেরির দিদা স্ট্রবেরিকে কাছে ডাকলেই চলে আসে। এরা এবং এদের মতন সকলে তো এমনি ভালোবাসার কাঙাল হয়।

এই হচ্ছে স্ট্রবেরির একটা ছোটো গল্প। কেমন লাগলো গল্পটা অবশ্যই জানাবেন।

উপস্থাপনায় - Silient talks of midnight animals      

সোমবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২০

নভেম্বর ২৩, ২০২০

কালো কুকুরের কেলেঙ্কারি। মলয়।

ছবি ও লেখা - নিজস্ব।   
কালো কুকুরের কেলেঙ্কারি। 
   ~ মলয়। 

- দাদু পাশের বাড়িতে ওই ননি দিদিকে দেখলে? কোথা থেকে একটা কুকুর নিয়ে এসেছে।
  - হ্যা রে দেখলাম।
- দাদু ওদের পরিবারের কেউ তো কোনোদিন রাস্তার কুকুরদের একটা দানাও খেতে দেয়নি। এমনকি ওরা বাসি,পচা পান্তা ভাতও দিব্বি খেয়ে নেয়। তো ওরা যে কুকুর আনলো খেতে দেবে কি??

  - আরে চুপ..কর..
দেখছিস হাতে ফোন নিয়ে আছে। ওদের নাম নিয়ে কিছু বলিস না।

- কেন দাদু।
তোমার বন্ধুর ছেলে তো পুলিশ। তুমি আবার ওদের ভয় পাচ্ছ কেন?

  - ভয় কি আর সাধে পাচ্ছি..
ওই দেখ ননির হাতের মোবাইল-টা। দিনরাত ওই মোবাইল নিয়ে কুকুরের ছবি তোলে। কেউ যদি কুকুর নিয়ে কিছু বলতে আসে তবে ওইযে ভিডিও ক্যামেরা করেনা মোবাইল দিয়ে..সেইসব করে কাকে যেন দেখায়..কিছুক্ষণের মধ্যে বেশ শক্তপোক্ত লোকেরা এসে ধমক-ফমক দিয়ে যে বা যিনি কুকুরের নামে কিছু বলে..তাদের অবস্থা খারাপ করে দেয়।

 - বলো কি?
দাদু।

  - আমি কি আর সাধে..চুপচাপ বসে থাকি। তুইও চুপচাপ থাক সব খেল দেখতে থাক।

** দুই মাস পর কোনো এক রৌদ্রময় দিনে **

  ননি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে..হঠাৎ তার বান্ধবীর সাথে দেখা।

 - কেমন আছিস রে ননি? তোর সে গলুমলু কুকুরটা কই? কুকুর-টা কেমন আছে রে?

ননি - আরে আর বলিস না..ওকে আমি রাস্তায় ছেড়ে দিয়েছি। ওহ খালি ডাকতো..কথা শুনতো না। ওকে কোনো বিশেষ প্রশিক্ষণ দিলেও আগ্রহ সহকারে মনে রাখেনা।

 - ওহহহ ফেসবুকে তো দেখতাম ঘন্টায় ঘন্টায় লাইভে আসতিস। আর বলতিস এই আমার বাচ্চা খাচ্ছে, এই আমার বাচ্চা পটি করছে, এই আমার বাচ্চা ঘুমোচ্ছে..এই আমার বাচ্চা খেলছে..আর প্রত্যেকবার ক্যাপশনে লিখতিস..দেশী পুষুন, দেশী হয়েও বিদেশী পোষে যেইজন সেইজন কে দেখিতে পারেনা ননির এই সাধাসিধে মন। আমিতো তোর কুকুরের প্রতি ভালোবাসা দেখে পাগল হয়ে যেতাম..ভাবতাম আমার যদি একটা কুকুর থাকতো।

ননি - হ্যাঁ সেইসব এখন অতীত। ৭-৮ দিন আগে ওকে ছেড়ে দিয়ে এসেছি। 

  - কিন্তু তোর মতোন একজন এতো বড়ো কুকুরপ্রেমী এই কাজটা করেছে শুনলে সোশ্যাল মিডিয়া তোলপাড় হয়ে যাবে।

ননি - আরে ননি, এতো কাঁচা কাজ করেনা। আমি যখন বুঝলাম আমার দ্বারা আর কুকুর পোষা হবেনা, তখন ফেসবুকে একটা পোস্ট করলাম..আমার বাড়িতে রোজ ১০০ টা কুকুর আসে, আমি ওদের রোজ খাবার দিই..এই কুকুরটা প্রায় দুইমাস আগে রাস্তা দিয়ে উদ্ধার করি, একটি বিশেষ কারণে ওকে রাখতে পারছিনা। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি যদি ওকে দত্তক নিতেন তাহলে এই শিশুটি একটা ঘর পেতো। আর এই গরীব মেয়েটির মুখে হাসি ফুটতো। 
ব্যস।। আর নীচে লিখেছিলাম adopt deshi..

এতো বড়ো একটা লেখা লিখে পোস্ট করলাম কেউতো ওকে দত্তক নিলোনা উল্টে লাইক,কমেন্টও করলো না।

  - এ ভারী অন্যায়। 
একটাও লাইক,কমেন্ট করলোনা। এটা আর নিতে পারলামনা। তুইতো এর আগে যখনি ওর ছবি পোস্ট করতিস তখনি লাইক,কমেন্ট,শেয়ার ঝুড়ি ভরে ভরে পেতিস। আর এই পোস্টে তোর এতো খারাপ অবস্থা। যাক গিয়ে..তো কুকুরটাকে কোথায় ছাড়লি??

আমি ছাড়িনি, আমার বাবা ছেড়ে দিয়ে এসেছে। জানিস কত সাধ করে ওকে এনেছিলাম..পুরো কুচকুচে কালো। আমাদের বাড়িতে যে তান্ত্রিকটা আসতো..সে একবার গল্প করতে করতে বলেছিলো..কালো কুকুরকে শনিবার,মঙ্গলবার দুপুরে খাওয়ার আগে যদি একটা করে রুটি খাওয়ানো যায়..তাহলে নাকি সংসারে উন্নতি হবে। 

  - আচ্ছা তাই নাকি?
আমিতো শুনেছিলাম কাককে খাওয়ালে গ্রহরাজ খুশী হয়। কারণ কাক নাকি কেতুর বাহন। রোজ ভোরবেলায় খালি পায়ে..ধোঁয়া জামা কাপড় পড়ে..কাক কে বোঁদে খাওয়ালে নাকি সংসারের সব দুঃখ মিটে যায়। 

ননি - কি বলিস?
দ্বারা এই ব্যাপারটা ওই তান্ত্রিককে জিজ্ঞেস করবো।

ওকেতো আমরা রাস্তায় পেয়েছিলাম বেশ গবলু দেখতে ছিলো। আর তাছাড়া ওহ খুব তাড়াতাড়ি বড়ো হয়ে যাচ্ছিলো..ওর বয়স কত আমি সেটাও জানিনা..রাস্তায় যেতে যেতে পেছন করছিলো..আর তান্ত্রিকের কথাটা মনে পড়ে গেছিলো তাই ওকে নিয়ে এসেছিলাম বাড়িতে। আমার অনুমান ওর বয়স ৭-৮ মাসের বেশী হবে।
কিরকম গবলু হয়ে গেছিলো তুই না দেখলে বিশ্বাস করবিনা..ওর এতো জোর যে ওকে আমরা কেউই ধরে রাখতে পারতাম না।

  - হ্যাঁ করিস তো।
তোর থেকে একটা হেব্বী জিনিস জানলাম..প্রয়োগ করে দেখতে হবে। তবে কালো কুকুর যে কই পাই।

ননি - হ্যাঁ তবে কুচকুচে কালো। একটুও সাদা থাকলে চলবেনা।

  - ওরে বাবা..কুচকুচে কালো..ইয়ে মানে ওর দাঁত যদি সাদা হয়..তাহলে কি চলবেনা??

ননি - আরে দাঁত তো সবারই সাদা। না দাঁত সাদা হলে অসুবিধা নেই।

  - এইজন্যেই তো তোকে আমার এতো ভালো লাগে..তুই আমার ডার্লিং আমার সুইটহার্ট। কিন্তু তোর কুকুরটার জন্য আমার ভীষণ মন খারাপ করছে।

ননি - হ্যাঁ রে..আমারও মন খারাপ হয়ে গেলোরে ওর কথা বলতে বলতে। দাঁড়া একটু ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস আপডেট দিই..

#গল্প_হলেও_সত্যিই

" আজ প্রায় অনেকদিন হয়ে গেলো, আমারক প্রিয় লালু আর নেই। আমার আজও মনে পড়ে সেই রাতের কথা..ওইদিন কালুর আগেই আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম..কালু প্রতিদিন আমার আগে বিছানায় গিয়ে শুতো তারপর আমি বিছানায় গিয়ে শুতাম। কিন্তু সেইদিন আমি আগেই শুয়ে পড়েছিলাম বলে..আমার কালু রাগ করে আমাদের বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে..সত্যিই  ওরা কথা বলতে না পারলেও..রাগ,অভিমানের দিক থেকে যেকোনো মানুষকে টেক্কা দিতে পারবে।
আমার কালু..
আই ফিরে আই।

স্ট্যাটাস-টা পোস্ট করার পর।

একটা মনের চাপা দুঃখকে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে লিখলাম।

  - কিন্তু তুই স্ট্যাটাসে লিখেছিস যে, ওহ বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে..কিন্তু ওকেতো তোরা গিয়ে ছেড়ে দিয়ে এসেছিস। যদি এই ব্যাপারটা জানাজানি হয়ে যায় যে..তুই মিথ্যা স্ট্যাটাস লিখেছিস তখন??

ননি - আরে তুই স্ট্যাটাস-টা ভালো করে পড়িস নি?
ক্যাপশনে কি লেখা আছে??

" গল্প হলেও সত্যিই "
পরে কিছু ঝামেলা হলে বলতে পারবো যে এটা একটা গল্প ছিলো..যেটার সাথে বাস্তবের মিল থাকতে পারে..আবার নাও পারে।
আর এখানে তো একবারো আমার নাম উল্লেখ নেই..তবে কালুর নাম উল্লেখ আছে..আর এই দুনিয়ায় কি শুধু আমার কুকুরের নামই কালু ছিলো?

  - বাহ..ননি তোর গোয়েন্দা বুদ্ধি আর তোর স্ট্যাটাস আর অবলাদের প্রতি ভালোবাসা দেখে আমিতো একেবারে মুগ্ধ। তোর জবাব নেইরে।

ননি - হ্যাঁ রে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে রে জানিস ওর ছবি পোস্ট করলেই কত লাইক পেতাম..সেইসব পুরনো দিনগুলো কি করে যে ভুলি। চলি রে..খুব কষ্ট হচ্ছে মনে।

  - হ্যাঁ রে তুই সাবধানে যা।
আমারো মন খারাপ হয়ে গেলোরে।

ননি বাড়ির দিকে এগোতে লাগলো। 



পর্ব - দুই

ননি বাড়ির কিছুটা আগে ননিকে দেখতে পেয়ে সেইযে দাদু আর নাতি..আবারো কথোপকথন শুরু করে দিলো।

বুঝলি..এইবার একটা নাটক দেখার জন্য প্রস্তুত থাক।

  - কেন দাদু?
কি হয়েছে??

দাদু - চুপ করে দেখনা শুধু।

ধীরেধীরে ননি বাড়ির সামনে এসে বাইরের কদরজাটা খুললো। বাড়ির দরজা খুলে ননিতো সাংঘাতিক অবাক হয়ে গেলো..কারণ যে কালুকে তার বাবা ছেড়ে দিয়ে এসেছিলো। সেই কালু তার বাড়ির উঠোনে খেলছে। সবথেকে অবাক করার বিষয় কালুর চেহারাটা একদম ভাঙেনি। একদম মোটাসোটা হয়ে গেছে।

ননি চিৎকার দিয়ে তার মা'কে ডাকলো..মা..ও মা..
ননির মা বাইরে এসে সেও অবাক।

কুকুরটা বাড়ি এলো কিভাবে??

ওরা দুইজনে যতোটা অবাক..তার থেকে বেশী অবাক ননির বাবা..তিনজনে যতোই অবাক হোক না কেন..আমাদের কালু বাবু তখন উঠোনে এদিক-ওদিক দিব্বি ছোটাছুটি করে বেড়াচ্ছে।

তো ওইদিন কালু ননিদের বাড়িতেই ছিলো..ওরা সকলে মিলে ঠিক করলো কুকুরটাকে আবার ছেড়ে দিয়ে আসা হবে। তবে আগে যেখানে ছেড়ে দিয়ে আসা হয়েছিলো সেখানে নয়..তার থেকেও অনেক দুরে।

তো প্ল্যান মাফিক কাজ পরেরদিন অনেক ভোর ভোর কুকুরটাকে ছেড়ে দিয়ে আসে ননির বাবা।

বাড়ির লোক তখন বেজায় স্বস্তিতে। ঠিক বিকেল বেলায় ননির মা যখন বাড়ির বাইরে বেড়োয় মাঠে যাওয়ার জন্য তখন দেখে..কালু বাড়ির বাইরে উঠোনে..ননির মা'কে দেখামাত্র জিভ বের করে..ননির মায়ের দিকে ছুটে আসে।
ননির মা রেগে গিয়ে ননিকে ডাকে।

আর ননির কান ধরে বলে..
কুকুরকে কি ট্রেনিং দিয়েছিস?
বাড়ি ছেড়ে নড়ছেই না।

ননির বাবা তখন কাজ শেরে বাড়ি ফিরছে..গেটের বাইরে সাইকেল দাঁড় করিয়ে গেটটা সবে খুলতে যাবে।

ননির মা চিৎকার করে বলে উঠলো..দাঁড়াও বাড়ি ঢুকবেনা..

কুকুরটাকে কি তুমি বারবার পাড়ার মধ্যেই ছেড়ে আসো? 
যতোবার ছেড়ে আসো ততোবার চলে আসছে।

ননির বাবা কুকুরটার দিকে তাকিয়ে বললো - না..তো এইবার তো আমি অনেক দুরেই ছেড়ে এসেছিলাম..ওহ এতো তাড়াতাড়ি চলে এলো কি করে?

ননির মা - তোমার মুরোদ আমার জানা আছে। এই ব্যাগে কুকুরটাকে ভরো..এবার আমি যাবো তোমার সাথে..এমন জায়গাই ছাড়বো আর জীবনেও আসতে পারবেনা।

কথামতোন কাজ ননির মা ননির বাবার সাইকেলের পেছনে বসলো..ননির মা সাইকেলের পেছনে বসলো..
ননির বাবা সাইকেল চালানো শুরু করলো..একেই তো সারাদিন কিছুই খাইনি..ওপর দিকে এই হাতির মতোন একটা বউ আর সাথে একটা কুকুরকে নিয়ে যাচ্ছে..টেনেটুনে কোনো রকমে ৬-৭ কিলোমিটার পথ এগিয়ে একটা ফাঁকা জঙ্গলের কাছে সাইকেল দাঁড় করালো। কুকুরটিকে ছেড়ে দিয়ে..ননির বাবা ঢিল ছুঁড়ে কুকুরটাকে তাড়িয়ে..দুইজনে তাড়াতাড়ি সাইকেলে উঠে বসলো..কিন্তু কুকুরটা ওদের পেছন পেছন ছুটতে শুরু করলো..
ওরা আবারো কুকুরটাকে তাড়িয়ে দিলো..কিন্তু কুকুরটা আবারো ওদের পেছনে ছুটতে লাগলো..

শেষে বিরক্ত হয়ে..ননির মা..একটা মোটা বাঁশ নিয়ে কুকুরটার গায়ে বেশ সজোরে আঘাত করলো..

কুকুরটা কাঁদতে কাঁদতে পেছন দিকে দৌঁড় দিলো..

ননির মা ও বাবা দুইজনেই এবার স্বস্তির শ্বাস নিলো।
ওরা দুইজন ধীরেধীরে। সাইকেল নিয়ে এগোতে লাগলো..সামনে একটা মেইন রাস্তা। ওই রাস্তা পেরিয়ে কিছু দুর এগোলে ননিদের বাড়ি।।

ননির মা..ননির বাবাকে ভালোমতোন শাসাতে শাসাতে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলো..তাই রাস্তা পেরনোর সময় দুইজনেই একটু অন্যমনস্ক ছিলো। কারণ ননির মা তখন ননির বাবাকে শাসাতে ব্যস্ত ছিলো..আর ননির বাবা তখন ননির মায়ের বকবক থেকে বাঁচার জন্য উপায় খুঁজছিলো। তাই ওদের খেয়াল নেইযে ওরা মেইন রাস্তায় এসে পড়েছে..হঠাৎ একটা সজোরে ধাক্কাতে তারা দুইজনেই পড়ে গেলো..

পেছন ঘুরে ননির বাবা ও ননির মা দেখলো..তাদের প্রিয় কুকুরটা রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে আছে..একটা ছোটোহাতি কিছুদুর এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ালো। তারপর সোজা দ্রুত গতিতে বেড়িয়ে গেলো..সব দেখে দুইয়ে দুইয়ে চার করতে বেশীক্ষণ লাগলোনা ওদের। 

ওরা অন্যমনস্ক হয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলো তখন তাদের বাম পাশ দিয়ে দ্রুত গতিতে একটা ছোটোহাতি আসছিলো..কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে আর কুকুরটির প্রভুর প্রতি ভক্তি ও ভালোবাসার জোরে কুকুরটি পেছন থেকে দৌঁড়ে এসে সজোরে ধাক্কা দিয়ে তাদেরকে সামনের দিকে এগিয়ে দেয়..এবং কুকুরটি ননির মা ও ননির বাবার পরিবর্তে সে নিজেই মৃত্যুকে আপন করে নেয়।

ননির মা ও বাবা দুইজনে দৌঁড়ে গিয়ে কুকুরটাকে ধরে রাস্তার এপাশে নিয়ে আসে..ততোক্ষণে রাস্তায় লোকজন জড়ো হয়ে গেছে..এক প্রফেসর দিদি সেখানে ছিলো তার নাম বর্ষা মিত্র তিনি একজন দক্ষ এনিমেল কমিউনিকেটর।টেলিপ্যাথির মাধ্যমে সে প্রাণীদের মনের কথা বুঝতে পারে। সে নিজের ব্যাগ থেকে জলের বোতল বের করে কুকুরটির মাথায় পরম স্নেহে হাত বুলিয়ে মাথাটা উঁচু করে জল খাওয়াতে থাকে।

জল খেতে খেতে কুকুরটি কেমন হাসফাস করতে থাকে..দিদিও কেমন যেন মরিয়া হয়ে যেতে থাকে।
দিদি এমন এমন ভাবে কুকুরটির সাথে পশুসুলভ আচরণ করছিলো তা দেখে বোঝা যেতে পারে সে কুকুরটির সাথে কথা বলার চেষ্টা করছে। কিংবা কুকুরটির ভাষা বোঝার চেষ্টা করছে।।
একসময়ে সব নিস্তব্ধ। 
কুকুরটির ছটফট করতে থাকা চনমনে দেহটি মাটিতে লুটিয়ে পড়লো।


সকলের চোখে তখন জল । 
ধীরেধীরে আশেপাশের লোকজন ফাঁকা হয়ে গেলো..বর্ষা দিদিও উঠে দাঁড়ালো নিজের মনকে শক্ত করে। 

যাওয়ার আগে ননির বাবা - ও ননির মা বর্ষা দিদিকে জিজ্ঞেস করলো - দিদি
কুকুরটি মরে যাওয়ার আগে ওইরকম করছিলো কেন ?

বর্ষা দিদি - কুকুরটি চলে যাওয়ার আগে ওর হাবভাব, আচরণ দেখে যা বুঝলাম ওহ বলে গেলো..আমার বাড়িরলোক যেন ভালো থাকে। দিদি নিজের চোখের জল মুছে এগিয়ে যেতে লাগলো। 

ননির বাবা ও ননির মা তখন রাস্তায় বসেছিলো কালুর নিথর দেহটার উপর একটা মাছি ভনভন করতে করতে কালুকে কেন্দ্র করে ঘুরতে লাগলো।

ননির মা ও ননির বাবার দুইজনের চোখেই তখন জল।


আলোচ্যে গল্পটি শুধুই কি একটা গল্প? দয়া করে কেউ সখের বসে কুকুর বিড়াল পুষতে যাবেননা। কারণ আপনি হয়তো নিজের সখ নিবারণ করার জন্য ওদের বাড়িতে আনছেন, কিন্তু ওরা আপনাকে নিজের দুনিয়া বানিয়ে নেবে।

লেখা উপস্থাপনায় - Silient talks of midnight animals.. 

গল্পটার সাথে বাস্তবের কোনো মিল নেই।

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২০

অক্টোবর ৩০, ২০২০

পাকু চক্রবর্তীর গল্পের দেশে। Ankita Maitra।


রাতের বেলায় পাতকুয়োর ভেতরে পড়ে গেছিলো পাকুরানী নামের এক বিড়ালসোনা।পাকুর বাবা পাতকুয়োর ভেতরে একটা দড়ি দিয়ে পেঁচানো বালতি ফেলে দিয়ে..উপর থেকে বললো..উঠে আয় পাকু..তারপর কি হলো..?


হেই বন্ধুরা আমাদের জীবনে এমন কিছু মুহুর্ত আসে যেই মুহুর্ত কে আমরা বারবার উপভোগ করতে চাই। এই যেমন ছেলেবেলা, স্কুলজীবন।
ছেলেবেলা সত্যিই আমাদের অপূর্ব ছিলো। সেই সুন্দর মুহুর্ত আমাদের স্মৃতির প্রতিটা কোণায় গাঁথা আছে। মাঝেমধ্যে আমরা একবারের জন্য হলেও মনে মনে চিন্তা করি।। ইসস ছেলেবেলাটাকে যদি আবারো ফিরে পেতাম। আমাদের Silient talks of midnight animals ফেসবুক পেজে আপনাকে জানাই স্বাগতম। যেখানে আমরা সকলের ভালোলাগা,ভালোবাসা টাকে অন্যভাবে গল্পের চাঁদরে মুড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা করি। যাতে অবলাপশুদের উপর অত্যাচার কম হয়। আমরা ভালোবাসি অবলাদের, ভালোবাসি সাহিত্যেকে। ভালোবাসি ভাষাকে। 


আজ আমি আপনাদের হাওড়ার অঙ্কিতার বাড়ির ছোটো সদস্য, পাকুরানী চক্রবর্তীর একটা ছোটো গল্প শোনাবো। পাকুর মা'য়ের কাছে আমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি..আমাদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও ছবি দিয়ে শেয়ার করার জন্য। গল্পটি জানিনা আপনারা কতটা উপভোগ করবেন..তবে চেষ্টা করবেন একটু মন দিয়ে গল্পের ঘটনা গুলোকে অনুভব করার। তাহলে আপনি পাকুদের বাড়ির প্রতিটা মুহুর্ত উপলব্ধি করতে পারবেন। তো আসুন আমাদের গল্পের দুনিয়ায়..আমি আপনাদের স্বাগতম জানালাম..এক মা ও তার মেয়ের এক ভালোবাসা ভরা দুনিয়ায়।


পাকু অঙ্কিতার বাপের বাড়িতেই জন্ম নিয়েছিলো ২০২০ সালের সম্ভবত জানুয়ারি কিংবা ফেব্রুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে। মার্চ মাস থেকে লকডাউন পরে যাওয়ায় তিনি বাপের বাড়িতেই আটকে গেছিলেন। তখন থেকেই গল্পের মোড় অন্যদিকে এগোতে থাকে। 

পাকু সে তার মা'কে প্রচন্ড ভালোবাসে। মায়ের লক্ষী মেয়ে যাকে বলে। সকালে খাওয়ার হিসেবে পাকু সোনা ম্যাগি,দুধ বিস্কুট ( মেরি বিস্কুট ) এবং আমুল দুধ খায়।
আমাদের পাকু সোনা কিন্তু আর পাঁচটা থেকে আলাদা। তাকে যখন মাঝেমধ্যে চিকেন খেতে দেওয়া হয় তখন সে কোনো এক অজানা ভাষার গান খুশির মেজাজে গাইতে থাকে, এই হচ্ছে গানের একটা লাইন। " amna namna na "
যখন পাকুকে রাগানোর জন্য পাকুর পাতের থেকে চিকেন-টা তুলে নেওয়া হয় তখন পাকুর করুণ মুখের দিকে তাকালে যেন মনে হয় এই বুঝি ঝগড়া লাগলো বলে।  

ছবি - পাকুর সাথে পাকুুর মা ও বাবা

তবে সেই রাগ সাময়িক। পাকুর যখন আনন্দ হয় তখন সে..মশার মতোন গুনগুন করে..আর এইপ্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে ছুঁটে বেড়ায়।

খুশির মেজাজে কখনো সে অঙ্কিতার মায়ের শাড়ির আচল টেনে বেড়ায় কিংবা অঙ্কিতার বাড়ির বাকি লোকজন্দের জামা কাপড় যাই পারে টান দিয়ে খেলা করার চেষ্টা করে।

পাকুর যখন আদর খাওয়ার ইচ্ছে হয় তখন সে মাটিতে গড়াগড়ি খায়। মানে বাবুকে কোলে তুলে আদর করে।

পাকু সোনা বল নিয়ে খেলতে খুব ভালোবাসে। বিশেষ গুণ বলতে পাকু মাঝেমধ্যে মানুষের মতোন হাত দিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করতে থাকে। কিন্তু খারাপ লাগার বিষয় এই যে..পাকুর হাতে খাওয়ার ওঠেনা। খাওয়ার সময়ের বিশেষ কোনো নিয়মাবলী নেই। বাবা মায়ের সাথেই পাকু খেতে বসে, আলাদা কোনো খাবার সময় নেই। তবে হ্যাঁ খাওয়ার আগে হাত দিয়ে মাঝেমধ্যে যাচাই করে নেয় খাওয়ার গরম নাকি ঠান্ডা।
ছবিতে যেই চেয়ারটি দেখছেন সেটি পাকুর প্রিয় চেয়ার।

পাকু তার মায়ের শরীর খারাপ হলে কিছুটা হলেও বুঝতে পারে, সে তার মায়ের মাথার কাছে এসে ডাকে। মানে সে বলতে চাইছে কি হয়েছে তোমার?

পাকুর মা, পাকুকে তার মনের কথা যখন বলে তখন সে চুপ করে শোনে।

বাড়ির মধ্যে আরশোলা,ইঁদুর, পিঁপড়ে, টিকটিকি যাই দেখুক না কেন বাবু ওদের ধরে খেলা শুরু করে দেয়। তখন অবশ্য ওদের অনেকেই ভয়ে মারা যায়।

একটা ঘটনা শেয়ার করি তাহলে..
একবার পাকু টিকটিকি খেয়ে নিয়েছিলো। পাকুর মা তখন খুব দুশ্চিন্তা করছিলেন কারণ টিকটিকি খুবই বিষাক্ত। তখন তিনি এক ভেট কে জানায় ভেট তাদের কিছু মেডিসিন বলে। তবে সেই মেডিসিনের আর দরকার পড়েনি..কিছুক্ষণ পর পাকু বমি করে সব বের করে দিয়ে
পাশের পাঁচিলে উঠে বসলো। কিছুক্ষণ পর সে ঘাস খেয়ে আবার স্বাভাবিক হয়ে গেলো। বাবু পুরো ফিট্। 

পাকুর গায়ে কালো দাগ গুলী হৃদয়ের আকারের সেটি আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন। পাকুর যাতে নজর না লাগে সেজন্য পাকুর মা পাকুকে কাজলের টিকা পড়িয়ে দেন।

ছবিতে যেই টুলটি দেখছেন এটি পাকুর অন্য একটি প্রিয় টুল।

পাকুর জীবনে একটি স্মরণীয় ঘটনা, জুলাই মাসের একদিন খুব ঝড় বৃষ্টি হচ্ছিলো,পাকু খেলতে খেলতে বাড়ি থেকে দুপুরে বেড়িয়ে যায়। ঝড় বৃষ্টিতে বাড়ির দরজা জানলা বন্ধ ছিলো। পাকুর মা দুশিন্তা করলেও তিনি ভেবেছিলেন পাকু হয়তো কোনো ছাওনির তলায় আছে,ঝড়বৃষ্টি থামলে এমনি চলে আসবে। কিন্তু পাকু বাড়িতে না আসায় তার মা..এদিকওদিক খুঁজতে বেড়িয়ে যায়..পাকুর নাম ধরে ডাকতে থাকে  কিন্তু কোনো সাড়া পায়না। 

সেইদিন রাত দশটার সময় অঙ্কিতার বোন সেদিন ওই বাড়িতে যায়। তিনি কথায় কথায় বলেন যে..কোথা থেকে একটা বিড়ালের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। 

তখন একটু ধাতস্থ হয়ে অঙ্কিতা বোঝার চেষ্টা করে আওয়াজটা কোথা থেকে আসছে। এদিকে অঙ্কিতার বর বাড়িতে একটু দেরী করে ফিরেছিলো সেইদিন। তিনিও অঙ্কিতার সাথে আশেপাশে খুঁজতে থাকে। তখন তারা খুঁজতে খুঁজতে উপলব্ধি করতে পারে এই আওয়াজ তাদের বাড়ির পেছন দিকের পাতকুয়োর মধ্যে থেকে আসছে। তারা দুইজনে সেখানে গিয়ে দেখে পাকু পাতকুয়োর ভেতরে পড়ে গেছে। তারা যতোবার নাম ধরে ডাকছিলো পাকু সাড়া দিচ্ছিলো। তখন সেইরকম অবস্থায় তাদের মাথায় কিছুই আসছিলোনা। তারা তখন কি করে ওকে বাঁচাবে। তখন ওই কুয়োর ভেতরে একটা বালতিকে পুরনো দড়ি দিয়ে বেঁধে পাকুর বাবা কুয়োর ভেতরে ফেলে দেয়। এবং পাকুর নাম ধরে ডাকতে থাকে। বেশ কিছুবার প্রচেষ্টা ও ভাগ্যের জোড় থাকায়..পাকুও বালতির ভেতরে উঠে পড়ে। হ্যাঁ বন্ধুরা আপনাদের কাছে এটি গল্প মনে হতে পারে তবে তখন সেই মুহুর্তে অঙ্কিতা ও তার বরের পক্ষে কতটা যে ভয়ঙ্কর ছিলো সেটা কেবল তারাই জানে। পাকুর জায়গাই অন্য কোনো বিড়াল হলে ভয় পেতো..তবে পাকুকে তার মা বাবা যেমনভাবেই হোক সুরক্ষিত ভাবে উপরে তুলতে 
চাইছিলেন। পাকুর বুদ্ধিকেও স্যালুট দিতে হয়। সে খুবি সাহসী ও বুদ্ধিমতী। 


পাকুর মা বলে, অনেকেই বিড়ালের নখ কেটে দেন। তবে তিনি এই বিষয়ে বলেন যে..এটা মোটেও উচিৎ কাজ নয়। কারণ তাদের নিরাপত্তার জন্য ওটি বিশেষ জরুরী। 

পাকু সকলের কাছে যায়না। ও খুব মানুষ চেনে। নিজের পিছন্দের ব্যক্তির কাছেই যায়। ওর অভিমান হলে চুপ করে বসে থাকে..বেশী রাগ হলে ও বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায়। তখন পাকুকে অনেক আদর করতে হয়,বেশীবেশী করে ভালোবাসতে হয়।

খুববেশীদিন না..পাকু তার বয়ফ্রেন্ড কে তার মায়ের কাছে নিয়ে যায়। তবে বিড়ালটি সারা ঘরে বাথরুম করতো..এটা স্বাভাবিক, বিড়ালরা এটি করেই থাকে।

পাকুর বাবা যখন বাড়িতে আসে..একদিন পাকুর মা তার বর মানে পাকুর বাবাকে জানায় পুরো ব্যাপারটা। সবশুনে পাকুর বাবা পাকুকে একটু বকে আর কানমুলে দেয়।

সেইরাগে পাকু একদিনের জন্য বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায়।

আমাদের পাকু সোনা ঠাকুরের সিংহাসনে উঠে বসে থাকে মাঝেমধ্যে। একবার সে ঠাকুরের সিংহাসনে উঠে সিঁদুর মেখে লাল হয়ে যায়। পাকুর গায়ের রঙ দেখে পাকুর মা..তো ভয় পেয়ে যায়..সে ভাবে হয় পাকুর কিছু হয়েছে নাহলে শিকার করেছে..পরে তার মা ঠাকুর ঘরে গিয়ে বুঝতে পারলো পাকুর কুকীর্তির কথা।


পাকুর দুটো জায়গা খুব প্রিয়। সে ওই দুটো জায়গার ভাগ কাউকে দিতে চায়না। এক হচ্ছে তার প্রিয় টুল, অন্যটা হচ্ছে তার প্রিয় চেয়ার। যদি এই দুটোর মধ্যে কোনোটা কেউ দখল করে নেয়..ব্যস পাকুর চেঁচামেচি করে ওখান থেকে নামিয়ে দেয় তাদের।

পাকুর হাতের সামনে যেই জিনিস-টাই থাকুক না কেন..সোনার সবকিছুই চাই। যদি চেয়ার বা টুলের উপর সেই জিনিস-টা থাকে তাহলে তো কথাই নেই। 
পাকু মাঝেমধ্যে আলনা ও আলমারির মাথায় উঠে টেডি বিয়ার দের সাথে বসে থাকবে। তখন পাকুকে ডকলে সাড়া দেয়না।

পাকুর সদ্য প্রেম বিচ্ছেদ হয়েছে। হয়েছে নয় করেছে..বাবার ভয়ে। পাকুর বাবা সেই হুলো বিড়ালটিকে বকেছে আর বলেছে বাড়িতে এলে ঠ্যাং খোড়া করে দেবে।

বেচারি পাকু সোনাকে নিয়ে অঙ্কিতা ও তার মা একটা কাল্পনিক গান বানিয়েছেন।

" বাড়িতে ঢুকলেই ঠ্যাং খোড়া করে দেবো, বলেছে তোমার বাবাটা। অন্য বাড়ীতে আমি যাচ্ছি তাই। পাকুমানা আমি আর আসবো না..এখানে পাকুমানা আমি আর আসবোনা "

এই গানটি মজার উদ্দেশ্য নির্মিত্ত..কাউকে অসম্মান কিংবা ছোটো করার উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার হয়নি।

পাকুর মা ও পাকু দুইজনে দুইজনকে প্রচন্ড ভালোবাসে। তাদের ভালোবাসার বন্ধন টা যেমন একজন সন্তানের সাথে তার মায়ের যে বন্ধন ঠিক সেইরকম। পাকুর মা ও পাকুর বাবা দুইজনেই পাকুর প্রচন্ড খেয়াল রাখে। পাকু বিড়াল হয়েও সে তার মায়ের প্রতি এক সন্তানের যে দায়িত্ব সেটি মানুষের মতোন যথাযথ পালন না করতে পারলেও..পাকু নিজের থেকে যতোটা সম্ভব তার বাবা ও মা কে ভালোবাসায় ভরিয়ে দেয়। পাকুর মা ও বাবা সন্তানস্নেহে ও ভালোবাসায় পাকুকে বড়ো করে তুলছে।  


তো বন্ধুরা এই হলো পাকুর জীবনের একটা ছোটো কাহিনী, যেটাকে গল্পের চাঁদরে ঢেকে দিয়েছি আমরা। তোমরা সকলে পাকু এবং তার মা-বাবা ও বাড়ির সবাইকে আশীর্বাদ করো যাতে ওরা ভালো থাকে।


উপরের গল্প রুপী ঘটনাটি ও চিত্রগুলো আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন - Ankita Maitra 

আর তথ্যসূত্র নিয়ে গল্পটি পরিবেশন করেছে - Silient talks of midnight animals

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০

অক্টোবর ২৯, ২০২০

ছোটো সোনা মুনিয়া। Anuradha Patel।


ছবি ও তথ্যসূত্র - Anuradha Patel
 উপস্থাপনায় - Silient Talks Of Midnight Animals      

হেই বন্ধুরা ধরুন একজন আপনাকে অনেক উৎসাহ নিয়ে কোনো কথা বলা শুরু করলো..আর আপনি তখন তাকে বললেন হ্যাঁ আমি তো এইকথাটা জানিই। সেইসময় যিনি আপনাকে কথাটা বলছিলেন তার মনের অবস্থাটা শুধুমাত্র তিনি ছাড়া আর কেউই সেটা উপলব্ধি করতে পারবেনা। আসলে আমাদের জীবনে কিছু কিছু ঘটনা থাকে যেগুলোকে আমরা সহজেই এড়িয়ে যাই। অথচ আজ যদি আপনি তার কথাটা একটু মন দিয়ে শুনতেন তাহলে হয়তো আপনার জানা কথার মধ্যেও একটা রহস্যজনক গন্ধ পেতেন। 

আমাদের রোজকার জীবনটা সত্যিই খুব সুন্দর হয়ে উঠতো যদি আমরা দোষ না খুঁজে কারুর মন খুঁজতাম, কারুর টাকা পয়সা না খুঁজে তার বন্ধুত্ব খুঁজতাম, কাউকে কষ্ট না দিয়ে বুকে টেনে নিতাম। আমাদের নেওয়া একটা ছোটো সিদ্ধান্ত আমাদের মনের মধ্যে একটা চাপ সৃষ্টি করে..সেটার ভার আমরা পরে গিয়ে উপলব্ধি করতে পারি।

ভেবে দেখুন, একদিকে একশো কেজি ওজনের এক ব্যাগ ভরতি খুচরো টাকা, আবার অন্যদিকে ১০০ কেজি ওজনের এক ব্যাগ ভরতি পালক।
 এখন আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, এখানে সবথেকে ভারী ব্যাগ কোনটি?
আপনি উত্তর দিলেন 
- নিশ্চয়ই ওই খুচরো টাকার ব্যাগটি।

না বন্ধুরা উত্তর হবে দুটো ব্যাগের ওজনই সমান।
( সকলেই যে উপরের প্রশ্নটার ভুল উত্তর দেবে সেটা নয়। ) 

কিছু সময় আমাদের কাছে সত্যিই অনেক মূল্যবান। যেগুলো জীবনের ইতিহাসের ভেলায় কাগজের নৌকা হয়ে ভাসমান অবস্থায় থাকে। 

আজ আমি আপনাদের দমদম থেকে অনুরাধা পাটেলর নামের এক মায়ের দুষ্টু ছেলে মুনিয়ার গল্প। হ্যাঁ মুনিয়া। আসলে মুনিয়া যখন ছোটো ছিলো তখনি তার নাম মুনিয়া রাখা হয়েছিলো। মুনিয়ার বাড়ির সকলে ভেবেছিলো মেয়েই হবে। কিন্তু ধীরেধীরে যখন মুনিয়া বড়ো হলো তখন তারা বুঝলো মুনিয়া আসলে মেয়ে নয় ছেলে। তাই নামটা আর পরিবর্তন হয়নি।


মুনিয়ার ২০১৭ সালের জুন মাসের কোনো এক তারিখে জন্ম। অন্যসব বিড়ালদের থেকে মুনিয়ার ব্যাপারটা একটুখানি আলাদা।

দুষ্টুমির থেকেও তার সবভেয়ে বেশী প্রিয় চিকেন কষা। হ্যাঁ সেই চিকেন..মুনিয়া ছোটো থেকেই তার মায়ের খুব কথা শোনে। তবে মুনিয়া সোনা দুষ্টু হলেও সে তার মাকে প্রচন্ড ভালোবাসে। 


মুনিয়া সোনা রেগে গেলে..ওর রাগ ভাঙাতে তখন মুনিয়ার মা'কে কোলে তুলে নিয়ে বলতে হয়। তুমি আমার হিরে..তুমি আমার মানিক। তুমি আমার সবথেকে দামি জিনিস। তুমি আমার সোনা ছেলে রাগ করেনা বাবু।


আমাদের মুনিয়া কিন্তু আজ অবধি চুরি করে কিছু খাইনি। 
বাবুর খিদে পেলে..সে কিন্তু তার মায়ের কাছে গিয়ে নালিশ জানায়..তার ছোটো মাথাটা মায়ের পায়ের সামনে নিয়ে গিয়ে
 গুটো দেয়..আর সেই গুতোর আঘাতে অভ্যস্ত অনুরাধা বুঝে যায় যে তার বাচ্চার খাবারের সময় হয়ে গেছে।



আসলে ভালোবাসাটাই সব৷
ভালোবাসা দিয়ে অনেক কিছু জয় করা সম্ভব। আমরা শুধু ব্যস্ততা নামক চাদরে নিজেদের মুড়ে রাখি। যেদিন এই ব্যস্ততার চাদর খুলে দেবো সেইদিন আমরা প্রতিটা ছোটো ছোটো আনান্দগুলোর বিন্ধু বিন্দু উপভোগ করতে পারবো।

বন্ধুরা আমাদের উদ্দেশ্যে বিড়াল কুকুরের প্রতি মানুষের ভালোবাসা গুলো একটু অন্যভাবে প্রকাশ করানো। যাতে একটু হলেও ওদের উপর যারা অত্যাচার করে..তাদের বিবেকে আমাদের এই গল্প গুলো গেঁথে তাদের মধ্যে মনুষ্যত্ব, ও অবলাপ্রাণীদের প্রতি ভালোবাসা জন্ম নেয়। জানিনা এইভাবে গল্পের মাধ্যমে আমরা কতটুকু ভালোবাসা বোঝাতে পারি। তবে আমাদের বিশ্বাস একদিন অবলাপ্রাণীদের মর্ম ও উপকারিতা, তাদের বন্ধু সুলভ আচরণ, মানুষের প্রতি ভালোবাসা, তাদের মতোন বন্ধু শত্রুকে সহজে চিনে নেওয়ার ক্ষমতার গুরুত্ব সবাই একদিন উপলব্ধি করতে পারবে।

বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২০

অক্টোবর ২৮, ২০২০

মৌমিতা ও পেটুকসোনার গল্প। Moumita Dhar।

ছবি - Moumita Dhar

হেই বন্ধুরা মাঝেমধ্যে আমরা সকলেই খুব তাড়াতাড়ি রেগে যাই। একটা ভালো কথা মুখ বাঁকিয়ে উত্তর দিই। হ্যাঁ কোনো সময় এর কারণ হয়ে থাকে মন খারাপ আবার কিছু পুরনো স্মৃতি যেগুলো খালি ভাবনার রাজ্যে নিয়ে যায় আবার হতে পারে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা আমাদের এই রাগের কারণ। এই রাগ,হিংসা আমাদের পক্ষে যে কতটা ক্ষতিকর হতে পারে এটা আমরা পরে বুঝতে পারি। সকলে শুধু রাগটাকেই বড়ো করে দেখে। আমরা যদি এই ছোটো ছোটো রাগ গুলোকে ঝেড়ে ফেলে দিতে পারি তাহলে বড়ো ধরনের একটা ক্ষয়ক্ষতির হাত দিয়ে আমরা বেঁচে যাবো। হাজার হোক রাগ করলে আর যাই হোক সমস্যার সমাধান হয়না। বরং সমস্যা আরও বাড়ে। আমাদের সকলকেই দরকার। কারণ আমাদের একটাই পরিচয় আমরা মানুষ। এইসব রাগ,হিংসা জীবনের পথে একটা বাধা যাকিনা সুখের রাস্তা জ্বালিয়ে দেওয়ার কাজে  ব্যবহার হয়। তবে আপনারা এখন গল্পের দুনিয়ায় প্রবেশ করতে চলেছেন তাই এখুনি মনের যতো রাগ,অভিমান আছে সেগুলি দুর করে ফেলুন তো দাদা-দিদিরা।

আমাদের Silient Talks Of Midnight Animals ফেসবুক পেজের গল্পের দুনিয়ায় আপনাকে জানাই স্বাগতম। 

আজ আপনারা যেই গল্পটি পড়তে চলেছেন সেটির শুরুটা ঠিক দুইবছর আগে।
২০১৮ সালের মার্চ মাসে..নিউ ব্যারাকপুরের আশেপাশের কোনো এক জায়গাই সদ্য জন্ম নেয় পেটুক নামের একটি মেয়ে বিড়ালের।

আলোচ্যে গল্পটির যাবতীয় তথ্য ও ছবি আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন - Moumita Dhar

উপস্থাপনায় - Silient Talks Of Midnight Animals.. 


যেইদিন আমাদের পেটুক সোনা ভুমিষ্ঠ হয়েছিলো ওইদিন কোনো কারন বশত মৌমিতা বাড়িতে ছিলোনা। পরে তিনি যখন বাড়ি ফেরে তখন সে তার মা ও বাবার কাছে এই ব্যাপারটি শুনেছে। সেইদিন খুব বৃষ্টি পড়ছিলো। যেই বিড়ালের সন্তান আমাদের পেটুক রানী। সেই বিড়ালটির প্রথম সন্তান ছিলো পেটুক। বাচ্চাটি কোথায় দিয়েছিলো সে সেটি কেউ ঠিকমতো বলতে পারেনি। তবে মৌমিতার বাড়ির গেটের সামনে বাচ্চাটির মা তার সন্তানকে ফেলে দিয়ে কোথায় যেন চলে যায়। তো মৌমিতার মা ওই বাচ্চাটিকে ঘরে নিয়ে আসে। বাচ্চাটিকে মুছিয়ে একটা গরম জায়গাই রেখে দিয়েছিলো। কিন্তু বৃষ্টি থামতেই বাচ্চাটির মা সেই গেটের সামনে এসে খুব কান্নাকাটি করতে থাকে..নিজের বাচ্চাকে না দেখতে পেয়ে। তখন মৌমিতার মা আমাদের পেটুকরানী কে তুলে দেয় তার মায়ের হাতে। আর ওর মা তার সন্তানকে নিয়ে চলে যায়।


পরের দিন,

মৌমিতার চোখে পড়ে সেই বাচ্চাটিকে মানে আমাদের পেটুকরানীকে। পেটুকের মা পেটুককে আবারো মুখে করে সেই বাড়িতে নিয়ে আসে। পেটুকের গায়ের একটুও লোম ছিলোনা, তার শরীরের পুরো লাল চামড়াটা দেখা যাচ্ছিলো..সেই দৃশ্য মৌমিতার গায়ের লোম কে দাক্বড় করিয়ে দেয়।

এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই পেটুকের মা পেটুককে মৌমিতার বাড়িতে নিয়ে আসতো। একদিন সন্ধ্যাবেলায় মৌমিতা একটু অন্যমনস্ক ছিলো, তখন পেটুকের মা পেটুককে নিয়ে আসে মৌমিতাদের বাড়িতে। তারা দুইজনেই খেলছিলো। খেলতে খেলতে পেটুকের মা একটু বেখেয়াল হয়ে যায়। ঠিক তখনি কোথা থেকে একটা বড়ো ইঁদুর এসে পেটুলের লেজ ধরে টানতে টানতে নিয়ে যায়। ওর মা যখন বুঝতে পারে যে তার সন্তানকে কেউ নিয়ে যাচ্ছে তখন সে চিৎকার করে উঠে। সেই চিৎকার শুনে মৌমিতা বাইরে যায় এবং সেই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে..তবে ইঁদুরটি তখন পালিয়ে গিয়েছিলো। পেটুকের মা তখন জোড়ে জোড়ে কাঁদছিলো। আর পেটুক ভয়ে চুপ করে এক জায়গায় বসে আছে। পেটুকের লেজের গোড়ায় লেগে আছে রক্ত। মৌমিতা বিড়ালছানাটিকে ঘরে নিয়ে আসে। ব্যস তারপর থেকে আর কখনো সে তার পেটুককে পেটুকের মায়ের কাছে তুলে দেয়নি। পেটুক তখন একটা নতুন ঘর পেলো, সাথে পেলো একটা নতুন পরিবার।


পেটুককে দেখতে না পেয়ে পেটুকের মা যখন খুব কান্নাকাটি করতো। তখন পেটুকের মা'কে ধরে এনে বারান্দায় আটকে রেখে পেটুককে তার মায়ের কাছে দিয়ে দিতো। ওখানে পেটুকের মা পেটুককে দুধ খাওয়াতো, আর আদর করতো। যাই হয়ে যাক না কেন..পেটুকের মায়ের কাছে পেটুককে কখনোই একা ছাড়তো না..আর পেটুকের মা যাতে পেটুককে না নিয়ে যেতে পারে সেইদিকেও লক্ষ্য রাখতো।
পেটুককে আদর করানো হোক, কিংবা খেলা করা সিব মৌমিতার বাড়িতেই হতো। একসময় যখন মোহ কাটতে থাকে তখন পেটুকের মা আস্তে আস্তে করে ওইবাড়িতে আসা বন্ধ করে দিলো। শুধু পরে থাকলো তার সন্তান। শুরু হলো একটা নতুন জীবনের গল্প। পেটুকরানীর গল্প।

মৌমিতার বাড়ির একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হলো পেটুক। যখনি মৌমিতার কোনো আত্মীয়স্বজন ফোন করতো তারা আগে পেটুকের খবর নিতো। পেটুকসোনা ছোটোবেলায় খুব খেতে ভালোবাসতো। ঘুমাতো খুব কম। সবসময়ই মুখ চলতে থাকতো পেটুকের। তাই এই নাম। মৌমিতার পাশের বাড়ির এক প্রতিবেশী আমাদের নাদুসনুদুস পেটুকের আরও একটা নাম দিয়েছিলেন..তারা ভালোবেসে টেপি বলে ডাকতেন।



পেটুকের যতো আদর তার দিদি মৌমিতার কাছে। পেটুক এসে মৌমিতার নাকে চুমু দেয়, কখনো পায়ের আঙুল কামড়ে কিংবা হাতের আঙুল মুখে নিয়ে বোঝাতে চাইতো যে, আমাকে এখন আদর করো।

মৌমিতা যাই খাবার খাক না কেন..পেটুক মৌমিতার সামনে এসে আস্তে আস্তে মুখ নাড়াবে..মানে খাবার-টার ভাগ আমাকেও দাও।

ওর প্রিয় খাবার মিষ্টি।
বাড়িতে পূজো দেওয়ার সময় মৌমিতার মায়ের পাশে চুপ করে বসে থাকবে। মিষ্টির জন্য। ও জানে যে, মৌমিতার মা পূজো হয়ে গেলে ঠিক মিষ্টি দেবে।


আমাদের পেটুকরানীর রাগ ভাঙানোর জন্য হয় গুঁড়ো দুধ নাহয় মিষ্টি দিতেই হবে। নাহলে রাগ কমেনা।

মৌমিতার বাবা যেইদিন বাজারে যায়না সেইদিন পেটুক ঠিক বুঝে যায়। তখন পেটুক মৌমিতার বাবার পা টেনে ধরবে আর নাহলে পায়ে,হাতে মাথা দিয়ে আদর করে বোঝাতে চাইছে যে এখন বাজারে যাও। এটা একপ্রকার ঘুষ যেটার মাধ্যমে  পেটুক মৌমিতার বাবাকে বোঝাতে চাইছে এইবার বাজারে যাও।

বাবা যখন বাজারে যাবে তখন পেটুক গেট অবধি সে তার বাবাকে এগিয়ে দেবে, তখন সে গেটের আশেপাশেই অপেক্ষা করে..কখন মৌমিতার বাবা বাজার থেকে মাছ নিয়ে আসবে।


মৌমিতার বাবা যখন খেতেবসে..তখন পেটুক ও ওখানে বসে থাকে কারন সে জানে ওখানে বসে থাকলে কিছুনা কিছু সে পাবেই।

আমাদের এই ছোটো পেটুক মৌমিতার ছোটো বনের মতোন। মৌমিতা যাই করুক, যেই জিনিসটাই দেখুক তা সে ফুল হোক কিংবা অন্যকিছু সেইসব কিছুর-ই খুঁটিয়ে দেখে পেটুকরানী। পেটুকরানীর একটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো তার দিদি মৌমিতাকে সকালে ঘুম থেকে উঠিয়ে দেয়। তা সে চুমুর মাধ্যমে হোক কিংবা হাল্কা সুরে ডেকে। তবে এমনি এমনি নয়। সেইসময় পেটুককে চটকে চটকে আদর করতে হয়।


একবার মৌমিতা দুইদিন বাড়ি ছিলোনা সেইসময় পেটুক মৌমিতার বাবার সাথে ঘুমিয়েভহিলো। তো ওইদুইদিন রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠে মৌমিতার খাটের দিকে মাথা উঁচু করে দেখতো মৌমিতা আছে কি না। মৌমিতাকে না পেয়ে পেটুক মৌমিতার মায়ের কাছে গিয়ে ডাকতো।


ছবিতে যেই গোলাপফুলটা দেখছেন ওটা আগে মৌমিতার হাতে ছিলো। মৌমিতার সব জিনিস-ই পেটুকের পছন্দ তাইতো যখন মৌমিতা গোলাপফুলটা পেটুকের দিকে বাড়িয়ে দিলো..তখন পেটুক বুড়ো আঙুল দিয়ে ফুলটা ধরলো। আর ফুলের গন্ধ শুকে একভানে ফুলটার দিকে তাকিয়ে বুঝতে চেষ্টা করলো জিনিস-টা কি।


তো এটাই ছিলো আমাদের পেটুক সোনার গল্প। আমাদের আজকের গল্পটা কেমন লাগলো সেটা অবশ্যই জানাবেন।

বন্ধুরা আমাদের উদ্দেশ্যে সকলের মাঝে ভালোবাসা পৌঁছে দেওয়া যাতে একটু হলেও বিড়াল কুকুরের উপর অত্যাচার কম হয়। ওদের ও বাঁচার অধিকার আছে। আমরা মাঝেমধ্যে কোনো না কোনো ভাবে যারা বিড়াল কুকুর পোষে তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করি। এর মূলত অনেক কারণ আছে..এই যেমন ধরুন কারুর বাড়ির সামনে যদি অন্য কুকুরে এসে পায়খানা করে গেলো..তো সেক্ষেত্রে দোষ পড়বে পাশের বাড়ির কুকুরটার উপর। আবার এও ধরুন পাশের পাড়া থেকে একটা বিড়াল এসে এপাড়ার কারুর বাড়ি থেকে মাছ নিয়ে গেলো..তো এক্ষেত্রেও দোষটা সেই বিড়ালপ্রেমীদের বিড়ালের উপর পড়বেই। এছাড়া অনেকে বলে বিড়াল কুকুর ডাকা অমঙ্গল।

পায়খানা,বাথরুম,ডাক এগুলো স্বাভাবিক জিনিস। মানছি সবসময় উপরের কারণ গুলোর মতোন এপাড়ার বিড়ালগুলোর নির্দোষ নাও হতে পারে। 
তবে বিড়াল কুকুর পোষ মেনে গেলে ওরা প্রায় অনেক নিয়মকানুন মেনে চলে। আর সবথেকে বড়ো কথা কুকুর কে বাড়িতে রেখে যদিও পোষা যায় ( সবক্ষেত্রে নাও হতে পারে ) তবে বিড়ালকে আটকে রাখা একটু শক্ত। তবে পুরোপুরি পোষ মেনে গেলে আর তো কোনো কথাই নেই।

আপনাদের সকলের কাছে একটা বিনীত অনুরোধ, আপনি যদি কোনো বিড়াল কুকুরের দায়িত্ব না নিতে পারেন তবে যারা ওদের দেখভাল করে তাদের মনোযোগ ভেঙে দেবেন না। পারলে তাদের উৎসাহ দিন। ওইযে আগেই বলেছি ছোটো ছোটো রাগ গুলো আমরা যদি ঝেড়ে ফেলতে পারি তবে একটা বড়ো ধরণের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে আমরা নিজেদের রক্ষা করতে পারি।

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২০

অক্টোবর ২৭, ২০২০

কালু ও তার দিদির গল্প। Poulami Acharjee।

ছবি ও তথ্য - Poulami Acharjee 
উপস্থাপনয় - Silient Talks Of Midnight Animals  
হেই বন্ধুরা আমরা সকলেই জানি আমাদের জীবনের দাঁড়িপাল্লায় এমন একটা সময়ের ওজন পরিমাপ করতে হয় যেটার ফলাফল ওজন পরিমাপক ব্যাবহার করে হোক কিংবা না করে ফলাফল সবসময় চাহিদার বিপরীতে আসে। কারুর বংশে ছেলের সংখ্যা বেশী, আবার কেউ লাখ তপস্যা, তাবিজ কবজ, এই মন্দির ওই মন্দির। এই আমাবস্যায় পূজা করো তো আমাবস্যায় ওই করো, ওই গাছে সুতো বাঁধো, ওই ব্রত রাখো..গঙ্গা স্নান করো।

মানে মানুষ কে যে কত হেনস্থা করা হয় শুধুমাত্র যাদের ছেলে সন্তান হচ্ছেনা তাদের ছেলে হওয়ার জন্য। হ্যাঁ ঠিক তাই এইসব মানুষদের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে শুষে নেওয়া হয়। কিন্তু ফলাফল তারা কিছুই পায়না। কিন্তু শেষে যখন তারা ব্যাপারটা উপলব্ধি করে, তখন অনেকটা দেরী হয়ে গেছে। খরচের টাকার পরিমাণ হয় অনেক বেশী।
এক্ষেত্রে দম্পতি যদি পয়সাওয়ালা হয় তবে তাদের আঘাত সহজে হজম হলেও..মধ্যবিত্ত ঘরের লোকেদের হিসাবের অঙ্কটা গ্যাসের ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এদিকে যখন মা চাপ দেয় - বাবা, নাতি হলে দশটা আঙুল ভরে আংটি দেবো..এই ঘন্টাধ্বনি তে ঘরের চারিদিকে খুশির জোয়ারে চারিদিকে থইথই।
অন্যদিকে যে মা..মাসের পর মাস নিজের গর্ভে একটা প্রাণকে পরম স্নেহে বড়ো করতে থাকে..সেই মায়ের যখন ভ্রণ পরীক্ষা করে ছেলে না মেয়ে সেই বিষয়ের পরীক্ষা  করে বাচ্চাটি নষ্ট করার পরিকল্পনা সাজানো হয়..
তখন একটা মায়ের বুকে যে কি পরিমাণ কষ্ট হয় সেটা কি কেউ বোঝে?

তবে আমি আজ যেই গল্পটা বলবো সেটি অভিন্ন। আগেই বলে দিচ্ছি আমাদের গল্পের দুনিয়ায় আসতে গেলে.. আপনাকে হিংসা,রাজনীতি, ব্যস্ততা,অদয়ালু মনোভাবকে সুটকেস ভরে রেখে আসতে হবে। কারণ এই জগৎ পশুপাখি ঘিরে। এই জগৎ অবলা পশুদের অত্যাচার বন্ধের বিরুদ্ধে, এই জগৎ অবলাদের প্রতি অত্যাচার বন্ধ করে তাদের একটা ভালোবাসার দুনিয়ার চাঁদরে মুড়িয়ে দেওয়ার একটা ক্ষুদ্র প্রয়াস। তবে সেটি সম্ভব নয় যদি আপনারা আমাদের সাহায্যে করেন। একা একা রাজা হওয়া যায়না, আমাদের সকলের উদ্দেশ্য যেন এই অবলাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।


৩১/০৩/২০২০। দিনটি আরটা পাঁচটা দিনের মতোন এক নয়। ওইদিন বার্ণপুরের আশেপাশে কোনো একটা জায়গায় জন্ম হয়েছিলো ফুটফুটে একটি বিড়াল সোনার। যে বাড়িতে জন্ম নিয়েছিলো বিড়ালটি তারাই পরে ওর নাম রাখে কালু। 
আমাদের কালু খুব বদমায়েশি করলেও। কালুসোনার মা,বাবা ও দিদিকে ছাড়া পাঁচ মিনিটও চলেনা। বাবা যখন অফিস থেকে ফিরে আসে তখন যেই সময়ে বাবা বাড়ি আসে সেই সময়ে কালুসোনা জানলায় গিয়ে বসে থাকে। বাবার সাথেই রাতে বিছানায় ঘুমায়। 


খাবারের মধ্যে আমাদের কালুসোনার আমুল দুধের গুঁড়ো,ভাত, মাছ আর বেসনের পোকড়া তার খুব প্রিয়। যেটার গন্ধ যদি একবারও কালুর নাকে গেছে তো..কালু তার মা'কে পাঁচ মিনিটও দাঁড়াতে দেয়না।

ওর কোনো অভিযোগ থাকলে..সেটা ধরে নেওয়া খুব সোজা। কারণ ওইদিন বাবু রাতের বেলায় তার বাবার কাছে শুতে আসেনা। রাগ করে বসে থাকে। বাবার আদরের অপেক্ষা করে জানলায় বসে। হয়তো ভাবে কখন বাবা আদর করে তুলে নিয়ে যাবে তাকে। কালুর একটা দিদিও আছে যার নাম চিনি। সেই একমাত্র কালুর সঙ্গী। এরা দুইজনে যদি একবার এক হয়ে যায়..তো পুরো বাড়ি মাথায় তুলে রাখে।


ছবি - কালুর বাবা ও তার মায়ের সাথে তোলা ছবি

কালু সোনা সচরাচর রাগেনা, তবে রেগে গেলে তাকে আমুল দুধের গুঁড়ো দিতে হয় গো বাপু। এ ছাড়া সে আর কিছু বোঝে না গো। হ্যাঁ তবে বাবা যদি আদর করে তাহলেও বাবুর রাগ গলে জল হতে বেশী সময় লাগেনা। বাবাকে খুব ভালোবাসে।

ঘুম থেকে উঠে কালু সোনার দুধ খাওয়ার অপেক্ষায় থাকে,  তাইতো সে ডাইনিং চেয়ারের উপর বসে থাকে, যতক্ষণ না বাবুকে দুধ দেওয়া হচ্ছে ততক্ষণ সে ওখানেই বসে থাকবে।

কালু ও তার মায়ের সাথে তোলা ছবি


আমাদের কালু সোনার একটি বিশেষ গুণ হলো..সে কিন্তু ঘর নোংরা করতে একদম পছন্দ করেনা। ছোটোবেলা থেকেই কালুসোনা বাথরুমে গিয়েই প্রাকৃতিক ডাকযোগে সাড়া দিত সে। 

এছাড়া তার মায়ের মন খারাপ থাকলে মায়ের কাছে গিয়ে মা'কে আদর করে..যেন ওহ বলতে চাইছে মা তুমি চিন্তা করোনা, আমরা সবাই আছি তো। বাবা যদি কালু সোনাকে কিছু বলে তবে কালুসোনা সেটাও বোঝার চেষ্টা করে।

এই হচ্ছে তোমাদের প্রিয় কালুসোনা..তোমরা সকলে আশীর্বাদ করো কিন্তু আমাদের সোনাকে..যাতে কালুসোনার দীর্ঘ হয়।

পুরো ঘটনাটি Poulami Acharjee নামের এক দিদিভাই আমাদের জানিয়েছেন। তার খুব আদরের ভাই কালু। একসময় সে মন খারাপ ও করেছে কারণ  তার কোনো ভাই নেই..তবে এখন আর তার মন খারাপ হয়না। পৌলুমির মা, পৌলুমি কে বলেছে..তোর ভাই নেই তো কি হয়েছে? এরাই তোর ভাই..যারা তোকে কোনোদিনও কষ্ট দেবেনা।

গল্পটা কেমন লাগলো আপনাদের সেটা জানিনা। তবে তার মায়ের মতোন মা যেন সব জায়গায় বিরাজ করে। সত্যি এই গল্পটা যারা ছেলে চাই, ছেলে পছন্দ করেন তাদের কিছুটা হলেও শিক্ষার বিষয় হওয়া উচিৎ। তার মা দেখিয়ে দিয়েছেন ছেলে মেয়ের ভেদাভেদ বলে কিছু হয়না।


যেখানে আমরা যেখানে ছেলে ছেলে করে লড়াই করি, যেখানে এক শ্রেণীর সুবিধাবাদী মানুষ সেইসব মানুষদের দুর্বলতাকে ঘিরে ব্যাবসা শুরু করেছে সেখানে এই ঘটনার মূল্যে কতখানি সেটাই প্রশ্নের।

সর্বশেষে ছেলে মেয়ের মধ্যে ভেদাভেদ করবেন না। একটা মেয়ের জন্ম হয় বাবার ঘরে, সে বেশি দিন বাবার ঘরে থাকার ভাগ্যে নিয়ে আসেনা..কারণ তার মৃত্যু লেখা থাকে স্বামীর ঘরে। একটা মেয়ে হওয়া যে কতটা কষ্টের সেটার মর্ম সকলে বোঝেনা। তাই একটা অনুরোধ রইলো..পরেরবার থেকে ছেলে চাই, ছেলে চাই না করে যদি কন্যা সন্তান হয়..তো তাকে না ফেলে বরণ করে নিন। আর পারলে যে টাকা ছেলে হওয়ার পেছনে খরচ করতেন সেই টাকা মেয়ের ভবিষ্যৎ ও পড়াশোনার উপর খরচ করুন দেখবেন ঠকবেন না।

আলোচ্যে ঘটনাটি অনেক মেয়ের কাছেই ভরসা হয়ে দাঁড়াবে যাদের কিনা ভাই নেই, অথচ বাড়িতে ছোটোছোটো বিড়াল কুকুরের মতোন বন্ধুরা রয়েছে।

আমাদের উদ্দেশ্যে সকলের মধ্যে ভালোবাসা পৌঁছে দেওয়া যাতে মানুষ গুলো পশুগুলোর উপর একটু হলেও কম অত্যাচার করে।

সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২০

অক্টোবর ২৬, ২০২০

ওরিও ও তার মায়ের গল্প।


ছবি ও তথ্য আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন -  প্রিয়াঙ্কা মণ্ডল।  






আমাদের জীবনে প্রতিনিয়ত এমন কিছু ঘটনা ঘটে যে ঘটনাগুলো আমাদের জীবনের চলার পথের রাস্তাকে সম্পুর্ণ পালটে দেয়। আমরা সবকিছুর ভাগ সকলের সাথে ভাগ করে নিতে পারি। কিন্তু নিজের প্রিয়জনদের ভাগ আমরা কাউকে দিইনা। আমরা ভালোবাসাকে ছড়িয়ে দিতে পিছুপা নাহলেও ভালোবাসার ভাগ দিতে পারিনা। 

আজ আমি আপনাদের  প্রিয়াঙ্কা মন্ডলের জীবনে ঘটে যাওয়া একটা হৃদয়বিদারক ঘটনা শেয়ার করবো। 

বন্ধুরা আমাদের পেজ ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে চাই সকলের মধ্যে। যাতে ভালোবাসার রঙে সকলে ভেসে যেতে পারে সেই দুনিয়াই। যেখানে কোনো মানুষ অবলাদের উপর অত্যাচারের  সম্মুখীন হয়না। হ্যাঁ সেখানে অবলাদের খুব যত্ন করা হয়। হ্যাঁ এমন এক দুনিয়া সত্যি আছে যেখানে হিংসে নেই, আছে ভালোবাসা।

ফেসবুক খুলে চলে যান সার্চ বক্সে সেখানে লিখুন silient talks of midnight animals. ব্যাস আপনি এবার পৌঁছে গেছেন আমাদের সেই মজার দুনিয়াতে। এবার আপনি যেমন খুশি ইচ্ছুক সেইরকম গল্প পড়ুন,অথবা শুনুন। এরজন্য কোনো পয়সা লাগবেনা।



2019/09/10 বসিরহাটে ভ্যাবলা নামক একটি জায়গায় জন্মেছিলো প্রিয়াঙ্কা মণ্ডল নামের এক দিদিভাইয়ের মেয়ে সন্তান নাম ওরিও। ওরিওর বয়স তখন ৪/৫ দিন হবে। বেচারির তখন চোখ ফোটেনি এবং পেটের নারি এখনও কাঁচা। সেই অবস্থায় বাড়িতে যখন প্রিয়াঙ্কা দিদি নিয়ে আসেন তখন বাড়ি থেকে অনেকেই বলেছিলো ওকে তুই বাঁচাতে পারবিনা। কিন্তু ওইযে মনের যেদ মানুষকে অনেক অসাধ্য সাধন করার ক্ষমতা দেয়। প্রিয়াঙ্কা দিদি বলেন, হ্যাঁ আমি ঠিক বাঁচাবো। তারপর থেকে শুরু হয় রাত-দিন এক করে সেবা। এই আদর আর সেবাই আমাদের ছোটো সোনাকে বড়ো করছিলো ধীরেধীরে। 


দিদির নিজের একজন কন্যা সন্তান আছে। তাকে যখন দিদি বিছানায় নিয়ে দুপুরে ঘুমোয় তখন আমাদের ছোটো ওরিও সোনাও দিদির কাছে শুয়ে পড়বে..তখন দিদি পরম স্নেহে ওকে ধরে নিজের পাশে শুয়ে দিত। 

ছবি - ছোটো ওরিও সোনা যখন দুধ খাচ্ছিলো তখনকার ছবি।  
বাড়ির সকলেও ওকে খুব ভালোবাসতো। দিদি নিজে ওকে ছোটো মেয়ে ভাবতো। যদি দিদিকে ওরিও কোথায় না দেখতে পেতো তখন সে চুপচাপ বসে থাকতো। তবে দিদির দেখা পেলে ব্যস..সোনাকে তখন আটকানো মুশকিল। যেখানেই থাকুকনা কেন দিদির আওয়াজ পেলে ছুটে চলে আসতো। পুরো যেন মানুষের মতোন।

রাতের বেলাতেও আমাদের প্রিয় সোনা তার মা ( প্রিয়াঙ্কা ) ও বাবার ( প্রিয়াঙ্কার বর ) মাঝখানে না শুলে ওর ঘুম-ই আসতো না।
ওহ না যদি না শোয় তবে দিদিদের ও রাতে ঠিকমতোন ঘুম হতোনা। প্রিয়াঙ্কা দিদির মেয়েও কিন্তু ছোটো বোন ওরিও কে খুব ভালোবাসতো।

বন্ধুরা আমরা সকলেই জানি সুখ-দুঃখ, হাসিখুশি,আবেগ আবদার এইসব টুকটাক জিনিস নিয়েই আমাদের পথ চলতে হয়। তাই ভালোর মাঝে খারাপ, খারাপের মাঝে ভালো এইসব সার্কেলের মতোন চলতে থাকে।


ওরিও'র যখন ১১ মাস বয়স তখন সে গর্ভবতী হয়। কিন্তু বেচারী খুব কষ্ট পাচ্ছিলো। তাই তার মা ডাক্তারকে ডাকেন। ডাক্তার এসে ট্রিটমেন্ট শুরু করে। ওরিও শেষমেশ তিনটি সন্তান প্রসব করে। কিন্তু বাচ্চাগুলো জীবিত নয় মৃত। সুখের সংসার সমুদ্রে জোয়ারভাটা লেগেই থাকে। সেইঘটনায় প্রিয়াঙ্কা দিদির মনেও উথাল-পাতাল ঢেউ তুলেছিলো। ঠিক তখনি তিনি জানতে পারেন যে, তার ছোটো মেয়ে ওরিও এই দুনিয়ায় নেই। 

বন্ধুরা ভুল চিকিৎসা জন্য এই পরিনতি হয়েছিলো নাকি সোনার ভাগ্যে তার সাথে লুকোচুরি খেলছিলো সেটির ইতিহাস এখনো অজানা। তবে চলে গেলো এক মেয়ে তার মায়ের বুক খালি করে। এর চেয়ে খারাপ আর কিছু হতে পারে।


ওরিও যেখানে থাকুক ভালো থাকুক। ওরিও'র মা যেন সুস্থ থাকে। বন্ধুরা আপনারা সবাই তাদের হয়ে দোয়া করবেন।

মুল ঘটনা-টি প্রিয়াঙ্কা মণ্ডল দিদিভাই আমাদের জানিয়েছেন।

ছবি - প্রিয়াঙ্কা মণ্ডল। 

ঘটনাটি কতটা ভালো লেগেছে আপনাদের সেটি জানিনা। তবে ঘটনাটি হৃদয় বিদারক। ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল প্রাণ।

রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০

অক্টোবর ২৫, ২০২০

কোকোর দুষ্টুমি। Lahari Bhattacharjee। দেখুন কোকোর ছবিগুলি।

ছবি- Lahari Bhattacharjee  
উপস্থাপনায় - Silient Talks Of Midnight Animals     
তো বন্ধুরা সকলে কেমন আছো? আমাদের পেজের গল্প গুলো কিরকম লাগছে তোমাদের? আমাদের উদ্দেশ্যে সকলের কাছে অবলাপ্রাণীদের প্রতি ভালোবাসা সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এইজন্য সবসময় চেষ্টা করি তোমাদের জীবনের অভিজ্ঞতা গুলোকে গল্পের গহনাতে ভরিয়ে উপস্থাপনা করতে। যাতে যেসকল মানুষেরা পূর্বে অবলা প্রাণীদের উপর একটু হলেও অবজ্ঞা নজরে দেখতো তাদের পাষাণ মন গলে কচি সবুজ ঘাসে পরিণত হয়। তাই এই প্রচেষ্টা। 

 প্রতিটা মানুষের জীবনে এমন একটা সময় আসে যেই সময়টার স্বাদ তারা বার বার পেতে চায়। সেই সময়টাকে খারাপ সময়ে আঁকড়ে বাঁচতে চায়। কিন্তু চেয়েও পায়না। যতোই বয়স বাড়ে ততোই নানা ধরনের সময়ের সাক্ষী থাকি আমরা..
আসলে বয়স হচ্ছে শুধু একটা সংখ্যার খেলা। যেটার খেলা আমরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে,বিভিন্নসাজে দেখে এসেছি। কিন্তু ছোটোবেলার স্বাদ পেতে কার না ভালোলাগে??

আমাদের পেজটি তো আর রুপকথার পেজ না..পশুপাখি দের ভালোবাসায় ভরা আপনাদের প্রিয় ফেসবুক পেজ - silient talks of midnight animals ( stoma ) পেজটি আজ আবারো চলে এসেছে এক ভিন্ন স্বাদের গল্প নিয়ে। 


আজ আমি তোমাদের ভিন্নস্বাদের একটা ছোটো গল্প শোনাবো।


কলকাতা থেকে অনেকটা দূরে নিউ জলপাইগুড়ির আশেপাশের কোনো এক জায়গাতে ২০১৮ সালের ২৮ শে জুন শুরু হয়েছিলো। ওইদিন ফুটফুটে কোকো নামের এক বিড়ালছানার জন্ম হয়। দিনটা আর কারুর জীবনে স্মরণীয় হোক কিংবা না হোক লাহরী ভট্টাচার্য নামের একজন বিড়ালপ্রেমীর কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার কাছে সেইদিন কোলজুড়ে আসে কোকো সোনা। কোকো খুব দুষ্টু মেয়ে। কোকোরা হলো যমজ, কোকোর অন্য বোনের নাম চকো।



ছবি - চকো 

কোকোর মা লহরী খুবই দায়িত্ববান। সে তার সন্তানদের যত্নের কোনো ত্রুটি রাখেনা। বন্ধুরা আসুন আপনাদের একটু অতীতে নিয়ে যাই। এইযে লাহরীর কথা আপনারা শুনছেন ওনার এককালে ৩৬-টা বিড়াল ছিলো। ছানাপোনা, মাঝারি, ও বড়ো বিড়াল মিলে মোট ৩৬-টা বিড়াল ছিলো। তবে তিনি যেহেতু ফ্ল্যাটে থাকতেন। আর বাচ্চাগুলো একে অন্যর সাথে মারপিট করতো এছাড়া নানান রকমের সমস্যায় পড়েন তিনি। তাই তিনি বাচ্চাগুলোকে ভালোঘরে দত্তক দিয়ে দেন। যাতে ওদের কোনো কষ্ট না হয়।

লাহরী মত অনুযায়ী - আমরা চাইলেই ওদের অনেকভাবে সাহায্যে করতে পারি। কারুর বাড়িতে যদি অবলা পোষ্যদের রাখতে কোনো অসুবিধা হয় তো তাদের দত্তক দিয়ে দেওয়া উচিৎ। যাতে তারা সকলে ভালো একটা ঘর ও পরিবার পায়। লাহরী অত্যন্ত কষ্টের সহিত বাচ্চাগুলোকে অন্যর বাড়িতে তুলে দিয়ে আসে। তবে এইসব একদিনে হয়নি। সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে কোকোর যখন একে একে সব ভাইবোনেরা অন্যত্র চলে যেতে শুরু করেছিলো। তখন কোকোর ও মন ভীষণ খারাপ হয়ে গেছিলো।

তো গল্পে আসা যাক। আমাদের কোকো রানী। খুব দুষ্টু৷ নিমেষের মধ্যে কোথায়,কি কাজ করে ফেলবে আপনি ধরতে পারবেন না। কোকোর জন্ম হয়েছিলো তার মা লাহরীর ঘরেই। পুঁচু নামের একটা বিড়াল কোকোর জন্ম দেয়। এই পুঁচুরও একটা ইতিহাস আছে..সে যখন খুব ছোটো ছিলো তখন তার মা, তাকে মুখে করে লহরীর বাড়িতে এনেছিলো। লহরী তিনবছর পুঁচুকে নিজের কাছে রেখে বড়ো করে। তবে পরবর্তীকালে সে তার প্রিয় পুঁচুর আরেক মেয়ে চকোকে দিদার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

ছবি - পুঁচু কোকোর মা

সকালে কোকোর মায়ের ঘুম ভাঙে কোকোর ছোটো-ছোটো হাতের মার খেয়ে। যদি তার মায়ের ঘুম ভাঙতে  ন'টার এক মিনিটের ও বেশী হয়। তাহলে পুচকে কোকোর নাকি রাগ হয়। বাড়ির প্রত্যেক-টা জিনিস তার দখলে। ঘরের কলিংবেল বাজলে আগে কোকো ছুটে গিয়ে দেখতে যাবে, যে কে এসেছে তার বাড়িতে। যেই আসুক না কেন তাকে ঘর অবধি নিয়ে আসা, আবার যাওয়ার সময় বাইরে দৌঁড়ে গিয়ে ছেড়ে দিয়ে আসাও তার বড়ো এক দায়িত্ব। ঘরের মাইক্রোওয়েভে কেউ হাত দিতে পারবেনা। ওটাও কোকোর দখলে। ওইখানে কোকোর খাবার গরম হয়।



কোকো তার সারাদিনের মনের কথা তার মায়ের সাথেই শেয়ার করে। কোকোর মা কোকোকে প্রচন্ড ভালোবাসে। এইজন্য সে তার মেয়ের মনের কথা কিছুটা হলেও বেশ বুঝতে পারে। কোকোর মায়ের উপর কোকোর কোনো কারনে রাগ হলে সে তার নিজের ছোটো দুটো হাত দিয়ে  মারে। বেশীর ভাগটাই গালেই চড় গুলো দেয়..তবে সেটি তার মা বেশ উপভোগ করে।

কোকো এমনি খুব দুষ্টু হলেও যদি বাড়ির কেউ কোকোকে বকা দেয়। তাহলে কোকো সোজা তার মায়ের কাছে দৌঁড়ে গিয়ে কোলের উঠে শুয়ে পড়ে। যতক্ষণ না পর্যন্ত যে বকা দিয়েছে সে এসে নিজের থেকে কোকোকে কোলে তুলে আদর না করে ততক্ষণ অবধি কোকোর রাগ ভাঙেনা।

কোকোকে দিনে তার মা পাঁচবার খেতে দেয়। কোকোর আবার পছন্দের খাবারের তালিকাটা একটু বড়ো। কোকো ইলিশ ভাত খুব ভালোবাসে। এছাড়া ছোটো মাছ ভাজা, পুডিং, মুড়িও বাদ যায়না। মুড়ি খেতেও কোকো পছন্দ করে। এছাড়া সে pedigree..ভালোবাসে। কোনো কোকো দিন কোকো দুপুরে খাওয়ার সবে ঘুমের দেশে পাড়ি দেয়। তখন কোকো এসে তাকে আস্তে করে ডাক দেয়..মুড়ি খাওয়ার জন্য। তবে কোকোর মা তখন কোকোকে আদর করে ঘুম পাড়িয়ে দেয়। 

কোকোর মা কোকোকে ছাড়া এক মুহুর্ত অন্য কিছু ভাবতে পারেনা। আর কোকোও সে তার বেশীরভাগ সময় তার মায়ের সাথে কাটাই। 

আমাদের কোকোর সবথেকে মহৎ যে গুন সেটি হলো..হেডফোন দেখতে পেলেই হয়েছে মুখে করে নিয়ে খাটের নীচে চলে যায়।
কোকো যখন হেডফোন নিয়ে খেলতে ব্যস্ত ছিলো তখনকার ছবি।

কোকোর মা যখন মাঝেমধ্যে ড্রয়িং করতে বসেন তখন কোকোও তার পাশে বসে থাকবে..সেই সুযোগ পাবে ওমনি পেন্সিল-টা মুখে নিয়ে কামড়ে ভেঙে দেয়। কোনো কোনো সময় পেন্সিল-টা ভেঙেও যায় কামড়াকামড়িতে। কোকোর মা, ভায়োলিন বাজানোর সময় Bow টাকে ধরার জন্য কোকো অপেক্ষা করতে থাকে। দুষ্টুমিতে সে কারুর থেকেই কম যায়না।


আর এসব এতো দ্রুত হয়যে। সেগুলো ক্যামেরা বন্দি করা যায়না।


তো বন্ধুরা এটাই ছিলো আমাদের কোকোসোনার গল্প। তোমরা সকলে কোকো ও তার মা লহরীকে আশীর্বাদ করো যাতে ওরা সারাজীবন এভাবেই একসাথে থাকতে পারে।

অঙ্কিতা দিদি ও দিদির ছানাপোনা

বন্ধুরা সবাই কেমন আছো? অনেকদিন পর আবারো একটা গল্প নিয়ে চলে এলাম।  যেই গল্পের মুখ্য চরিত্র কাজল, আলু আর মায়াকে নিয়ে। অঙ্কিতা দিই হচ্ছে এই বাচ...