Kolkata Midnight Talk

প্রতিদিন আমাদের সাথে অসংখ্য ঘটনা ঘটে। সেই সকল ঘটনা যেগুলো আমরা কেউ শেয়ার করার মতোন কাউকে পাইনা, আমাদের ব্লগে সেই সকল অজানা গল্প, অবলা পোষ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন লেখা ছাড়াও কিছু লেখকের ভূত ও ভালোবাসার গল্প পাবেন। আশা রাখছি আমাদের পাশে আপনাদের মতোন বন্ধুদেরকে সবসময় পাবো।

LightBlog

Breaking

Bhoot লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Bhoot লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০

নভেম্বর ২৮, ২০২০

সবুজ রঙের হ্যারিকেন ও কালু। মলয় বিশ্বাস।

ছবি - নিজস্ব। 

সবুজ রঙের হ্যারিকেন ও কালু
~ মলয়।

ঘটনাটি অনেক আগের
তখন রাত প্রায় দেড়টা। স্টেশন থেকে একা একা বাড়ি ফিরছি। বিধাননগর দক্ষিণদাড়ির কাছেই একটা ভোজবাড়িতে কাজ করতাম। (ভোজবাড়ি = Banquet) তো শেষট্রেন ধরেই ফিরতাম। এমনি সময় তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে যাই। তবে আজ আমাদের মালিক চারদিনের পয়সা পেমেন্ট করবে। পেমেন্ট পাওয়ার পর সকলের সাথে ওখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে বলতে অনেকটাই দেরি  হয়ে গেলো। যাদের সাথে কথা বলছিলাম ওদের বাড়ি স্টেশনের ধারেই তবে আমার বাড়ি আরও অনেক দুরে। স্কুলে পড়ার সময় ছেলেগুলোর সাথে বন্ধুত্ব হয়েছিলো এখনও বন্ধুত্ব বজায় আছে। কলেজের ফিস্  এর খরচাপাতি এই কাজের থেকেই উঠে আসতো। তো পয়সা পেয়ে সকলকে বিদায় জানিয়ে ফিরতে ফিরতে অনেকটা সময় পার হয়ে গেছে। সামনেই একটা বাঁশবন, তারপর একটা ঝিল। ঝিল পেরিয়ে কিছুটা এগোলে ডানহাতের গলিটায় একটু এগোলে আমাদের বাড়ি। তো আমি এই রাস্তা দিয়ে সবসময়ই যাওয়া আসা করি। নিজেদের পাড়ার রাস্তা। তো নিজের মনে নানা রাজ্যের যতো উলফাল জিনিস আছে ভাবতে ভাবতে বাঁশ বাগানটা পার করেছি সামনেই একটা ঝিল..তারপাশ দিয়ে রাস্তা। আর রাস্তার পাশে একটা ছোটোমতোন ক্ষেত। একটা দুটো ঘরের পরেই ক্ষেত-টা শুরু হয়। তো ঝিলপাড়ের রাস্তাটা যেই ধরতে যাবো এমন সময় একটা কুকুর পেছনে একটা ডাক দিলো। এই ডাকটা আমার খুব চেনা। পেছনে ঘুরে দেখি কালু। তো এখানে বলে রাখি আমি যখনি বাড়ি ফিরি বিধানগর স্টেশন থেকে এক প্যাকেট বিস্কুট কিনে রাখি। রাস্তায় কোনো কুকুর চিৎকার করলে তার দিকে বিস্কুট এগিয়ে দিই৷ অবশ্য প্রথমে একটু ওরা চিল্লাচিল্লি করতো কিন্তু এখন আর করেনা। কারণ ওরা আমাকে চিনে গেছে।

তো কালুকে দেখামাত্রই বিস্কুটের প্যাকেট থেকে তিনটে বিস্কুট ওর সামনে এগিয়ে দিলাম। আর আমি নিজে একটা খেলাম। তো কালুকে বললাম..কি রে তুই ঘুমাস নি এখনো? যা গিয়ে ঘুমো।

জানিনা ওহ আমার কথা বোঝে কিনা। তবে ওহ বিস্কুট খাওয়ার উপর ঝিলের দিকে তাকিয়ে কেমন যেন ছটফট করতে লাগলো। 

আমি কালুকে আজ অবধি এইরকম ভাবে আচরণ করতে দেখিনি। 

ভাবলাম কালুর হয়তো গায়ে কোথায় ব্যথা ফ্যথা আছে। দিনরাত এপাড়া ওপাড়া বারো যায়গায় যায়। মারপিট করে বেড়ায়। ব্যথা হবেনা। তো আমি বাড়ির দিকে যেই পা বাড়াবো ওমনি কালু আমার সামনে এসে মাটির উপরেই শুয়ে পড়লো। তারপর নিজে থেকেই ওঠে সামনের দিকের  ঘরেটার দিকে এক ছুট দিলো। আবার আমার সামনে এসে বসে পড়লো আবার উঠে ওই দোকান ঘরের দিকে ছুট দিলো।
আমি ভাবলাম কালু আমার সাথে খেলতে চায়। আমি কালুকে একটু বকে বললাম..এখন খেলবোনা। এখন ঘুমাবো। কাল সকালে বাড়িতে আসিস। এইবলে আমি যেই পা বাড়াবো। ওমনি আমার কালো প্যান্ট-টা কালু টেনে ধরলো।

তারপর কালু আবারো ওই সামনের ঘরের দিকে ছুট লাগালো, আর আমার সামনে দৌঁড়ে এলো। আমার সামনে দাঁড়িয়ে মুখটা ওই ঘরটির দিকে করলো আবারো ছুট দিয়ে ওই ঘরের সামনে গিয়ে একটা মৃদু স্বরে ঘেউ করে উঠলো।

আমি ভাবলাম হয়তো ওইঘরে কেউ আটকা পড়ে আছে। এই ঘরটা কিছুদিন হলো হয়েছে। দরজা ফরজা নেই। সম্ভবত এই ঝিলপাড়ের সামনের রাস্তাটা বেশ চলতি হওয়ায় এই ঘরটা একটা দোকান ঘর হবে। আমি ভাবলাম ওই ঘরে হয়তো কিছু একটা হয়েছে। তাই কালুর পেছন পেছন ওই ঘরের দিকে এগোলাম। যতোটুকু চাঁদের আলোয় দেখলাম ঘর্র ভেতরটা ফাঁকা পুরো। তো কালুকে দেখলাম ঘরের পাশে গিয়ে চুপ করে বসে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি ওই ঘরের পাশে গিয়ে দেখি পরপর চারটে কুকুর চুপ করে মাটিতে মুখ নীচু করে শুয়ে আছে। কালুও মাটিতে মুখ লাগিয়ে নীচু হয়ে শুয়ে পড়লো।

আমি ব্যাপারটা কি হচ্ছে বুঝলাম না। হঠাৎ দেখলাম কালু সহ আর চারটে কুকুর এক দৃষ্টিতে ওই ঝিলপাড়ের দিকে তাকিয়ে আছে। আমি ওদেরকে অনুসরণ করে ঝিলের দিকে তাকালাম। তাকিয়ে যা দেখলাম তা লিখে প্রকাশ করতে পারবোনা।
দেখলাম অনেক দুর থেকে একটা আলো ঝিলপাড়ের দিকে এগিয়ে আসছে। ব্যাপারটা ভালো মতোন বুঝতে পারছিলাম না। তবে আলোটা ধীরেধীরে যখন বড়ো হতে লাগলো তখন বুঝলাম একজন বয়স্ক মহিলা লাঠি হাতে করে এই ঝিলপাড়ের দিকে এগিয়ে আসছে।

আমার বয়স কুঁড়ি বছর। এই ঝিলের থেকে কিছুটা এগোলেই আমার বাড়ি। আমি আজ অবধি চোখে তো দেখা অনেক দুরে কথা কারুর কাছ থেকে শুনিনি এই ঝিলের উপর থেকে কেউ গভীর রাতে হেঁটে হেঁটে এই ডাঙার দিকে এগিয়ে আসে।

দেখলাম ওই বয়স্ক মহিলাটি ডাঙায় উঠে বামদিকে মুখ করে ( বাঁশ বাগানের উল্টোদিকের পথ, যেথ ধরে কিছুটা এগোলেই দুটো গলি পড়ে..ওই গলির ডানদিকেরটা ধরে কিছুটা দুর গেলে আমার বাড়ি ) 
উনি ওই দু'মাথা ওয়ালা গলির দিকে এগোতে শুরু করলো। যেতে যেতেই একসময় সে হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো।
ভয়ে আমার গলা শুকিয়ে এলো প্রায়। একজন বয়স্ক মহিলা, কোমড় পরে গেছে। নীচু হয়ে হাটে উনি। কিন্তু ওনার চলার গতি ভীষণ দ্রুত। নিমেষে উনি ঝিলপাড়ের রাস্তা পাড় করে এগিয়ে চললো।

ভয়ে ও কৌতুহলে আমি একদিকে হতভম্ব ঠিকই। একেই শীতের রাত, তার উপর  এইরকম একটা জিনিসের দেখা। আশেপাশে কেউ নেই। এইরকম পরিস্থিতিতে সেইসময় আমার যে কি অবস্থা হয়েছিলো সেটি কেবল আমি জানি। একসময় ভাবলাম, এখন তো ওই মহিলাটি নেই দ্রুত ছুটে বাড়ি চলে যাই।

যেই ভাবা, সেই কাজ..আমি আমার ব্যাগটা উঠিয়ে পিঠে নিলাম দৌঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি..সেইসময় কালুর হঠাৎ কি হলো জানিনা..কালু আবার আমার পায়ের সামনে এসে শুয়ে পড়ে মুখটা আমার দিকে করে..মায়াবী দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ওর চাহনি দেখে এটুকু বুঝলাম যে..ওহ আমাকে যেতে দিতে চায়না। আর আমি সাংঘাতিক রকমের ভয় পেয়ে গেলেও, জানিনা কি মনে করে আমি এক অদ্ভুত কৌতুহলের বশে ওখানেই বসে পড়লাম। আর পুরো ব্যাপারটা কি থেকে কি হলো মেলাতে লাগলাম। ঠিক এমন সময় বাকি চারটে কুকুর আমার পাশ থেকে উঠে আমার সামনে এসে দাঁড়ালো। মানে সামনে থেকে দেখতে গেলে..ওই দোকান ঘরের গা সেটে দাঁড়ানো আর কি। কালুও আমার পায়ের সামনে থেকে উঠে ওদের কাছে গিয়ে দাঁড়ালো..সকলেই ওই ঝিলপাড়ের রাস্তাটার দিকে তাকিয়ে আছে।
( চলবে ) 

গল্পটি সময় খরচ করে এতোদূর অবধি পড়েছেন তার জন্য আপনাদেরকে মন থেকে ধন্যবাদ জানাই। এই গল্পটির প্রথম পর্ব এখানেই শেষ করলাম। দ্বিতীয় পর্ব আপনাদের উৎসাহ পেলে খুব তাড়াতাড়ি প্রকাশ করবো।

#মলয়_বিশ্বাসের_ভৌতিক_গল্পসমগ্র #ভূত
#ভূতের_গল্প।
#সবুজ_রঙের_হ্যারিকেন_ও_কালু_প্রথম_পর্ব

বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২০

নভেম্বর ১৯, ২০২০

হাটেবাজারে দুপুররাতে। মলয় বিশ্বাসের লেখা ভৌতিক গল্প।

ছবি ও লেখা - মলয় বিশ্বাস

শীতের এক রাতে। একজন ইঞ্জিন ভ্যান চালক তার গাড়িটা হাটবাজারের একেবারে প্রবেশপথের সামনের একটা কোণে দাঁড় করিয়ে চাদর গায়ে দিয়ে..একটা দোকানঘরের সামনে তিনি ও তার হেল্পার শুয়ে আছে। ভোর তিনটে থেকে এক এক করে লরি আসতে থাকবে হাটে..তখন থেকেই তার ডিউটি শুরু আর কি। ভ্যানে কাঁচামাল বোঝাই করে তিনি ও তার হেল্পার সেখান থেকে অনেক দুরে মানে তাদের লোকালয়ের সবথেকে জনবহুল এরিয়ার এক বাজারে নিয়ে আসবে। ওখানেই তিনি এবং তার বউ সবজী বিক্রি করে।
এটাই তাদের রোজকার রুজিরোজগারের একমাত্র মাধ্যম। আর এই ভ্যানটা তাদের রোজকার নিত্যসঙ্গী। 
তো যেইদিনকার কথা বলছি..তিনি ও তার হেল্পার তখন শুয়ে আছে। হঠাৎ একটা মাঝবয়সী ভদ্রলোক এসে একটা চিৎকার করে তাদের ডেকে উঠলো..

বড়োভাই..
বড়োভাই..
চিৎকার শুনে ইঞ্জিন ভ্যান চালক ও হেল্পার দুইজনেই উঠে বসলো..
তো ওই লোকটাকে দেখে ইঞ্জিন ভ্যান চালক বললো কি হয়েছে? এতোরাতে আপনি এইভাবে ডাকছেন কেন? 

তখন ওই মাঝবয়েসী ভদ্রলোকটি বলে উঠলো..
বড়োভাই..তাড়াতাড়ি চলুন। আমার ছেলের খুব শরীর খারাপ..ওকে হাসপাতালে না নিয়ে যেতে পারলে ওহ হয়তো বাঁচবেনা। তাড়াতাড়ি চলুন বড়োভাই। বেশী দূর নয় সামনের এক দোকানে ওকে বসিয়ে রেখে এসেছি।
ইঞ্জিন ভ্যান চালক নিজের টাইপ সেট বের করে দেখলো ঘড়িতে তখন রাত ১.০০ টা। ওই সময় দেখার জন্য আর কয়েকজনের সাথে কথাবলার জন্য লোকটি ফোনটা কিনেছিলো..আসলে কিনেছিলো বললে ভুল হবে..তার বউ জোড় করে কিনতে বাধ্য করেছিলো। তাদের কাছ থেকে সবজী কিনতো এক তান্ত্রিক এই ফোনটা বিক্রি করেছে তাদের কাছে। তান্ত্রিকটা প্রচুর মদ খেতো। সংসারের চাপে, পারিবারিক ধমকে সে মদ খাওয়ার পথ থেকে সরে আসতে চাইছিলো..বলাবাহুল্য সে এই প্রচেষ্টা আগেও অনেক বার করেছে তবে তার প্রচেষ্টা বিফল হয়েছে।

এইবার তার পরিবার এমন চাপে রেখেছিলো যে তিনি বাধ্য হয়ে মদ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন..কিন্তু তিনি মদ ছাড়লেও মদ যে তাকে ছাড়েনি। প্রায় একমাস তিনি মদ খায়নি। স্মৃতির গোড়ায় জল দিলে দেখা যায়যে..লোকটা যেপরিমাণ অর্থ উপার্জন করতো সেই টাকা তার বউ নিজের হাতে নিয়ে নিত। তার স্বামীর হাতে দিতোনা। যাতে তার স্বামী বিফলে না চলে যায়। দেশীমদের দোকানে গিয়ে তান্ত্রিকের বউ শাসিয়ে এসেছিলো যাতে তার স্বামীকে এই দোকানের আসেপাশে দেখলেই যেন পিটিয়ে ভাগিয়ে দেয়।

তো লোকটা একটা মাস অনেক যন্ত্রনায় কাটিয়েছে..মদ ছাড়ার পর থেকে তার রাত হলেই কোমড়ে ব্যথা, হাঁটুতে ব্যথা। অথচ যেকটাদিন মদ খেত সেইকটা দিন তার শরীরে কোনো ব্যথ্যাই ছিলোনা।

তো ওই তান্ত্রিকটি মাত্র ১০০ টাকাতে এই ফোনটি দিয়ে দেয় ওই সবজী বিক্রেতার কাছে। কমদামে ফোন পেয়ে তারা বেজায় খুশী। তবে তান্ত্রিকটি একটা নির্দেশ দিয়েছিলো তাদেরকে..যে..
এই ফোনে একটা নম্বরে ফোন আসে ২২২ এই তিনটে নম্বরে। এই নম্বরে ফোন এলে যেন তিনি সেই ফোনটি না ধরে। কারণ এই নম্বরে যখনি ফোন আসে তখনি কোনো না কোনো অঘটন ঘটে। এইবলে তান্ত্রিকটি পয়সা নিয়ে ফোনটি তাদের দিয়ে বাজার থেকে চলে যায়। তবে ওই যে নম্বর থেকে ফোন আসতো সেই নম্বরে আসা ফোন ধরলে যে কি পরিণতি হতে পারে সেইবিষয়ে ওই তান্ত্রিকের জানা নেই। কারণ তিনি নিজেও ওই নম্বর থেকে আসা  ফোন কোনোদিনও ধরেননি।

মোবাইলে সময় দেখাটা ওই লোকটির পাড়ার এক মাস্টারমশাই শিখিয়েছিলেন..
কাজেই তিনি সময়টা বুঝতে পারতেন। ওই ইঞ্জিনভ্যান চালক বললো - চলুন..তবে আমাকে তাড়াতাড়ি ছেড়ে দেবেন..ভোর বেলায় গাড়ি ঢুকবে। মাল নিতে হবে। আর ভাড়া ১৫০/- টাকা নেবো।

ওই মাঝবয়েসী ভদ্রলোকটি বললো ঠিক আছে ভাই আগে তো চলুন আমার ছেলেকে বাঁচান বড়োভাই।

তো ওই ইঞ্জিন ভ্যান চালক মাংকি টুপি পড়ে, চাদর-টা গায়ে জড়িয়ে..ভ্যানের ইঞ্জিনটা চালু করে যেই ভ্যানটা চালানো শুরু করবে ওমনি তার ফোন বেজে উঠলো..
লোকটি ফোন ধরে বললো  - হ্যালো কে?

ওপাশ থেকে কেউ কোনো কথা বলছেনা। তিনচারবার হ্যালো হ্যালো করে..শেষে বিরক্ত হয়ে তিনি যখন ফোনটা কেটে দেয়। তবে কেটে দেওয়ার আগে তিনি একটা অদ্ভুত জিনিস আবিস্কার করে যে..মাত্র তিনটে নম্বরে ফোন এসেছিলো। এর আগে কখনো এই নম্বরে ফোন আসেনি। লোকটির তখন তান্ত্রিকের কথা মাথায় নেই। এদিকে গ্রামের মানুষদের মনে এতো প্যাঁচ থাকেনা। এখান থেকে হসপিটাল অনেক দুরে। আর যাতায়াত ব্যবস্থা সেমন ভালো নয়। ভ্যানচালক কম করেই ভাড়া বলেছে। তিনি যেহেতু খেটে খায় তাই আরেকজন খেটে খাওয়া মানুষের দুঃখ-টা ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পারে।
লোকটি ভ্যান চালাতে চালাতে ভাবছে..ইশ আজ যদি গাড়ি আগে ঢুকে যায় তাহলে তিনি মাল নিতে পারবেন না আর। কারণ এ ওহ সব দরদাম করে  যে যা পারবে কিনে নিয়ে চলে যাবে। আর লোকটির বাঁধাধরা দুই জায়গা আছে..তিনি বারোমাস ওই দুই জায়গা থেকেই তার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নেয়। 

লোকটি মনে মনে ভাবছে ইশ, আজ যদি..সময়ের একটু হলেও উনিশ বিশ হয় তবে তার আর কেনা-বেচাটা ঠিকঠাক হবেনা। তার বাজেট ছিলো ১২০০ টাকা৷ যদি সময় মতোন আসতে না পারে তাহলে তার হাত থেকে অনেক গুলো টাকা খসতে পারে। কারণ তিনি যেই জায়গা দুটো থেকে কাঁচামাল কেনেন সেই জায়গা দুটো হাঁটের একেবারে সামনেই.. মানে হাঁটে ঢুকতেই আগে ওই জায়গা গুলো পড়ে আরকি। তাই জিনিসপত্র বিক্রি হয়ে যায় তাড়াতাড়ি। সকাল ১০.০০টার পর থেকে হাঁট ভেঙে যায় তখন থেকে জিনিসপত্রের দাম কিছুটা বাড়ে।

তো এই সেই চিন্তা করতে করতে ভ্যান চালাচ্ছে। তো হঠাৎ করে ওই লোকটা বললো বাবু ওইযে ওই দোকানের সামনে গাড়ি দ্বার করান। 

লোকটির কথামতোন ওই ইঞ্জিনভ্যান চালকটি তার ভ্যান দ্বার করায়। দেখে যে একটা ছেলে হেলান দেওয়ালে দিয়ে বসে আছে..তার গায়ে রয়েছে একটা নোংরা সোয়েটার। ইঞ্জিন ভ্যান চালক ও তার হেল্পার দুইজনে মিলে ছেলেটাকে ভ্যানে তুললো। তারপর হসপিটালের উদ্দেশ্য রওনা হলো। যেতে যেতে আবারো ইঞ্জিন ভ্যান চালকটি ভাবনার রাজ্যে চলে গেলো..
সে ভাবতে লাগলো মানুষ এই ভালো এই খারাপ। গ্রামের মানুষরাই বেশী কষ্ট করে..শহরের মানুষেরা কতবেলা অবধি পড়েপড়ে ঘুমোয়। এই সাতপাঁচ ভাবছে হঠাৎ তারমনে হলো ভ্যানটা কেমন আগের থেকে ভারী-ভারী লাগছে। 
চারজন মানুষের যা ওজন হয় তার থেকেও বেশী ওজনের মনে হচ্ছে ভ্যানটি। আর সবথেকে বড়োকথা পেছন থেকে একটা মরা পচার তীব্র গন্ধ আসছিলো..যাকিনা সত্যিই অস্বস্তিকর। 

তো ওই চালক তখন একটা ছোটো ব্রীজের উপর দিয়ে যাচ্ছিলো নিচে একটা জলশয়। বেশী দুরত্ব নয়। মানে ব্রীজথেকে জলাশয়ের দুরত্ব চারহাত হবে। তো চালকের তখন কি মনে হলো সে পেছনে তাকালো..পেছনে তাকিয়ে দেখে যে..ছয়জন লোক ও সেই ছেলেটি আর তার বাবা তারা সকলে মিলে ওই হেল্পারটির দেহটিকে হিংস্র জন্তুর মতোন খাচ্ছে। চালক তখন মারাত্মক রকম একটা ঝটকা খেলেন..তিনি ভ্যানের ব্রেক কষতে চাইছিলেন কিন্তু ভ্যান আর দাঁড়ায়না। তাই তিনি কি করবে কি করবে ভেবে না পেয়ে ওই জলাশয়ে ঝাঁপ দেন।

উনি অজ্ঞান হবে হবে করছেন কিন্তু তখন ওনার এইরকম একটা অবস্থা যে ওনার অজ্ঞান হওয়ার মতোন সেই পরিস্থিতি তৈরী হয়নি। আর তার থেকে বড়ো কথা উনি বিশাল খাটতে পারে। উনি এতো সহজে ভেঙে পড়েন না। তবে এই বিষয়টিকে তিনি কিছুতেই মেলাতে পারছিলেন না। তিনি একে তো এই ঠান্ডার মধ্যে কল সাঁতরে সাঁতরে কোনো রকম ভাবে ডাঙায় উঠলেন..তিনি কোনো দিকে না তাকিয়ে সোজা ছুটতে লাগলেন। তার বুক বিশাল ধড়ফড় করছিলো..দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে একসময় উনার চোখ দুটো বুজে এলো..তবে চোখ বন্ধ করবার আগে উনি বাজারের কথা চিন্তা করছিলেন। এমন সময় তার একটা ফোন আসে..ওই ফোনটা পকেট থেকে বের করার সাথে সাথে তিনি অজ্ঞান হয়ে যায়।

অজ্ঞান হওয়ারই কথা। তিনি আর নিতে পারছিলেন না। সকালে যখন তার ঘুম ভাঙে সে দেখে বাজারে একটা মাচার মধ্যে। এই মাচায় সন্ধ্যাবেলায় সকলে বসে আড্ডা দেয়। তো ওই ইঞ্জিন ভ্যান চালকটির যখন ঘুম থেকে উঠেই সে তার হেল্পারকে আগে দেখতে পেলো। এছাড়া তার বড় ছেলে, এক চায়ের দোকানের দাদা সবাই রয়েছে।

তো তিনি যখন আস্তে আস্তে উঠে বসলেন তখন তার ছেলে জিজ্ঞেস করে তার কি হয়েছিলো??

তিনি ধীরেধীরে নিশ্বাস নেয়। আর সব বলতে থাকে।

সবশুনে তার হেল্পার তো পুরোই অবাক। আর হেল্পারের কথা শুনে ওই ইঞ্জিন ভ্যান চালকটি আরও অবাক হয়ে যায়।

ওই হেল্পার যা বললো।

তিনি আর ওই ইঞ্জিন ভ্যান চালকটি পাশেই শুয়ে ছিলেন।  হঠাৎ রাত ১.০০ টার দিকে তার মালিক স্বপ্নের মধ্যে কি উল্টোপাল্টা বলতে থাকে..তো একসময় সে ঘুমের মধ্যেই বকবক করতে করতে উঠেবসে তারপর সে পাগলের মতোন হাত দুটো সামনে নিয়ে দৌঁড়াতে থাকে। মানে দুর থেকে দেখলে মনে হবে যে, ছোটো বাচ্চারা যেভাবে বাইক চালায়..মানে হাত দুটো উঁচু করে। সেইভাবে তিনিও হাত দুটো উঁচু করে এক দৌঁড় দিতে লাগলেন। তো এই দেখে তার হেল্পার ও চেঁচামেচি করতে করতে তার পেছনে দৌঁড় দেয়। শেষে তিনি একটা জলাশয়ের পাশে গিয়ে ওই ইঞ্জিন ভ্যান চালকটিকে উদ্ধার করেন।

সবশুনে ইঞ্জিন ভ্যান চালকটি খুব অবাক হয়ে যায়। মানে কি হচ্ছিলো, ভোর রাতে তার সাথে কি হয়ে গেলো..সেইসব ভাবলেই তার গায়ে কাটা দিয়ে ওঠছে।

তবে চমক এখনো বাকি ছিলো। ওই হেল্পার আর ইঞ্জিন ভ্যান চালকের বড়ো ছেলে ওখন ভ্যান চালকটিকে ধরে ধরে ভ্যানের কাছে নিয়ে যাচ্ছিলো চালকটির চোখ গেলো এক জায়গায় প্রচুর লোক জড়ো হয়ে আছে সেইদিকে।

জায়গা হলো সেই জায়গা যেখানে তারা গতরাতে শুয়েছিলো। ওই ইঞ্জিন ভ্যান চালক বললো - ওখানে এতো ভীড় কেন? কি হয়েছে??

হেল্পার টি তখন বললো - বাবু..কাল রাতে তো আপনি ওইভাবে বকবক করতে দৌঁড় দিলেন..আপনার পেছন পেছন আমিও দৌঁড় দিলাম। যখন আপনাকে পেলাম তখন..অনেক খুঁজে দুইজনকে খুঁজে পেয়ে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে আপনাকে ধরে ধরে যখন বাজারের মাচাতে নিয়ে এলাম তখন এসে দেখি যেখানে আমরা শুয়েছিলাম সেইজায়গা তো রাস্তার ধারেই..তো ওখানে একটা লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই দোকানঘরে গিয়ে ধাক্কা মারে।
ভাগ্যিস আপনি দৌঁড় দিয়েছিলেন আর আপনার পেছন পেছন আমিও দৌঁড় দিয়েছিলাম নাহলে দুইজনের যে কি হতো বলা যেত না।

বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২০

প্রমাণ করতে পারবেন না গল্পের দ্বিতীয় পর্ব রামপুরহাট মেমো

প্রমাণ করতে পারবেন না গল্পের দ্বিতীয় পর্ব রামপুরহাট_মেমো
লেখক - মলয়_বিশ্বাস
বিষয় - ভূত ও রহস্যে
  

ঘড়িতে তখন ১২.৫০..গাড়িটা তখন রেলগেট খোলার অপেক্ষায়। এক নম্বর লাইনের এপাড়ে দাঁড়িয়ে আছে গাড়িটা..আর তাতে রয়েছে তিনজন লোক, ড্রাইভার সমেত চারজন। থানার উচ্চপদস্থ এক পুলিশ, একজন এম.এল.এ, আর একজন ব্যবসায়ী। গাড়িটা আজ কোর্টে যাবে। এই কোর্টেই একটা কেস চলছে একজন এম.এল.এ আর একজন ব্যবসায়ীর উপর।।

অন্যদিকে চার নম্বর লাইনের ওপারে দাঁড়িয়ে আছে vk এর নজরদারি লোকজনেরা। দুইজন মোটরসাইকেলে আর চারজন গাড়িতে। তারা প্রত্যেকেই অপেক্ষা করছে কখন রেলগেট-টা খুলবে। আর যেই গাড়িটাকে তারা অনুসরণ করছিলো সেইগাড়ি কখন তাদের ওভারটেক করবে। এরফলে ওই গাড়িটা যাতে এই কোর্টের দিকে যাওয়া গাড়িটির উপর আবার নজরদারি চালাতে পারে..

অনেকক্ষণ ধরেই vk এর লোকজনের গাড়িটা এই কোর্টের দিকে যাওয়া গাড়িটির উপর নজর রাখছিলো..শুধুমাত্র অভয়ের প্ল্যান মাফিক রেলগেটের রাস্তাটা ধরার আগেই মেন রাস্তার মোড়টা যেদিকে বাক নিচ্ছে সেখানে এসে গাড়িটাকে থামিয়ে দেয়..আর এমন নাটক করতে থাকে যাতে গাড়িটা খারাপ হয়ে গেছে।। আর এদিকে vk এর দলবলের লোকেরা গাড়ি থামানোর ভুল করেনি কারণ গাড়িটা যদি একবারও পুলিশের সন্দেহ মাফিক চেক হয় তো গাড়িটির ভেতরের থাকা বে-আইনি অস্ত্র গুলো পুলিশের নজরে চলে আসার ভয় আছে..তাই vk এর দলবলের লোকেরা এই কোর্টের দিকে যাওয়া গাড়িটির ড্রাইভার কে ইশারা করে বলে দিলো..যে তারা সকলে গেটের ওপারে দাঁড়িয়ে আছে, ব্যস তারপর যেই রেলগেটের সাইরেন বাজতে লাগলো ওমনি vk এর লোকেরা সিগন্যালে না দাঁড়ানোর ঝামেলায় তাদের গাড়িটির গতি বাড়িয়ে চার নম্বর লাইনের ওপারে নিয়ে গেলো..ওই গাড়িতেই অভয় ছিলো..সাথে আরও কয়েকজন vk এর সদস্য। 

এরপর তারা গাড়িটি থামিয়ে পেছনে তাকিয়ে দেখে গেট নেমে গেছে, আর এক নম্বর লাইনের ওপারে কোর্টের দিকে যাওয়া গাড়িটি দাঁড়িয়ে আছে।

তিন নম্বর লাইন দিয়ে তখন যাচ্ছিলো রামপুরহাট মেমো প্যাসেঞ্জার, আর চার নম্বর দিয়ে তখন জসিডি পাস করছিলো।

এরপর ট্রেন চলে গেলো তারপর গেট খুললো, এবং ওই এম.এল.এ সাহেবের গাড়িটি আবার এগোতে লাগলো।

অভয়ের মনে শান্তির ছাপ।
অভয় তখন চোখ বুজে পরবর্তী পরিস্থিতির চিন্তায় মগ্ন, অভয় হঠাৎ ভাবতে থাকে..vk এইরকম একটা কাজ দিলো করতে।

অভয় শহরের সবথেকে বড়ো ক্রিমিনাল একটা গ্রুপের সদস্য হতে চায়, সেইজন্য দলের হেড..অভয়ের যোগ্যতা দেখার জন্য অভয়কে তিনটে কাজ দেয়।

যার প্রথম কাজ ছিলো..পুলিশের চোখ বাঁচিয়ে খড়গপুরে একটা ব্যাগ ডেলিভারি করা। এই বিষয়ে আমার এই প্রমাণ করতে পারবেন না গল্পের প্রথম পর্ব " ঘাটশিলা মেমো " তে উল্লেখ আছে।

এখন গল্পের দ্বিতীয় পর্ব - " রামপুরহাট মেমো প্যাসেঞ্জার "

অভয়ের দ্বিতীয় কাজ ছিলো.. একটা এম.এল.এর গাড়িতে বোম লাগানো।

গোড়া থেকে বলছি..
গল্পের নায়ক প্রথম কাজটি সফল ভাবে সম্পুর্ণ করবার পর..তাকে আবার vk ডাকে নিজের ডেরায়।।
অভয়কে দ্বিতীয় কাজ দেয়..একটা গাড়িতে একটা পেন লাগাতে হবে..যেটার মধ্যে তেজস্ক্রিয় পদার্থ আছে যেটা বোমার বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

তো এই কাজটা শোনার পর তো..অভয় একপায়ে রাজি হয়ে যায়। কিন্তু আসল টুইস্ট আসে তো এরপরেই..আসুন দেখেনি।

অভয় - হ্যাঁ ঠিক আছে.. গাড়িতে একটা পেন লাগাতে এতো অসুবিধা হবেনা।

vk - ওরে বোকা ছেলে..একটা সিম্পল বোমা লাগানোর ব্যাপার হলে..আমি অনেক আগেই লাগিয়ে দিতে পারতাম কিন্তু এরফলে একজন মরবে..আমি তিনজনকেই মারতে চাই..

আর আমার কাছে সবসময় প্ল্যান - বি এর উপায় থাকে..আমি আমার দলের সকল মেম্বারদের থেকেও সাজেশন চাইছি..কারণ একে তো তিনজন অনেক হাই সিকিউরিটির অধীনস্থ  তারপরে এদের তিন জনকে একসাথে মারলে তবেই vk এর রাস্তা পরিস্কার হবে..কিন্তু এদের তিনজনকে একসাথে করা, আর তাদের হত্যা করা।। এবং এদের আইনজীবী দের সহ কোর্টের সকল আইনজীবী একটু ডেমো দেখাতে চাই আমি..যাতে আমার বে আইনি জমি দখলের ব্যাপারে এরা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনা।

এখন তুই কি পারবি?
নাহলে হার স্বীকার কর।

অভয় - নিজেকে প্রমাণ করার জন্য আমি সবকিছু পারবো।


vk - তাহলে তুই রাজি বলছিস??

(অভয় মনে মনে ভাবলো..এটাতো সোজা  একটা কাজ, চুপচাপ ভাবে যাবে আর চলে আসবে)

কিন্তু অভয়ের মাথায় হাত পড়লো vk যখন বললো....যে ৯ দিন পর ওদের vk এর কেস কোর্টে উঠবে আর এই কটা দিনের মধ্যে গাড়িতে এই বোমটা লাগানো হবে যেটা রিমোট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। 

এইসব শুনে অভয়ের অবস্থা তো একেবারে..যাচ্ছেতাই হয়ে গেছিলো.. vk অভয়ের নিরব মুখ দেখে বললো..

তুই না পারলে, আমি অন্য কাউকে দিয়ে করিয়ে নেবো।
বল??

অভয় তখন শূন্যে দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ উপরের দিকে তাকায়। এবং অভয় রাজি হয়ে যায়।


এরপর অভয় vk এর থেকে পেনটা হাতে নেয় যেটার মধ্যে ওই তেজস্ক্রিয় পদার্থ রয়েছে যেটাকিনা বোমার কাজে ব্যবহৃত হয়..তারপর অভয় যখন এই ছোটো বোমাটার  রিমোট-টা vk এর থেকে চায়....

তখন vk - অভয়কে বলে..রিমোট থাকবে তার নিজের লোকের কাছে।

ওই গাড়িটা কোর্টে যাওয়া মাত্রই কোর্টের ভেতরেই ওর গল্প হয়ে যাবে।

গাড়িটার একশো মিটারের মধ্যেই বোমাটার রিমোট থাকবে..আর সেই বোমায় গিয়ে আঘাত করবে একটা রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি।। যেই গাড়িটা অনেক দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে..এই রিমোট কন্ট্রোল গাড়িটা দেখতে খেলনার মতোন হলেও..এটিকে অনেক দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

গাড়িটার কাজ কিছুই না..ওই গোটা রিমোটে একটাই সুইচ লাগানো। যেটা খুব সংবেদনশীল। মানে ওই সুইচে একটা যদি টোকাও লাগে আর আশেপাশের একশো মিটারের মধ্যে ওই রিমোট নিয়ন্ত্রিত বোমা থাকলে সেটি বিস্ফোরক হতে বাধ্য।

vk এর লোকেরা নিরাপত্তার জন্য দূর থেকে এই রিমোট কন্ট্রোল গাড়িটার মাধ্যমে বোমাটার রিমোটে গিয়ে ধাক্কা দেবে। এরফলে বোমটা ফেটে উঠবে।

অভয় ওই বোমাটি নিয়ে এরপর বাড়ি চলে আসে। vk অভয়ের মোবাইলে একটা মেসেজ করে দেয় আর তাতে বলে দেয়.. কোন থানায়..আর কখন সেই গাড়ি এসে পৌঁছাবে। আরও অনেক বিষয়াদি। 

আর ভাবতে থাকে কিভাবে কি করবে না করবে।। এইভাবতে ভাবতে একটা দিন চলে যায়।। হাতে মাত্র আর আটটা দিন।

অভয়ের মুখটার এইরকম অবস্থা দেখে..শেষে প্রতাপ বলেই ফেললো.. 

কিরে??
তোর মন খারাপ..

অভয় - নারে একটা জিনিস চিন্তা করছি।

প্রতাপ - কি?? তোর দ্বিতীয় কাজটার ব্যাপারে।

অভয় - হ্যাঁ কিন্তু  কাজটা করবো কিভাবে? তাও আবার থানায়..আগে আমাদের থানায় ঢুকতে হবে..তারপরের ব্যবস্থা তারপর।

প্রতাপ - তুই কি পাগল হয়ে গেছিস? তুই যেই কাজের চেষ্টা করছিস তার পরিনাম কিন্তু সাংঘাতিক..

হয় তোকে কোনো ক্ষমতাবান লোকের তত্ত্বাবধানে যেতে হবে।। আর নাহলে তোকে কোনো একটা নকল কেস নিয়ে ওইদিন থানায় হাজির হতে হবে।। আর নাহলে ওই থানায় তোকে কোনো মিস্ত্রি হোক কিংবা সকালের যে মিউনিসিপালিটির ভ্যানটা থানায় যায় সেই ভ্যানের সাফাই কর্মী হয়ে ঢুকতে হবে..আরে আমার মাথায় কিছু আসছেনা কিভাবে থানায় ঢুকে তুই পেনটা ওই গাড়িতে লাগাবি..সিসিটিভি ক্যামেরা, পুলিশ এদের চোখে ধুলো দিবি কিভাবে?  কিভাবে ওদের চোখ বাঁচিয়ে এই কাজটা করবি?আমার মাথায় কিছু আসছেনা।

অভয় - হাসে একটু।। ভাবতে থাকে তার সেই মানসিক বয়সের দিক থেকে প্রতাপ অনুন্নত সেই জায়গাই ও যে মানসিক সাপোর্ট অভয়কে দিচ্ছে অভয়কে নিয়ে এতো ভাবছে সেটা অভয়ের কাছে সোনার তুল্য।

তবে অভয় এই দুই নম্বর কাজটা নিয়ে খুশি নয়..তবে

অভয় অনেক ভেবে..অনেক চিন্তে শেষে ভেবেই ফেললো থানায় গিয়ে কিভাবে কি করতে হবে।।

এই আটদিন অভয়..থানাতে কুরিয়ার বয় হিসেবে গিয়েছিলো..থানায় চিঠি দিতে। সেই চিঠি গুলো অবশ্যই নকল চিঠি ছিলো....অভয় চিঠি গুলো নিজের হাতে লিখতো আর বিভিন্ন নাম আর ঠিকানা দিয়ে চিঠি গুলো লিখতো..আর কুরিয়ার করে দিত।।

অভয় তখন সেখানকার প্রচলিত স্থানীয় একটা কুরিয়ার সংস্থার মালিককে অনেক রিকুয়েষ্ট করে..ডেলিভারি বয় হিসেবে নিজেকে নিজুক্ত করলো....

অভয়-কে সেই কুরিয়ার সংস্থার বাকি ডেলিভারি বয় রা..নিদিষ্ট পিনকড ভুক্ত একটা জায়গা দিলো তার কাজের সুবিধার জন্য।

ব্যস ভেতর ভেতর এই পরিকল্পনা করতে করতে শেষমেশ এসেই গেলো সেই ফাইনাল দিন। যেদিন বোমাটা লাগাতে হবে গাড়িতে তাও আবার থানার ভেতরে।। অভয় আর প্রতাপের আগে থেকেই সব কিছু ঠিক ছিলো..পরিকল্পনা অনুযায়ী সব এগোচ্ছিলো।।

গাড়িটা থানায় এসে থামা মাত্রই..সেই এম.এল.এ আর ওই ব্যাবসায়ী থানার ভেতরে চলে গেলো।।
আর থানা থেকে এম.এল.এ আর ব্যবসায়ী ওই অফিসারের কিছু নিয়মবিধি ও জরুরি কাগজে সই করে..তারা কোর্টে রওনা দেবে। হাতে বেশী সময় নেই। যতটুকু সময় আছে ততটুকু সময় কাজে লাগাতে হবে।।

অভয় থানার মধ্যে প্রবেশ করে..থানার গেটের অনেকটা ভেতরে আছে ওই গাড়িটা..অভয় পরিকল্পনা অনুযায়ী চিঠি দিয়ে একটা সাইন করাচ্ছে একজন পুলিশ কর্মীকে দিয়ে গাড়িটার ঠিক সামনে..আর ঠিক তখনি থানার ভেতর থেকে আসছিলো প্রতাপ। প্রতাপ একটা মিথ্যা মোবাইল চুরি হওয়া নিয়ে একটা ডাইরি করতে এসেছিলো..
অভয়ের সাথে প্রতাপের চোখে চোখ পড়লেই..দূর থেকে ইশারা করে অভয়.. তার বন্ধু প্রতাপ কে..যে কাজটা দ্রুত সারতে হবে।

প্রতাপ অভয়ের সামনে দিয়ে আসার সময় ইচ্ছা করে নাটক করে পড়ে যাওয়ার ভান করে..এবং অভয়কে একটা জোরে ধাক্কা দেয়।
অভয় তখন সুযোগ বুঝে পেনটাকে হাত দিয়ে নিচে ফেলে দেয়..

এরপর অভয়..আর ওই পুলিশ কর্মী একটু জ্ঞান দিলো প্রতাপ-কে.. যে একটু দেখে চলবেন তো..

প্রতাপ তখন একটা ছোটো সরি বলে সেখান থেকে যায়।

এখান থেকেই পরিকল্পনা শুরু। অভয় তখন ওর প্যান্টের পকেটের ডান পকেট দিয়ে সেই তেজস্ক্রিয় পদার্থ যুক্ত পেনটা বের করে..সাথে সাথে গাড়ির নীচে হাত দিয়ে..পেনটা খোঁজার ভান করতে থাকে..আর আসল পেনটার গাড়িটার নীচে লাগিয়ে দেয়। পেনের ভেতর শক্তিশালী চুম্বক থাকায়..সহজে গাড়ির নীচে লেগে যায়।।আর অভয় তখন নীচে পরে থাকা পেনটাকে তুলে নিয়ে এসে.. পুলিশ টাকে দিয়ে ডি.আর.এসে সাইন করিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। বেচারা পুলিশ জানতেও পারলোনা যে গাড়ির নীচে এতো কিছু হয়ে গেলো।।

অভয়ের ভাবনার রাজ্যে থেকে এদেশে ফিরে আসতে বেশি সময় লাগলোনা। একটা মস্ত ঝাঁকুনি দিয়ে গাড়িটা দাঁড়িয়ে গেলো।

অভয় বুঝলো এইবার একটা কিছু হতে চলেছে। মিনিমাম অভয়ের গাড়িটা কোর্টের প্রবেশ পথ থেকে 
৬০০ মিটার দূরে। গাড়িটার দুইদিকে দুটো মোটরসাইকেল  দাড়িয়ে এম.এল.এর গাড়িটার কোর্টে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলো!




কোর্টগামী পথের গাড়িটা যেই কোর্টের ভেতরে প্রবেশ করলো..ওমনি রিমোটের সাহায্যে নিয়ে গাড়িটিকে কোর্টের ভেতরেই উড়িয়ে দেওয়া হলো..

আর এই কাজটি বাইকে যেই দুইজন বসেছিলো তারাই করলো..তারা কাজটি করে দ্রুত বাইক স্টার্ট দিলো..আর অভয় যেই গাড়িটিতে আছে..মানে দুটো বাইকের মাঝে.. ওই দুই বাইক ওয়ালা বন্ধুক নিয়ে..ওই গাড়ির দিকে নিশানা করে..এলোপাথাড়ি গুলি চালালো..গাড়িতে যেই চারজন ছিলো তাদের উপর..অভয় মারাই যেত কিন্তু কে যেন গাড়ির মধ্যেই অভয়ের মাথা চেপে নিচের দিকে ধরে ছিলো..যতক্ষণ গুলি চলছিলো..
যেই গুলি চালানো শেষ হলো ওমনি ওরা দুইজন বাইক আরোহী যারা vk এর লোক..ওরা দ্রুত চলে গেলো সেখান দিয়ে।। আর সাথে সাথে অভয়ের ঘাড়-টাও কে যেন ছেড়ে দিলো..অভয় যখন মুখ তুলে গাড়ির বাকি তিনজনের দিকে তাকায় তখন সে দেখে বুঝলো ওদের মধ্যে কেউ জীবিত নেই।

পুলিশের ঝামেলায় না পরার জন্য....অভয় দ্রুত সেই স্থান পরিত্যাগ করে।।

সন্ধ্যাবেলায় vk এর ডেরায়.. 

অভয় - আমিতো আপনার কাজ করতে গেছিলাম..আপনার ছেলেরা আমার উপর গুলি চালালো কেন? আর ওইযে আপনার তিনজন কর্মী মারা গেছে..আপনার সাথে কাজ করার এইটাই কি প্রতিদান।

vk - নিজের বন্দুক-টা বের করে..অভয়ের দিকে তাক করে..বন্দুক-টা হাত দিয়ে ঘোরাতে লাগলো..আর বললো..

 দেখ অভয়..মানছি আমার নির্দেশে ওরা গুলি চালিয়েছে..তবে আমি তোর উপর গুলি চালাতে বলিনি।। আর তুই যে বেঁচে ফিরেছিস..এই অনেক।। কারণ এরফলে ছোটো করে তোর একটা পরীক্ষাও নিয়ে নেওয়া হলো..কারণ এই লাইনে সবসময় চোখ খোলা রাখতে হয়।।

তোর কাজের নিষ্ঠা আর সচেতনতা আমার খুব পছন্দ হয়েছে।। আমি খুশী হয়েছি।।
ইচ্ছা ছিলো আমার এই বড়ো রকমের জয় উপভোগ করার। কিন্তু আজ আরও একজন খুব কাছের মানুষকে আমি খুঁজে পাচ্ছিনা। তাকে নিয়ে আমজ খুব চিন্তিত কারণ সুন্দরবনের দিকের ব্যবসা সে দেখতো.. 
তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা।
তাই আজকের এই আনান্দ উপভোগ করতে পারলাম না। 
এখন এখান দিয়ে যা, আর যাওয়ার সময় তোর পুরস্কার-টা নিয়ে যাস।

ওই দেখবি..বাইরের টেবিলে রাখা আছে একটা খামে।।

যা, মজা কর। খুব তাড়াতাড়ি তোকে তিন নম্বর কাজের জন্য খবর পাঠাবো।।

অভয় তখন ঠিক আছে বলে সেখান দিয়ে প্রস্থান করে..আসার আগে টেবিলের উপরে থাকা খামটা নিয়ে হাসিমুখে বাইরে বেরিয়ে আসলো।
আজ vk এর আরও একজন প্রিয় লোক নিখোঁজ..
অভয় তখন সকালের স্মৃতি গুলো ঝলকে ঝলকে মনে করলো..

সেইযে এম.এল.এর গাড়িটাকে প্ল্যান মাফিক দ্বার করানো..এবং গাড়িটিকে যারা নজরে রাখছিলো..তাদেরকে আগে গেট পার করার রাস্তা করে দেওয়া....

সবাই তো এইটুকুই জানেন..ভেতরে ভেতরে এই প্ল্যান-টা কিন্তু এম.এল.এ আর ওই অফিসার এবং ওই ব্যবসায়ী সকলেই জানতেন।

আপনারা নিশ্চয় জানেন যে..ওই এম.এল.এর গাড়িটা রেলগেটে যাওয়ার আগে একটু দাঁড়িয়ে গেছিলো..ওই গাড়ির ড্রাইভার এমন ভাব করছিলো যেন গাড়িটি খারাপ হয়ে গেছিলো.. আর এদিকে পুলিশের ঝামেলা এড়ানোর জন্য vk এর লোকজনেরা গেটের ওপারে চলে যাওয়া মাত্রই রেলগেট পড়ে যায়।

তখন অভয় সহ vk এর সব লোকজনেরা চার নম্বর লাইনের এপাড় থেকে এক নম্বর লাইনের ওপাড়ে দেখছিলো.. ঠিক তখনি তিন নম্বর লাইন দিয়ে রামপুর হাট মেমো প্যাসেঞ্জার যাচ্ছিলো..

আর এদিকে ওই এম.এল.এর গাড়িটা যখন রেলগেটের রাস্তাটাই আসা মাত্রই পেছন দিয়ে একই নম্বর প্লেটের আটটা গাড়ি একি রঙের..ওই এম.এল.এর গাড়িটার পেছনে, বাঁপাশে, ডান পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেলগেটের সামনে এসে দাঁড়ালো.. আর ওই রেলগেটের রাস্তার মুখে একটা বড়ো লরি..রাস্তার মুখে এসে দাঁড়িয়ে গেলো..এরফলে পেছন দিয়ে কোনো গাড়ি আসতে পারবেনা..আর যে আটটা গাড়ি ওই এম.এল.এর গাড়িটার আশে পাশে ছিলো..এরফলে পেছন দিক থেকে এম.এল.এর গাড়িটাকে দেখার কোনো রাস্তায় নেই।

এখানেই ওলট-পালট হয়েছে একটু।।

 এম.এল.এর গাড়ির ড্রাইভার সহ.. ওই অফিসার,ব্যবসায়ী, আর এম.এল.এ কে..গাড়ি থেকে বের করে ওই রামপুর হাট মেমো প্যাসেঞ্জারে তুলে দেওয়া হয়েছে..কারণ রেলগেটের গায়েই স্টেশন..আর সেইদিন তিন নম্বর আর চার নম্বর লাইনে কাজ হচ্ছিলো এইজন্য ট্রেন খুব আস্তে চলছিলো..যেহেতু মেমো ট্রেনের বগি গুলোয় সিড়ি থাকে তাই খুব সহজেই ওরা সকলে টেনে উঠে যায়।
কিন্তু বলির পাঁঠা হয়ে দাঁড়ায় vk এর খাস কর্মী যেকিনা vk এর সুন্দরবনের দিকের সব ব্যবসা দেখতো।


ব্যস তারপরেই রামপুর হাট প্যাসেঞ্জার তিন নম্বর লাইনে আর চার নম্বর লাইন দিয়ে জসিডি পাস করছিলো।।

আপনারা নিশ্চয় জানেন..অভয় ট্রেন খুব ভালোবাসে..আর তাছাড়া অভয় ট্রেনের টাইম টেবিল সহ..ট্রেনটি কত নম্ভর প্ল্যাটফর্ম দিয়ে বেশী যায়, কটার মধ্যে আসে স্টেশনে এগুলো সব অভয়ের বেশীরভাগটাই জানা।
তাই এই নিখুঁত পরিকল্পনা সাজাতে অভয়ের বেশী পরিশ্রম করতে হয়নি..

 আপনারা হয়তো ভাবছেন..পুলিশ অভয়কে কিছু বললোনা আবার অভয় ওদের সকলকে ট্রেনে উঠিয়ে দিলো..তারমানে এটা একটা প্ল্যান.. 

হ্যাঁ এটা একটা প্ল্যান.. 
অভয় পুলিশকে আগেভাগেই সব জানিয়ে এই মিশনে নেমেছে..তবে ওই পুলিশটি অভয়ের পূর্ব পরিচিত। একদিন বাসে অভয়ের মানিব্যাগ হারিয়ে গেছিলো..
সেইদিন অভয় নিজের গ্রামে যাচ্ছিলো বাসে করে..এক ভদ্রলোক বাসে উঠে কেমন যেন উশখুশ করছিলেন..অভয় বুঝতে পারে যেবেই লোকটির হয়তো বাসে উঠলেই বমি পায়, সেজন্য অভয় নিজের জানলার সামনের জায়গা-টা ওই লোকটিকে দিয়ে দিলেন। আর এদিকে সদ্য মানিব্যাগ হারা অভয়ের কাছে বাস কন্ডাকটর যখন টিকিট দিয়ে ভাড়া চাইছিলেন..তখন অভয়ের কাছে টাকা ছিলোনা..কারণ বাসেই অভয়ের টাকা চুরি হয়ে গেছে।।

যেহেতু অভয় ওই লোকটিকে জাননাল সামনে বসতে দিয়েছিলো..আর এই বাসটা অনেক দূরপাল্লার বাস ছিলো..ওও ভদ্রলোকটি অভয় কে দেখে বুঝলেন ছেল্বটি খুব ইনোসেন্ট.. সেইজন্য অভয়ের বাস ভাড়াটা সেদিন উনিই দিয়ে দিলেন।
ব্যস তারপর থেকে দুইজনের-ই বন্ধুত্ব হয়ে যায়।

এরপর অভয় ওই ওদের আড্ডার জায়গা দিয়ে বেড়িয়ে রাস্তায় এদিক-ওদিক তাকিয়ে দূরে দেখতে পেলো..তার নিজের বন্ধু প্রতাপ।

অভয় ভালোমতোই জানে যে তার হাতে vk এর দেওয়া খামের ভেতরে টাকা আছে।

প্রতাপের দিকে দৃষ্টি দিয়ে অভয় এগোতে লাগলো..

আর ওইযে vk এর খাস লোকের বিষয়টা..ওই অফিসার যেকিনা অভয়ের বন্ধু সেই অফিসার বেশ কয়েকদিন আগে একটা বে-আইনি ট্রাকের উপর কাজ চালাচ্ছিলো..সেখানে vk এর নাম সহ সুন্দরবনে vk এর অন্তত প্রিয় একজনের নাম জড়িয়ে পরে..সেই কেস চালাতে চালাতে পুলিশ শেষমেশ একটা গোপন ডেরায় হানা দেয়..সেই ডেরায় অনেকে ধরা পড়লেও..পালিয়ে যায় vk এর সুন্দরবনের দিকে ব্যবসা সামলানো অন্তত প্রিয় একজন..তারসাথে আরও কয়েকজন ছিলো..

ওই ডেরার বাইরেও বেশ কিছু পুলিশ ছিলো..তারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পুরো জায়গাটাকেই ঘিরে রেখেছিলো..এইজন্য তারা সকলে ধরা পড়ে..যারা পালিয়ে গেছিলো..ধরা পড়ে vk এর প্রিয় কর্মী।
একটা গোপন আস্থানায় পালিয়ে যাওয়া কর্মীদের রাখা হয়..পুলিশের বিভিন্ন রকম ডিগ্রি.. ব্যবহার করে..এক একজনের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রমাণ নেওয়া হয়। সেগুলোকে ক্যামেরাবন্দী করা হয়।
এরপর vk এর ওই খাস কর্মীকে..ছেড়ে দেওয়ার জন্য..ওর সাথে একটা চুক্তি করা হয়।

যদি সে vk এর এই বে আইনি কাজের বিবরণ গুলো..কোর্টে ঠিকঠাক ভাবে বলে তবেই তাকে ছাড়া হবে। এইজন্য ওই এম.এল.এর গাড়িটা যখন রেলগেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলো..তখন ঠিক ওই গাড়িটার পাশ থেকে একজন বেরিয়ে আসে..যার কোমড়ে বাঁধা একটা বোম..আসলে ওটা ছিলো একটা খেলনা তবে টোপ হিসেবে ওটা ব্যবহার করা হয়েছে।। অভয়ের সেই অফিসার বন্ধু ওই বোমটা লাগিয়ে দিয়েছিলো vk দলের সবথেকে প্রিয় কর্মীর গায়ে। অফিসার সেই লোকটিকে বলেছিলো....যদি সে কোর্টের ভেতরে গিয়ে vk এর ব্যাপারে সত্যি কথাগুলো স্বীকার করে..তবেই তাকে ছাড়া হবে। আর নাহলে বোমাটা ফেটে যাবে। তাকে আরও বলা হয়েছিলো এইবোমার গায়ে বেশ কয়েকটা সেন্সর লাগানো আছে..যদি বাইরে থেকে খোলার চেষ্টা করা হয় কিংবা কোনোরকম উনিশ-বিশ হলে বোমটা নিজে থেকে ফেটে যাবে।

তাই যখন ওই এম.এল. এ সহ ব্যবসায়ী আর থানার অফিসার-টা রামপুর হাট মেমোতে উঠে গেলো..তখনি ওই vk এর দলের প্রিয় কর্মীটি পাশেএ গাড়িটা থেকে বেড়িয়ে ওই এম.এল.এর গাড়িটায় উঠে বসলো।। 

তার গন্তব্য ছিলো..কোর্ট 
একটু উনিশ-বিশ হলেই যে তার জান চলে যাবে সেটাসে ভালোভাবেই জানতো..আর ওই গাড়িটার মধ্যে রাখাছিলো..তিনটে লাশ.. ওই অফিসার...মর্গ থেকে এনেছিলেন..যাদের বয়স ও উচ্চতা পুরো অবিকল ওই এম.এল.এ,অফিসার আর ওই ব্যবসায়ীটার মতোন।।
ওদেরকে ঠিক সেইসকল জামা ও প্যান্ট পড়িয়ে..ওই গাড়িটায় রাখা হয়..


কাজেই গাড়িটা যখন কোর্টে গিয়ে..বিস্ফোরণের স্বীকার হয়..তখন ওই ড্রাইভার আসনে থাকা vk এর প্রিয় কর্মী সহ বাকিদের লাশ তীব্র ভাবে জ্বলে যায়। তাই লাশগুলো সনাক্ত করা খুব কঠিন...তবে বলা বাহুল্য এম.এল.এ সাহেব আর বাকি দুইজন যেহেতু ওই গাড়িতেই শেষ সময়টুকু ছিলো..তাই সাধারণ মানুষের মনে একটা কথাই আসবে যে..গাড়িটায় মৃত মানুষেরা বরং আর কেউ নয়..সেই এম.এল.এ এবং বাকি দুইজনের।

আর এই পুরো কাজটা হওয়ার আগে..vk এর দলের প্রিয় ওই কর্মীটাকে দিয়ে একটা সিক্রেট কনফেশন ভিডিও বানানো হয়..

ভিডিওটাতে সে বলছে যে..
আমার নাম অমিত..আমি আজ কোর্টে vk এর বিরুদ্ধে সব প্রমাণ দিতে যাচ্ছি..আমি এই ভিডিও-টা একটা ফেসবুক পেজের রাত ৯.০০ টায় সিডিউল করে পোস্ট করে দিলাম..যদি বেচে ফিরি তবে আমি বাড়ি এসে ওই ভিডিও-টা ডিলিট করে দেবো..আর যদি বাড়ি না ফিরি আর ভিডিও-টা সোশ্যাল মিডিয়াতে অটোমেটিক পোস্ট হয়ে যায়..তাহলে ভাববেন vk ইই আমাকে মেরে ফেলেছে।

ভিডিও-টা এতোটা নিখুঁত ভাবে বানানো হয় যে কেউ বিশ্বাস করতে পারবেনা যে এটা প্ল্যান মাফিক ভিডিও-টি বানানো। এছাড়া ভিডিও-টিতে অমিত এর আগে যে যে নোংরা কাজ করেছে তার কোনো বর্ণনা দেওয়া হয়নি।। সেইসকল কাজ এতোটাই ঘৃণার যে তা লিখে প্রকাশ করা যায়না। এইজন্য বলির পাঁঠা হিসেবে অমিত-কেই বাছে সেই অফিসার।
তারআগে নিজেকে শান্তনা দিয়ে নেয় সে অফিসার..যে একশোটা দোষী শাস্তি পেলেও যেন তাদের মধ্যে একজন নিরপরাধ কেউ শাস্তি না পায়। 

তাই যে দোষী তাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য এই অভাবনীয় পরিকল্পনা চিন্তা করে সেই অফিসার। যেহেতু সবকটা লাশ পুরো জ্বলে গেছে তাই বলা মুস্কিল যে..লাশ গুলোর আসল পরিচয় কি..
ফরেনসিক বিভাগ তদন্তের রিপোর্ট আসবে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই।।

এই পুরো ঘটনা গুলো অতি সাবধানতার ও মাস্টার প্ল্যানের সাথে করা হয়েছে..অমিত কে কিডন্যাপ করা..তাকে দিয়ে ভিডিও বানানো..সেই ভিডিও তারই মোবাইল দিয়ে ছাড়া। ভি.পি.এন ইউস করে ভিডিওটা ছাড়া হয়..
যেইঘরে অমিত ছিলো..সেইঘরে যারা যারা গেছিলো তারা সকলে গ্লাভস ব্যবহার করেছিলো..অফিসার সহ আর যারা যারা এসেছিলো..তারা প্রত্যেকে যার যার মোবাইল বাড়িতে রেখে এসেছিলো..ওই কনফেশনের ভিডিও-টা অমিতের ফোনে রেকর্ড করে..সেটিকে যখন ফেসবুক পেজে সিডিউল করা হয়..তারপরেই অমিতের ফোন বন্ধ করে সেখান থেকে তাকে দ্রুত সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়..যাতে কোনোরকমে ঝামেলায় তাদের না জড়াতে হয়। 

 এদিকে এরপরের গল্প গুলো হেব্বি ভাবে..সাজানো হয়..অভয় vk এর ডেরা থেকে বাইরে চলে আসার বেশ কিছুক্ষণ পর অমিতের সিক্রেট কনফেশন ওয়ালা ভিডিও-টা কোনো একটা ফেসবুক পেজে পোস্ট হয়। যেই পেজের ওনার ছিলো অমিত নিজেই। সিডিউল অনুযায়ী ভিডিওটি অটোমেটিক পোস্ট হয়ে যায়।
আর সেই ভিডিও প্রচুর ভাইরাল হয়।

আর এদিকে ফরেনসিক সাইন্সের রিপোর্ট চলে আসে..সেখানে শুধু ওই গাড়ির চালককের লাশের হাতের ছাপ ও ডি.এন.এ ক্রিমিনাল রেকর্ডে থাকা বিভিন্ন ব্যাক্তির সাথে মিল খোঁজার সময়..অমিতের নাম ও ছবি উঠে আসে..যেহেতু অমিত অনেক আগে থেকেই এসব বে-আইনি কাজের সাথে যুক্ত ছিলো। তাই তার ডেটা ক্রিমিনাল রেকর্ডে জমা ছিলো।

পুরো গল্পটা এইভাবে এখন পাবলিকের কাছে আসে যে..
ওই অমিত vk এর বিরুদ্ধে প্রমাণ দিতে গিয়েই মৃত্যুর স্বীকার হয়। এদিকে vk এর বিরুদ্ধে এম.এল.এর কেসটাও ছিলো..

প্রশাসন vk এর উপরে চাপ বাড়াতে থাকে।।


আচ্ছা অভয়ের এসব করছে তার স্বার্থ কি?

কেইবা অভয়ের ঘাড়-টা শক্ত করে গাড়িতে টেনে নীচের দিকে নামিয়ে দিয়েছিলো??

আর অভয় পুলিশ কে সাহায্যে করছে আবার vk এর কাজও করছে..অভয়ের উদ্দেশ্য-টা কি??

এতকিছুর পরেও অভয় কোনো বড়ো বিপদে পড়বেনা তো??

প্রশ্ন তো অনেক..উত্তর তো আমাদের কেই বার করতে হবে। এরপরে অভয়ের কিহলো
সেটা জানতে হলে আমার গ্রপে জয়েন করুন আর লেখা এই " প্রমাণ করতে পারবেন না " গল্পটির তৃতীয় পর্বটির জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

আর যারা যারা আমার এই গল্পটির প্রথম পর্ব ঘাটশিলা মেমো গল্পটি পড়েন-নি..তারা অবশ্যই গল্পটি পড়ে নেবেন।

মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২০

"প্রমাণ করতে পারবেন না" গল্পের প্রথম পর্ব - " ঘাটশিলা মেমো "

প্রমাণ করতে পারবেন না গল্পের প্রথম পর্ব - (ঘাটশিলা মেমো)
এইখানেই ফেলে দে লাশটাকে!
মালটা বোবা ছিলো তাই বেশী ঝামেলা পোহাতে হয়নি....চল এখান দিয়ে তাড়াতাড়ি কেউ দেখে ফেললে আবার ঝোল হয়ে যাবে....

কিন্তু ওই মেয়েটা যদি পুরোপুরি না মরে তাহলে তো আমরা ফেসে যাবো..

এই তোর মাথা ঠিক আছে? যা অত্যাচার হয়েছে..যে ওই অত্যাচার দেখবে সেও ঘাটে যাবে..আর তাছাড়া ও যদি কথা বলতে পারতো তাহলে নাহয় ব্যাপার ছিলো..এখন এসব আলোচনার সময় নয়..এখান থেকে দ্রুত চল..

কিছুদিন পর....

তোকে আমি তিনটে কাজ দেবো....যারমধ্যে প্রথম কাজটা হলো হাওড়া স্টেশন দিয়ে আমি কিছু জিনিস দেবো পার্সেল করে...ওই পার্সেলটা খড়গপুর পৌঁছাতে হবে, 
তবে....
তবে মনে রাখিস প্রথম কাজেই যদি ফেল হয়ে যাস তাহলে তোকে আর আমরা কেউ নিজেদের কাজে নেবোনা....আর আমি যে পার্সেল তোকে দেবো সেই পার্সেল যদি তুই ছাড়া অন্যকেউ খোলে কিংবা যদি হারিয়ে যায় তো তোকে জরিমানা গুনতে হবে..

এবার বল রাজি আছিস?

অভয় - হ্যাঁ রাজি আছি..

তো বেশ দেখ ওপাশের দেওয়ালে যে স্কুল ব্যাগ ঝুলছে ওর মধ্যে একটা পার্সেল আছে....কাল এটা ঠিকমতো পৌঁছে সন্ধ্যাবেলায় এই আড্ডায় দেখা করিস....আর শোন যদি তুই ধরা পড়িস আর কিংবা আমার সাথে কোনো গেম খেলার চেষ্টা করিস তো ভেবে নিবি কালকেই তোর শেষ দিন....মনে থাকে যেন....কাল  দুপুর ১.০০ টার মধ্যে খড়গপুর স্টেশনে পৌঁছে যাস....ওখান দিয়ে আমার লোক তোকে খুঁজে ঠিক ব্যাগটা নিয়ে নেবে....এখন যা।। আর যাওয়ার আগে মনে রাখিস এটা একটা খেলা....যেটার রুলস আমি চাইলেই পরিবর্তন হয়ে হবে....

নে..নে এবার যা।।

** অভয় ওখান থেকে চলে আসে....বাইরে বেড়িয়েই অভয়ের চোখ গেলো তার বন্ধু  প্রতাপের দিকে **

প্রতাপ - কি রে..কাজটা হলো নাকি হলোনা?

অভয় - হ্যাঁ একদম।
প্রতাপ - কি বলছিস কি....

অভয় - কালকে সকালে হাওড়া থেকে খড়গপুরে এই ব্যাগটি পৌঁছাতে হবে....

প্রতাপ - কি আছে এতে বোম টোম নেইতো? এই যদি ড্রাগস হয়, তো কি করবি? পুলিশ ধরলে তো অনেক দিনের জন্য গ্যারেজ হয়ে যাবো আমরা ভাই। তখন কিভাবে ছাড়া পাবো?

অভয় - ভাই আমি স্বইচ্ছায় গুণ্ডাদের দলের সদস্য হতে চাইছি....তাই এখন থেকে এইরকম আরও অনেক কাজই করতে হবে ভয় পেলে চলবেনা....নে নে, চল এবার কালকের প্ল্যান আমরা কালকেই দেখবো....

প্রতাপ - হ্যাঁ চল.... 

অভয় - অদূরে তাকিয়ে কাকে যেন হাত নাড়ল, আর অভয়ের মুখে হাসি ফুটে উঠলো....

প্রতাপ - তোর যে মাঝেমধ্যে কি হয়....দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভূত দেখলি নাকি?

অভয় - ভূত নয় রে ভাই..পেত্নী....হা..হা..হা..হা 
এবার চল দেরি হয়ে যাচ্ছে।

** পরেরদিন সকালে **
অভয় দের ট্রেন সবে হাওড়াতে ঢুকবে ঢুকবে করছে....

নীরব অভয়কে একটু ঠ্যালা দিয়ে প্রতাপ বলে উঠলো..তোর কি বুদ্ধি রে ভাই....বাবা, মা বেঁচে থাকলে দেখতিস তুই একদিন বিরাট বড়ো পুলিশ হতে পারতিস....

এই পুলিশের নাম নিবিনা আমার সামনে, আমি বড়ো হয়ে ট্রেন চালক হবো ভেবেছিলাম।। অভয় কথাগুলো একটু কড়া ভাবেই বললো তবে প্রতাপ সেই দিকের তোয়াক্কা না করেই বলতে লাগলো....হওড়া স্টেশনের পুলিশ আর ওইযে স্ক্যান করে যেই মেশিন তার ঝামেলা এড়ানোর জন্য শ্রীরামপুর থেকে ট্রেন ধরলি....যাতে ট্রেনটা তোকে স্টেশনের ভেতর নিরাপদে নিয়ে যায় আর তুই ভেতর ভেতর দিয়ে অন্যট্রেন ধরে খড়গপুর চলে যাস, কারণ প্ল্যাটফর্মের ভেতরে তো সেইরকম চেকিং নেইইই....

অভয় - গেমটা শুরু করেছে উনি, তবে গেম খেলার জায়গা ঠিক করি আমি....

হঠাৎ ফোন এলো.....
ফোনের ওপার দিয়ে.. 
আমি vk বলছি, তুই এখন কোথায়?

অভয় - হাওড়া ঢুকছি.... ট্রেনে উঠে ফোন করছি....
vk - এখান থেকে এইটুকু আবার ট্রেনে গেছিস..ব্যাপারটা বুঝলাম না তো ঠিক....

অভয় - আমি শ্রীরামপুর থেকে ট্রেন ধরে হাওড়া যাচ্ছি..এরপর ভাবছি ঘাটশিলা মেমু ধরবো..

vk - কিন্তু তুই যে ট্রেনে করে যাবি বলবিতো.....ধর কি যে করিস না তুই....

অভয় - হাওড়া স্টেশন দিয়ে এইরকম স্ক্যানিং আর পুলিশের এর ঝামেলা এই দুটো থেকে বাঁচার জন্য এই পদ্ধতি অবলম্বন করেছি।।


vk - এটা ঠিক করিসনি..যাই করবি আমাকে জানিয়ে করবি..

অভয় - গেম আপনি চালু করলেও..খেলার মাঠ টাও আমাকেই খুঁজে বের করতে হবে তাইনা..

vk - ওকে ঠিক আছে..তবে এতোটও না দেখে গেম খেলিস না যে, দ্রুত গেম ওভার হয়ে যায়। যে কাস্টমারকে তুই ব্যাগটা দিবি..একটু সাবধানে.. কারণ ওই স্টেশনে প্রচুর পুলিশ থাকে..আর হ্যাঁ ওই কাস্টমারের সাথে বেশী কথা বা বিতর্ককে যাবিনা কারণ উনি একটু মেন্টাল ওনার দানবের মতোন বডি হলেও মাথাতে একটু প্রব্লেম আছে..ওনার সাথে বেশী কথা বলবিনা। যাই করিস তবে সময়ের যেন কোনো হেরফের না হয়..নাহলে ওই কাস্টমার চটে যাবে। একবার চটে গেলে রক্ষে নেই। 
রাতে কথা হচ্ছে..আমি উনার নাম আর মোবাইল নম্বর মেসেজ করে পাঠাচ্ছি তোকে।

অভয় - ঠিক আছে।

ধীরেধীরে ট্রেনটা প্ল্যাটফর্মের দিকে এগোতে লাগলো....
অভয়ের চোখটা কেমন জানি লেগে এলো....আকাশপাতাল ভাবতে ভাবতে সেইদিন কার কথা মনে পড়ে গেলো....যেইদিন ভি.কে নাইডু (ভিরাজকুমার বা vk)এর কাছে প্রথম গেছিলো কাজের জন্য...ছোটোবেলায় অভয়ের বাবা মা মারা গেছে, কিজন্য মারা গেছে সে সেটা জানেনা, বড়ো হয়ে যেনেছে সম্পত্তি নিয়ে ভাইয়েরা ভাইয়েরা দীর্ঘদিন ধরে ঝামেলা করছিলো, সেইথেকেই কি তার বাবা-মা নিখোঁজ নাকি অন্য কোনো কারণ আছে সেটা নিয়ে অভয় আজও ভেবে কুল-কিনারা পায়না। অভয়ের  নিজের বলতে কেউ না থাকলেও প্রতাপকে নিজের ভাইয়ের থেকেও বেশী ভালোবাসে.. প্রতাপ এর সাথে অভয়ের পরিচয় স্টেশনে..
স্টেশনের একধারে প্রতাপ বসেছিলো..আর স্টেশনেরই কিছু আওয়ারা ছেলে প্রতাপকে মারধর করছিলো..অভয়ের ট্রেন দেখার খুব নেশা ছিলো.. তাই মাঝেমধ্যে স্টেশনে আসতো...আর ট্রেন অজানা যাত্রীদের মধ্যে নিজেকে বিভোর করে রাখতো..

তাই যেইদিন অভয়ের সাথে প্রতাপের পরিচয় হয় সেইদিন তাদের পরিচিত হওয়ার আগের মুহুর্তে অভয় ট্রেন দেখতেই স্টেশনে এসেছিলো...ব্যস স্টেশনে এসেই অভয়ের সবার আগে চোখে পড়ে....একটা ছেলেকে কতগুলো ছেলে ঘিরে ধরে তাকে জ্বালাতন করছে....অভয় ওদের সামনে যেতেই..ছেলেগুলো পালিয়ে যায়....কারণ অভয় বেশ পরিচিত ছেলে ওখানকার....মারপিটে একেবারে মেডেল প্রাপ্ত যাকে বলে, তাইতো ছেলেগুলো দৌঁড় দিলো..প্রতাপকে ধরে অভয় যখন উঠে বসালো..তখন দেখলো প্রতাপের হাত পা ছুঁলে গেছে,
রক্ত বেরচ্ছে, খুব মায়া হলো অভয়ের..যখন অভয় জানতে পারলো প্রতাপের বাবা মা প্রতাপকে ছেড়ে গেছিলো..কীজন্য ছেড়ে গেছিলো সেটা তো অভয় বুঝেই গেছিলো..প্রতাপ একটা জড়বুদ্ধি সম্পন্ন বালক..অভয়ের ও কেউ নেই, এদিকে প্রতাপের ও কেউ নেই ব্যস সেইদিন থেকে দুইজনে বন্ধুর চেয়ে বেশী ভাইয়ের মতোন মিশতে শুরু করে দিলো....অন্যদের থেকে একটু আলাদা। তবে প্রতাপ অভয়কে খুব ভালোবাসে....এইসব সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে স্বপ্নের রাজ্য হারিয়ে গেছিলো অভয়..

হঠাৎ প্রতাপ এক ধাক্কা দিলো অভয়কে....সে বললো..কিরে..এবার নামবি চল ট্রেন প্ল্যাটফর্মে এসে গেছে যে..

অভয় - হ্যাঁ চল....
প্রতাপ ও অভয় দুইজনেই ট্রেনের দরজার দিকে এগোতে লাগলো..
প্রতাপ যখন দরজা দিয়ে নামতে যাবে..তখন পাশে অভয়কে না দেখে পেছনে ফিরে দেখে অভয় ট্রেনের একটা ফাঁকা সিটের দিকে তাকিয়ে আছে....মনে হচ্ছে কার সাথে যেন কথা বলছে....প্রতাপ আবার অভয়কে ডাকলো কিরে যাবিনা??এখানেই ৯.৩০ এর বেশী হয়ে গেলো....এরপর কিন্তু দেরি হয়ে যাবে....

অভয় তখন বললো....ট্রেনের বাইরে দিয়ে একটু উঁকি দিয়ে দেখ..সাবধান মাথাটা বেশী বের করিস না....

প্রতাপ অভয়ের কথা মতোন নিজের মাথাটা সামান্য বাইরে বের করে দেখলো.. স্টেশনে পুলিশ যে সকল যাত্রীরা এই ট্রেন দিয়ে নামলো সেইসকল যাত্রীদের চেক করছে..

প্রতাপ - ভাই....এবার কি হবে??ধরা পড়লেও তো ভাই দুইদিক থেকেই আমরা শেষ..কি করবো এবার??

অভয় - শান্ত ভাবে বললো..পুলিশ কে কেউ খবর দিয়েছে যে এখানে আজ কিছু গন্ডগোল আছে অথবা হতে পারে আমাদের ব্যাপারে কেউ কোনো তথ্যে পুলিশের কাছে আগাম দিয়েছে..

প্রতাপ - ভাই....কে করতে পারে এসব?? ভাই আমার মনে হচ্ছে আজকেই সব শেষ..কেনযে তোর সাথে এইকাজে আসলাম..নেহাত

তাড়াতাড়ি ফুলপ্যান্ট টা ছাড়..ভেতরে হ্যাফপ্যান্ট আছে তো??

প্রতাপ - হ্যাঁ....হাফপ্যান্ট এ কি হবে?? 

কথা না বলে দ্রুত প্যান্টটা খোল....অভয় ও প্রতাপ দুইজনে ফুলপ্যান্ট খুলে হাফপ্যান্ট পরে নিলো....এবার অভয় নিজের ব্যাগ থেকে বড়ো দুটো বস্তা বের করলো....একটা বস্তার মধ্যে নিজের ব্যাগটাকে ভরলো..আর অন্য বস্তাটাকে প্রতাপ কে দিয়ে বললো..
তাড়াতাড়ি ট্রেনের ওপাশে নাম..এপাড় দিয়ে যাওয়া যাবেনা...

প্রতাপ - কিন্তু ভাই এইভাবে বস্তা নিয়ে নেমে কি হবে??ধরা তো পরেই যাবো..

অভয় - আই আমার সাথে..
(দুইজনেই নীচে নামলো)

অভয় - শোন যদি কোনো পুলিশ কিছু বলে, বলবি এক বাবু কার্সেট এ যেতে বলেছিলো..ওখান থেকে কিছু প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে আসতে গেছিলাম, কিন্তু কার্সেটে গিয়ে দেখি....ওরা বোতল গুলো সরিয়ে ফেলেছে..তাই চলে যাচ্ছি।।ওকে..

আর নাহলে চুপ করে থাকবি..বাকিটা আমি দেখে নেবো।। 

প্রতাপ - জিও ভাই, তোর পা টা আমার মাথাটা একটু ঠেকাতে দে....কিন্তু যদি আমাদের এই বস্তা চেক করে..কারণ এমন তো কোনো বাধ্যবাধকতা নেইযে, পুলিশরা আমাদের ব্যাগ চেক করবেনা..

অভয় - সে দেখা যাবে তখন।
(এইভাবে রেললাইন পেরিয়ে দুইজনে চললো..ঘড়িতে তখন ১০.২০। 
যেই প্ল্যাটফর্ম দিয়ে ট্রেনটা ছাড়বে সেই প্লাটফর্মে দুইজনে এসে হাজির.....দুইজনেই ঘাটশিলা মেমো ধরে খড়গপুর পৌঁছে ব্যাগটা সেই লোকের কাছে দিয়ে আসে..সে রেলওয়ে ওভার ব্রীজের উপরে দাঁড়িয়ে ছিলো) 

** সন্ধ্যা বেলায় যখন vk এর কাছে **

vk - সাবাশ, আমি তোর উপর খুব খুশি হয়েছি..আর সাথে এই ভেবে অবাক তুই কিভাবে এতো পুলিশের মধ্যে দিয়ে ব্যাগটা নিয়ে গেলি?? না মানে আমার মাথা কাজ করছেনা আজ জানিস গোটা স্টেশন পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছি..এমন কি ট্রেনে উঠে পর্যন্ত তল্লাশি করেছে পুলিশ....বলনা কিভাবে তুই অসাধ্য সাধন করলি??

অভয় -
 আমি আগেই জানতাম..ওই ব্যাগে এমন কিছু আছে যেটা এতো সহজে খড়গপুর নিয়ে যাওয়া যেতো না..এদিকে আবার স্টেশনে বাইরে থেকে প্রবেশ করলে পুলিশ চেকিং কিংবা স্ক্যানার এ ধরা পরার ভয় আছে..সেজন্য আমি বুদ্ধি করে অন্যা প্ল্যাটফর্ম দিয়ে ট্রেন ধরে প্রথমে স্টেশনের ভেতরে প্রবেশ করলাম।। এখন আমি চেকিং কিংবা স্ক্যানারের হাত থেকে নিরাপদ তবে..স্টেশনে যখন পুলিশ দের সকল যাত্রীদের ব্যাগ চেক করতে দেখলাম তখন আমি কাগজ কুরানি সেজে ট্রেনের উল্টোদিক দিয়ে নেমে আমার গন্তব্য স্টেশনের দিকে এগোতে লাগলাম..কারণ একমাত্র কাগজ কুরানি দের রেল আধিকারিকরা ছাড় দেয়। তো তারপরের অঙ্কটা খুবি সোজা।

আমি স্টেশনে গিয়ে ঘাটশিলা মেমো ধরে খড়গপুর স্টেশনে পৌঁছে গেলাম। মাল ডেলিভারি করলাম..তারপর চলে এলাম।


vk - কিন্তু তুইযে বলেছিলি তুই নাকি পরের ট্রেনে যাবি?তোকেতো ফোন করেছিলাম....

(অভয়ের তখন মনে পড়ে যখন তারা দুজনে ঘাটশিলা মেমো যেই স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে সেই প্ল্যাটফর্মের উদ্দেশে যাত্রা শুরু এগোচ্ছিলো..তখন vk ফোন করেছিলো অভয়কে..

ফোনে অভয়ের কাছে জিজ্ঞেস করছিলো সে ঠিক আছে কিনা, কিভাবে ট্রেনে করে খড়গপুর যাবো..তবে অভয় বুঝতে পারে ব্যাপারটা তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে..তাই ফোনে সে মিথ্যা কথা বলে আমরা অনেক দেরী করে ফেলেছি ঘাটশিলার পরের ট্রেনটা ধরে খড়গপুর যাবো)

কেন জানিনা আমার মনে হচ্ছিলো..আপনার আর আমার কথা কোনো তৃতীয় ব্যাক্তি শুনছে....নিজের নিরাপত্তার জন্য আমি মিথ্যা বলেছি.....আমি ঘাটশিলা মেমো ধরেই খড়গপুর গেছি।

vk - তা নাহয় মানলাম..কিন্তু পুলিশ তো সব ট্রেন চিরুনি তল্লাশি করেছে....নিশ্চয় ঘাটশিলা মেমো তেও পুলিশ উঠেছিলো....তো তুই সেই তল্লাশি থেকে বাঁচলি কিভাবে? আর যাকে ব্যাগটা দিলি কোনো তার সাথে সমস্যা হয়নি তো? 

এটাতো সিক্রেট বলা যাবেনা..তবে সময় আসুক বলবো..আর আমি কাউকে হাতে করে ব্যাগ দিই নিই তো..আমার এখানেও কেমন জানিনা সন্দেহ হচ্ছিলো, এইজন্য স্টেশনের বাইরে একটা টোটো দ্বার করিয়ে ওখানে আমার বন্ধুকে ব্যাগ নিয়ে পাঠালাম..ওকে আগে দিয়েই শিখিয়ে দিয়েছিলাম যে, টোটো ওয়ালাকে বলতে যে আমার এক দাদা তার বাড়ি অবধি যাবে ওর শরীর-টা ভালো না, তাই একটু কমসম করে ভাড়া ম্যানেজ করতে।   টোটোওয়ালার দাম মিটিয়ে সেখানে দাঁড়াতে, আর যেই ব্যাগের আসল কাস্টমার কে আসতে দেখবে অমনি ওখান থেকে সাইড হয়ে যাবে। 

তো আমরা স্টেশনে নেমেই ওই লোককে ফোন করলাম..আশেপাশে তাকিয়ে দেখছিলাম কে ফোনে কথা বলছিলো..আর তাকে পেও গেলাম। তো আমার বন্ধু কথামতো কাজ করলো..ওদিকে আমি ওই লোকটাকে ফোন করে বলে দিই যে স্টেশনের বাইরে একটা টোটোতে আছি..লোকটা সবশুনে যখন টোটোটাকে খুঁজে নিয়ে সেইদিকে এগোতে লাগলো তো তখন আমার বন্ধু ওখান থেকে চুপচাপ সাইডে সড়ে গেলো..আর ওই লোকটা টোটোওয়ালার সামনে যেতেই ও দূর থেকে বেশ কয়েকটা ছবি তুলে নিলো..যাতে পরে কোনো কাস্টমার অভিযোগ না জানাতে পারে।  

ব্যস এইটুকু.... 


..আমি আমার এক নম্বর কাজটা সফল করেছি..এবার দুই নম্বর কাজটা দিন..


vk - বটে..এইব্যাপার,
আমি তোকে ডেকে নেবো..
একটা পরীক্ষায় পাশ করেছিস এবার দ্বিতীয় পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত কর নিজেকে। আমার দুইজন বিশ্বস্ত কাজের লোক আবীর আর আকাশ
গত কয়েকদিন ধরে মিসিং..এই নিয়ে একটু ঝামেলায় আছি.. 
এখন যা এখান দিয়ে..আর হ্যাঁ শোন এই পয়সাটা রাখ নিজের কাছে। এটা তোর ইনাম। যা মজা কর।

(এইবলে অভয়ের পকেটে টাকা ভরে দিলো vk)

এরপর অভয় বাইরে বেড়য়ে আসে..বাইরে তার বন্ধু প্রতাপ অপেক্ষা করছিলো....

অভয়কে দেখে প্রতাপ বলে উঠলো.... 

প্রতাপ - কিরে ভেতরে কি হলো?

অভয় - সব বলছি আগে আমার সাথে একটা জায়গায় যাবি তোকে সারপ্রাইজ দেবো।।

প্রতাপ - তোকে কি না করতে পারি..চল..

(দুইজনে এগোতে লাগলো...অভয়ের গন্তব্য পথের দিকে..পথে যেতে যেতে অভয় প্রতাপ কে সব খুলে বললো..সবশুনে প্রতাপ অভয়কে বললো)

প্রতাপ - ভাই vk এর খাস দুইজন লোক নিখোঁজ..ওরা কি vk এর কাজ ছেড়ে অন্য জায়গায় পালিয়ে যায়নি তো..


অভয় - এই প্রশ্নের উত্তর তুই নিজেই পেয়ে যাবি আগে চল আমার সাথে....

প্রতাপ - যাইবল আর তাই বল আজযে আমরা পুলিশের নাকের ডগায় ছিলাম, আর পুলিশ ধরতে পারেনি আমাদের।


অভয় - হুম সৃষ্টিকর্তা সবকিছু মঙ্গলের জন্যই করে...

প্রতাপ - না মানে....কেউ কি সন্দেহ করলোনা একবার যে আমরা ড্রাইভারের কেবিনে থাকতে পারি? জিও তোর ভাগ্যেও হেব্বি সাথ দেয় তোর....নাহলে ট্রেন ড্রাইভার কে হাত করে তার সাথে গোটা রোমাঞ্চকর ট্রেন যাত্রাটা ড্রাইভার কেবিনে করা যেতো....

অভয় - ওই ড্রাইভারটা কে আমি আগে থেকেই চিনতাম....একবার উনি আমি আগে যেই গ্রামে কাজ করতাম সেই গ্রামেরই এক বাজারে বাজার করতে  গেছিলেন,বাজার করে আসার পথে.... উনি এক জায়গায় ছিনতাইকারীর হাতে পড়েন..ওনাকে দেখে মনে হচ্ছিলো উনি এখানকার লোক না।

আমি তখন বাড়ি ফিরছিলাম সাথে ছিলো আমার ৭-৮ জন বন্ধু....ব্যাস সে কি মার ছিনতাইকারীদের। শেষমেশ ছিনতাইকারীরা যখন পালিয়ে যায়।

তখন ওই লোকটি জানায় যে, সে এইগ্রামে এর আগেও এসেছে তবে রাতে আসেনি..এখানে তার স্ত্রীয়েএ বাপের বাড়ি....সন্ধ্যা বেলায় বাজার করতে এসেছিলেন..বাজার আর চায়ের নেশা...তাকে দেরী করিয়ে দেয়....যার ফলস্বরূপ তিনি ছিনতাইকারীর হাতে পড়ে....

তার উপর শীতের রাত রাস্তায় কেউ নেই....উনি কাউকে সাহায্যের জন্য চেঁচিয়ে ডাকতেও পারছিলেন না। আমরা ওনাকে বাড়িতেও পৌঁছে দিয়ে আসি....
উনি আমাদের কাছে উনাকে ছিনতাইকারীদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার করলেন....বিশেষ করে আমাকে বললেন....বাবু জীবনে যদি তোমার সাথে কোনোদিন ও পুনঃরায় দেখা হয় তো তোমাকে সহ তোমার সব বন্ধুদের ঋণ শোধ করে দেবো..
আর সৃষ্টিকর্তার কি কৃপা আজকেই উনার সাথে দেখা হয়ে গেলো....খালি আমাদের একটু মিথ্যা বলতে হয়েছে যে....আমরা খড়গপুর যাবো..আর আমাদের কাছে টিকিট নেই..আর উনার ডিউটি পড়েছে ওই ট্রেনে...ব্যাস...আর দেখলি তো..দুইজনকে একসাথে কেবিনে নিতে প্রথমে একটু না না করলেও পরে বললো উঠে এসো..এগুলো হলো সব ভালো কাজের ফল

প্রতাপ - তুই সত্যিই সেরা

অভয় - ঠিক আছে এখন এখান দিয়ে চল।।তোকে সারপ্রাইজটা দিই।।

দুইজনে হাঁটতে রেললাইনের ধারে একটা বাঁশ বাগানের কাছে হাজির হলো....উঁচু জায়গায় রেললাইন....লাইনের পাশ দিয়ে অনেকটা ঢালু..লাইনের দুপাশে দুটো খাল..লাইনের ডানপাশের খালটা একটু দুরে তবে..তার আগে আছে বাশবন..আর লাইনের বামপাশে কৃষি জমি ও খাল একসাথে রয়েছে।

প্রতাপ - হ্যাঁ রে অভয় এটাতো সেই জায়গা তো যেইখানে আমরা মেয়েটার লাশ এনে রেখে ছিলাম..

অভয় - হ্যাঁ ভাই....সেদিন আমরাই লাশ টাকে এখানে জঙ্গলে এনে রেখেছিলাম..


প্রতাপ - মেয়েটার মুখ দেখে খুব নিস্পাপ মনে হয়েছিলো..হ্যাঁ রে অভয়..আমরা তো ওই মেয়েটার লাশ যেখানে আছে সেইখানেই যাচ্ছি..

অভয় - হুম।

প্রতাপ - চুপচাপ বাড়ি চল আর নাহলে তুই থাক আমি গেলাম.....


অভয় - বেশী কথা না বলে চুপচাপ আই আমার সাথে তোকে একটা সারপ্রাইজ দেবো।।


প্রতাপ - তোর মাথা ঠিক আছে? একেই তো রাতের বেলায় এই জঙ্গলে এনেছিস তার উপর একটা লাশ যেখানে ফেলে রাখা আছে সেইখানে নিয়ে যাচ্ছিস তার উপর বলছিস আমাকে সারপ্রাইজ দিবি??

অভয় - দাঁড়া এবার..ওইদেখ..

প্রতাপ অভয়ের কথামতো অভয় যেখানে তাকাতে বললো সেখানে তাকিয়ে দেখলো....দুটো পুরুষ মানুষ নীচের গর্তে পরে আছে....আর সেখান থেকে ভেসে আসছে পচা গন্ধ।

প্রতাপ (নাক চেপে) - এরা কারা....এরা কারা? কেন এনেছিস এখানে?

অভয় - মনে আছে কয়েকদিন আগে আমরা রাতের বেলায় এখান থেকে কিছুটা দূরে ক্ষেতের আড্ডা মারছিলাম....রাত বেশী হওয়ার কারণে আমরা এই রেললাইন ধরে যেতে যেতে একটা মেয়ের লাশ দেখতে পেয়েছিলাম।


প্রতাপ - হ্যাঁ ওই মেয়েটাকে দেখে আমার খুব মায়া হয়েছিলো তবে আমি ভয়ও পেয়ে গেছিলাম কেউ যদি লাশের সাথে আমাদেরকে দেখে নিতো..তবে সর্বনাশ হয়ে যেত....এইজন্য তোকে বারবার তাড়া দিচ্ছিলাম ওখান থেকে দ্রুত অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্য।।


অভয় - হ্যাঁ তবে আমরা শেষে এই লাশটাকে ওই সামনের জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে যাই। এবং সেখানকার এক ছোটো গর্তে ওই মেয়ের লাশটাকে ফেলে দিয়ে আসি।


প্রতাপ - তো..
তাতে কি হয়েছে?

অভয় - ভাই সেইরাতেই গভীর রাতে আমি লাশটার কাছে এসেছিলাম। কারণ ওর মুখ দেখে আমার খুব মায়া লেগেছিলো..জঙ্গলে লাশ থাকলে যদি শেয়াল কুকুর ছিঁড়ে খায় তো? আমি এসে ওই লাশ রাখা গর্তের মধ্য মাটি চাপা দিয়ে দিই..মেয়েটাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছিলো মেয়েটা মরার আগে অনেক যন্ত্রণা ভোগ করেছে.....তাইতো মায়ার টানে আমি এখানে এসে মেয়েটার লাশ রাখা গর্তে ভরে বুজিয়ে ফেললাম।

তো আমি যখন এখান থেকে চলে যাবো আমার সামনেই দেখি একজন দাঁড়িয়ে আছে.... 

আমাকে সে দেখেই বললো - কি করছিলিস এখানে?

অভয় - আসলে আমি....আসলে আমি.....


ওই লোকটি - এতো আমতাআমতা করছিস কেন? এই লাশটাকে তুই এখানে পুঁতে দিলি.....মোবাইল টা বের কর তাড়াতাড়ি?? 


অভয় - মোবাইল কোন মোবাইল?আর আপনি কে?

ওই লোকটি - জীবনে অনেক মার্ডার করেছি আরও একটা করতে হাত কাঁপবেনা।


এই মেয়েটার লাশ যেখানে পড়েছিলো ওখানে আমার মোবাইল পড়ে যায়, আমি মোবাইল খুঁজতে খুঁজতে এখানে এসে দেখি তুই লাশটার উপর মাটি চাঁপা দিচ্ছিস....আমি বেশী সময় নষ্ট করতে ভালোবাসিনা মোবাইল-টা দে..


অভয় - প্রতাপ ভাই বিশ্বাস কর আমি ভয় পেয়ে গেছিলাম....তখনি নীচে পড়ে থাকা এক্কটা গোটা ইট তুলে ওই লোকটার মাথায় ছুঁড়ে মারি....লোকটি মাটিতে পড়ে গেলে.....আমি সেই ইটটা তুলে..লোকটাকে মেরে মেরে শেষ করে দিই....শেষে যখন আমি ওখান থেকে পালিয়ে চলে আসবো তখন দেখি ওখানে আরও একজন লোক এদিকে আসছে ফোনে কথা বলতে বলতে....সে আমাকে দেখতে পাইনি..তবে ফোনে কাকে যেন বলতে বলতে আসছিলো...

আরে আর বলিস না..বোবা মেয়েটার সাথে মজা নিয়ে যখন মেয়েটাকে মেরে রেললাইনের উপরে লাশটাকে ফেলে দিয়ে বাড়ি চলে আসি..তার দুইঘন্টা পর আমাকে আবীর ফোন করে বলে ওহ নাকি রেললাইনে মোবাইল ফেলে দিয়ে গেছে....তাইতো আবার ওর সাথে রেললাইনে এসে দেখি ওখানে লাশ ও মোবাইল কিছুই নেই, সেজন্য আবীর জঙ্গলের ভেতরে যায় কিন্তু এখনো ফিরছেনা বলে আমি নিজেই জঙ্গলের দিকে যাচ্ছি.....


বিশ্বাস কর প্রতাপ আমি আর চুপ থাকতে পারিনি....হাতের নীচে একটা ইট ছিলো তুলে ওটাকেও বিদায় দিয়ে দিলাম


এই দুটো লাশ সেই সয়তান গুলোর.....আর সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় কি জানিস??

প্রতাপ - কি?


এরা হলো vk এর খুব বিশ্বস্ত দুইজন লোক।


প্রতাপ - ভাই এ কি করেছিস তুই?
Vk জানলে তোকে তো মারবে আর সাথে আমাকেও....
আমি কালকেই এই শহর ছেড়ে অন্য জায়গাই চলে যাবো..


তুই নিজেও মরবি আর এদিকে আমাকেও মারবি।।


অভয় - তো??
এখনো তো মরে যাসনি। বাড়িতে চল মনটা খুব হাল্কা লাগছে 

প্রতাপ - হ্যাঁ ওখন তো হাল্কা লাগবেই। আমি কালকেই এই শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছি।

একে তো তুই vkএর দুইজন খাস লোককে মেরেছিস আবার অন্যদিকে vk এর কাছেই কাজে গেছিস.....জানিস vk কে....


অভয় - আজ যদি তোর বোনের সাথে এই হতো যেটা কিনা এই মেয়েটির সাথে হয়েছে তখন তুই কি তার বদলা নিতিস না?

প্রতাপ চুপ করে মাটির দিকে তাকিয়ে আছে....


চুপচাপ বাড়ি চল....পরের কাজের খবর না আসা অবধি আমরা বরং vk কে কিভাবে ডাউন করা যায় সে বিষয় নিয়ে ভাবতে থাকি৷। 

অভয় আর প্রতাপ দুইজনেই এগিয়ে চললো বাড়ির দিকে....তখনি তাদের মাথার উপর থেকে রাত পাখি উড়ে গেলো....আর অস্পষ্ট মানুষ আর পাখির সম্মিলিত গলায় বলে গেলো....সাবধান,সাবধান সামনে খুব বিপদ।।


আলোচ্যে গল্পটির প্রথম পর্বটি ক্রাইম সিরিজ  ও ওয়েব সিরিজের থেকে ধারণা নিয়ে লেখা হয়েছে।
এই গল্পটি কোনো স্থান,কাল,পাত্রকে অসম্মান করার উদ্দেশ্যে নিয়ে লেখা হয়নি। আর এই ট্রেনের কনসেপ্ট-টা হাওড়া স্টেশনে প্রবেশের আগে যখন লোকাল ট্রেন গুলোকে দ্বার করিয়ে প্যাসেঞ্জার ট্রেন/এক্সপ্রেস ট্রেন গুলোকে আগে স্টেশনে নিয়ে যায়..তো কিছু লোক সিগনালের ওয়েট না করেই ট্রেন থেকে নেমে সেই প্যাসেঞ্জার কিংবা এক্সপ্রেস ট্রেন গুলোয় সিড়ীর সুবিধায় উপরে উঠে যায় আগেভাগে যাতে স্টেশনে পৌঁঁছানো যায়। আর এই স্ক্যানারের ব্যাপারটি কাকতালীয়..

তো অভয় মাঝেমধ্যে কেন অন্যমনস্ক হয়ে যায়..
আর কার দিকেই বা অভয় তাকিয়ে থাকে..সেটা জানতে হলে সাথে থাকুন..পরের পর্বে এইবিষয়ে কিছুটা রহস্য উন্মোচন করা হবে।  

প্রমাণ করতে পারবেন না গল্পের দ্বিতীয় পর্ব  - রামপুরহাট মেমো


  

অঙ্কিতা দিদি ও দিদির ছানাপোনা

বন্ধুরা সবাই কেমন আছো? অনেকদিন পর আবারো একটা গল্প নিয়ে চলে এলাম।  যেই গল্পের মুখ্য চরিত্র কাজল, আলু আর মায়াকে নিয়ে। অঙ্কিতা দিই হচ্ছে এই বাচ...