Kolkata Midnight Talk

প্রতিদিন আমাদের সাথে অসংখ্য ঘটনা ঘটে। সেই সকল ঘটনা যেগুলো আমরা কেউ শেয়ার করার মতোন কাউকে পাইনা, আমাদের ব্লগে সেই সকল অজানা গল্প, অবলা পোষ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন লেখা ছাড়াও কিছু লেখকের ভূত ও ভালোবাসার গল্প পাবেন। আশা রাখছি আমাদের পাশে আপনাদের মতোন বন্ধুদেরকে সবসময় পাবো।

LightBlog

Breaking

বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২০

নভেম্বর ১৯, ২০২০

হাটেবাজারে দুপুররাতে। মলয় বিশ্বাসের লেখা ভৌতিক গল্প।

ছবি ও লেখা - মলয় বিশ্বাস

শীতের এক রাতে। একজন ইঞ্জিন ভ্যান চালক তার গাড়িটা হাটবাজারের একেবারে প্রবেশপথের সামনের একটা কোণে দাঁড় করিয়ে চাদর গায়ে দিয়ে..একটা দোকানঘরের সামনে তিনি ও তার হেল্পার শুয়ে আছে। ভোর তিনটে থেকে এক এক করে লরি আসতে থাকবে হাটে..তখন থেকেই তার ডিউটি শুরু আর কি। ভ্যানে কাঁচামাল বোঝাই করে তিনি ও তার হেল্পার সেখান থেকে অনেক দুরে মানে তাদের লোকালয়ের সবথেকে জনবহুল এরিয়ার এক বাজারে নিয়ে আসবে। ওখানেই তিনি এবং তার বউ সবজী বিক্রি করে।
এটাই তাদের রোজকার রুজিরোজগারের একমাত্র মাধ্যম। আর এই ভ্যানটা তাদের রোজকার নিত্যসঙ্গী। 
তো যেইদিনকার কথা বলছি..তিনি ও তার হেল্পার তখন শুয়ে আছে। হঠাৎ একটা মাঝবয়সী ভদ্রলোক এসে একটা চিৎকার করে তাদের ডেকে উঠলো..

বড়োভাই..
বড়োভাই..
চিৎকার শুনে ইঞ্জিন ভ্যান চালক ও হেল্পার দুইজনেই উঠে বসলো..
তো ওই লোকটাকে দেখে ইঞ্জিন ভ্যান চালক বললো কি হয়েছে? এতোরাতে আপনি এইভাবে ডাকছেন কেন? 

তখন ওই মাঝবয়েসী ভদ্রলোকটি বলে উঠলো..
বড়োভাই..তাড়াতাড়ি চলুন। আমার ছেলের খুব শরীর খারাপ..ওকে হাসপাতালে না নিয়ে যেতে পারলে ওহ হয়তো বাঁচবেনা। তাড়াতাড়ি চলুন বড়োভাই। বেশী দূর নয় সামনের এক দোকানে ওকে বসিয়ে রেখে এসেছি।
ইঞ্জিন ভ্যান চালক নিজের টাইপ সেট বের করে দেখলো ঘড়িতে তখন রাত ১.০০ টা। ওই সময় দেখার জন্য আর কয়েকজনের সাথে কথাবলার জন্য লোকটি ফোনটা কিনেছিলো..আসলে কিনেছিলো বললে ভুল হবে..তার বউ জোড় করে কিনতে বাধ্য করেছিলো। তাদের কাছ থেকে সবজী কিনতো এক তান্ত্রিক এই ফোনটা বিক্রি করেছে তাদের কাছে। তান্ত্রিকটা প্রচুর মদ খেতো। সংসারের চাপে, পারিবারিক ধমকে সে মদ খাওয়ার পথ থেকে সরে আসতে চাইছিলো..বলাবাহুল্য সে এই প্রচেষ্টা আগেও অনেক বার করেছে তবে তার প্রচেষ্টা বিফল হয়েছে।

এইবার তার পরিবার এমন চাপে রেখেছিলো যে তিনি বাধ্য হয়ে মদ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন..কিন্তু তিনি মদ ছাড়লেও মদ যে তাকে ছাড়েনি। প্রায় একমাস তিনি মদ খায়নি। স্মৃতির গোড়ায় জল দিলে দেখা যায়যে..লোকটা যেপরিমাণ অর্থ উপার্জন করতো সেই টাকা তার বউ নিজের হাতে নিয়ে নিত। তার স্বামীর হাতে দিতোনা। যাতে তার স্বামী বিফলে না চলে যায়। দেশীমদের দোকানে গিয়ে তান্ত্রিকের বউ শাসিয়ে এসেছিলো যাতে তার স্বামীকে এই দোকানের আসেপাশে দেখলেই যেন পিটিয়ে ভাগিয়ে দেয়।

তো লোকটা একটা মাস অনেক যন্ত্রনায় কাটিয়েছে..মদ ছাড়ার পর থেকে তার রাত হলেই কোমড়ে ব্যথা, হাঁটুতে ব্যথা। অথচ যেকটাদিন মদ খেত সেইকটা দিন তার শরীরে কোনো ব্যথ্যাই ছিলোনা।

তো ওই তান্ত্রিকটি মাত্র ১০০ টাকাতে এই ফোনটি দিয়ে দেয় ওই সবজী বিক্রেতার কাছে। কমদামে ফোন পেয়ে তারা বেজায় খুশী। তবে তান্ত্রিকটি একটা নির্দেশ দিয়েছিলো তাদেরকে..যে..
এই ফোনে একটা নম্বরে ফোন আসে ২২২ এই তিনটে নম্বরে। এই নম্বরে ফোন এলে যেন তিনি সেই ফোনটি না ধরে। কারণ এই নম্বরে যখনি ফোন আসে তখনি কোনো না কোনো অঘটন ঘটে। এইবলে তান্ত্রিকটি পয়সা নিয়ে ফোনটি তাদের দিয়ে বাজার থেকে চলে যায়। তবে ওই যে নম্বর থেকে ফোন আসতো সেই নম্বরে আসা ফোন ধরলে যে কি পরিণতি হতে পারে সেইবিষয়ে ওই তান্ত্রিকের জানা নেই। কারণ তিনি নিজেও ওই নম্বর থেকে আসা  ফোন কোনোদিনও ধরেননি।

মোবাইলে সময় দেখাটা ওই লোকটির পাড়ার এক মাস্টারমশাই শিখিয়েছিলেন..
কাজেই তিনি সময়টা বুঝতে পারতেন। ওই ইঞ্জিনভ্যান চালক বললো - চলুন..তবে আমাকে তাড়াতাড়ি ছেড়ে দেবেন..ভোর বেলায় গাড়ি ঢুকবে। মাল নিতে হবে। আর ভাড়া ১৫০/- টাকা নেবো।

ওই মাঝবয়েসী ভদ্রলোকটি বললো ঠিক আছে ভাই আগে তো চলুন আমার ছেলেকে বাঁচান বড়োভাই।

তো ওই ইঞ্জিন ভ্যান চালক মাংকি টুপি পড়ে, চাদর-টা গায়ে জড়িয়ে..ভ্যানের ইঞ্জিনটা চালু করে যেই ভ্যানটা চালানো শুরু করবে ওমনি তার ফোন বেজে উঠলো..
লোকটি ফোন ধরে বললো  - হ্যালো কে?

ওপাশ থেকে কেউ কোনো কথা বলছেনা। তিনচারবার হ্যালো হ্যালো করে..শেষে বিরক্ত হয়ে তিনি যখন ফোনটা কেটে দেয়। তবে কেটে দেওয়ার আগে তিনি একটা অদ্ভুত জিনিস আবিস্কার করে যে..মাত্র তিনটে নম্বরে ফোন এসেছিলো। এর আগে কখনো এই নম্বরে ফোন আসেনি। লোকটির তখন তান্ত্রিকের কথা মাথায় নেই। এদিকে গ্রামের মানুষদের মনে এতো প্যাঁচ থাকেনা। এখান থেকে হসপিটাল অনেক দুরে। আর যাতায়াত ব্যবস্থা সেমন ভালো নয়। ভ্যানচালক কম করেই ভাড়া বলেছে। তিনি যেহেতু খেটে খায় তাই আরেকজন খেটে খাওয়া মানুষের দুঃখ-টা ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পারে।
লোকটি ভ্যান চালাতে চালাতে ভাবছে..ইশ আজ যদি গাড়ি আগে ঢুকে যায় তাহলে তিনি মাল নিতে পারবেন না আর। কারণ এ ওহ সব দরদাম করে  যে যা পারবে কিনে নিয়ে চলে যাবে। আর লোকটির বাঁধাধরা দুই জায়গা আছে..তিনি বারোমাস ওই দুই জায়গা থেকেই তার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নেয়। 

লোকটি মনে মনে ভাবছে ইশ, আজ যদি..সময়ের একটু হলেও উনিশ বিশ হয় তবে তার আর কেনা-বেচাটা ঠিকঠাক হবেনা। তার বাজেট ছিলো ১২০০ টাকা৷ যদি সময় মতোন আসতে না পারে তাহলে তার হাত থেকে অনেক গুলো টাকা খসতে পারে। কারণ তিনি যেই জায়গা দুটো থেকে কাঁচামাল কেনেন সেই জায়গা দুটো হাঁটের একেবারে সামনেই.. মানে হাঁটে ঢুকতেই আগে ওই জায়গা গুলো পড়ে আরকি। তাই জিনিসপত্র বিক্রি হয়ে যায় তাড়াতাড়ি। সকাল ১০.০০টার পর থেকে হাঁট ভেঙে যায় তখন থেকে জিনিসপত্রের দাম কিছুটা বাড়ে।

তো এই সেই চিন্তা করতে করতে ভ্যান চালাচ্ছে। তো হঠাৎ করে ওই লোকটা বললো বাবু ওইযে ওই দোকানের সামনে গাড়ি দ্বার করান। 

লোকটির কথামতোন ওই ইঞ্জিনভ্যান চালকটি তার ভ্যান দ্বার করায়। দেখে যে একটা ছেলে হেলান দেওয়ালে দিয়ে বসে আছে..তার গায়ে রয়েছে একটা নোংরা সোয়েটার। ইঞ্জিন ভ্যান চালক ও তার হেল্পার দুইজনে মিলে ছেলেটাকে ভ্যানে তুললো। তারপর হসপিটালের উদ্দেশ্য রওনা হলো। যেতে যেতে আবারো ইঞ্জিন ভ্যান চালকটি ভাবনার রাজ্যে চলে গেলো..
সে ভাবতে লাগলো মানুষ এই ভালো এই খারাপ। গ্রামের মানুষরাই বেশী কষ্ট করে..শহরের মানুষেরা কতবেলা অবধি পড়েপড়ে ঘুমোয়। এই সাতপাঁচ ভাবছে হঠাৎ তারমনে হলো ভ্যানটা কেমন আগের থেকে ভারী-ভারী লাগছে। 
চারজন মানুষের যা ওজন হয় তার থেকেও বেশী ওজনের মনে হচ্ছে ভ্যানটি। আর সবথেকে বড়োকথা পেছন থেকে একটা মরা পচার তীব্র গন্ধ আসছিলো..যাকিনা সত্যিই অস্বস্তিকর। 

তো ওই চালক তখন একটা ছোটো ব্রীজের উপর দিয়ে যাচ্ছিলো নিচে একটা জলশয়। বেশী দুরত্ব নয়। মানে ব্রীজথেকে জলাশয়ের দুরত্ব চারহাত হবে। তো চালকের তখন কি মনে হলো সে পেছনে তাকালো..পেছনে তাকিয়ে দেখে যে..ছয়জন লোক ও সেই ছেলেটি আর তার বাবা তারা সকলে মিলে ওই হেল্পারটির দেহটিকে হিংস্র জন্তুর মতোন খাচ্ছে। চালক তখন মারাত্মক রকম একটা ঝটকা খেলেন..তিনি ভ্যানের ব্রেক কষতে চাইছিলেন কিন্তু ভ্যান আর দাঁড়ায়না। তাই তিনি কি করবে কি করবে ভেবে না পেয়ে ওই জলাশয়ে ঝাঁপ দেন।

উনি অজ্ঞান হবে হবে করছেন কিন্তু তখন ওনার এইরকম একটা অবস্থা যে ওনার অজ্ঞান হওয়ার মতোন সেই পরিস্থিতি তৈরী হয়নি। আর তার থেকে বড়ো কথা উনি বিশাল খাটতে পারে। উনি এতো সহজে ভেঙে পড়েন না। তবে এই বিষয়টিকে তিনি কিছুতেই মেলাতে পারছিলেন না। তিনি একে তো এই ঠান্ডার মধ্যে কল সাঁতরে সাঁতরে কোনো রকম ভাবে ডাঙায় উঠলেন..তিনি কোনো দিকে না তাকিয়ে সোজা ছুটতে লাগলেন। তার বুক বিশাল ধড়ফড় করছিলো..দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে একসময় উনার চোখ দুটো বুজে এলো..তবে চোখ বন্ধ করবার আগে উনি বাজারের কথা চিন্তা করছিলেন। এমন সময় তার একটা ফোন আসে..ওই ফোনটা পকেট থেকে বের করার সাথে সাথে তিনি অজ্ঞান হয়ে যায়।

অজ্ঞান হওয়ারই কথা। তিনি আর নিতে পারছিলেন না। সকালে যখন তার ঘুম ভাঙে সে দেখে বাজারে একটা মাচার মধ্যে। এই মাচায় সন্ধ্যাবেলায় সকলে বসে আড্ডা দেয়। তো ওই ইঞ্জিন ভ্যান চালকটির যখন ঘুম থেকে উঠেই সে তার হেল্পারকে আগে দেখতে পেলো। এছাড়া তার বড় ছেলে, এক চায়ের দোকানের দাদা সবাই রয়েছে।

তো তিনি যখন আস্তে আস্তে উঠে বসলেন তখন তার ছেলে জিজ্ঞেস করে তার কি হয়েছিলো??

তিনি ধীরেধীরে নিশ্বাস নেয়। আর সব বলতে থাকে।

সবশুনে তার হেল্পার তো পুরোই অবাক। আর হেল্পারের কথা শুনে ওই ইঞ্জিন ভ্যান চালকটি আরও অবাক হয়ে যায়।

ওই হেল্পার যা বললো।

তিনি আর ওই ইঞ্জিন ভ্যান চালকটি পাশেই শুয়ে ছিলেন।  হঠাৎ রাত ১.০০ টার দিকে তার মালিক স্বপ্নের মধ্যে কি উল্টোপাল্টা বলতে থাকে..তো একসময় সে ঘুমের মধ্যেই বকবক করতে করতে উঠেবসে তারপর সে পাগলের মতোন হাত দুটো সামনে নিয়ে দৌঁড়াতে থাকে। মানে দুর থেকে দেখলে মনে হবে যে, ছোটো বাচ্চারা যেভাবে বাইক চালায়..মানে হাত দুটো উঁচু করে। সেইভাবে তিনিও হাত দুটো উঁচু করে এক দৌঁড় দিতে লাগলেন। তো এই দেখে তার হেল্পার ও চেঁচামেচি করতে করতে তার পেছনে দৌঁড় দেয়। শেষে তিনি একটা জলাশয়ের পাশে গিয়ে ওই ইঞ্জিন ভ্যান চালকটিকে উদ্ধার করেন।

সবশুনে ইঞ্জিন ভ্যান চালকটি খুব অবাক হয়ে যায়। মানে কি হচ্ছিলো, ভোর রাতে তার সাথে কি হয়ে গেলো..সেইসব ভাবলেই তার গায়ে কাটা দিয়ে ওঠছে।

তবে চমক এখনো বাকি ছিলো। ওই হেল্পার আর ইঞ্জিন ভ্যান চালকের বড়ো ছেলে ওখন ভ্যান চালকটিকে ধরে ধরে ভ্যানের কাছে নিয়ে যাচ্ছিলো চালকটির চোখ গেলো এক জায়গায় প্রচুর লোক জড়ো হয়ে আছে সেইদিকে।

জায়গা হলো সেই জায়গা যেখানে তারা গতরাতে শুয়েছিলো। ওই ইঞ্জিন ভ্যান চালক বললো - ওখানে এতো ভীড় কেন? কি হয়েছে??

হেল্পার টি তখন বললো - বাবু..কাল রাতে তো আপনি ওইভাবে বকবক করতে দৌঁড় দিলেন..আপনার পেছন পেছন আমিও দৌঁড় দিলাম। যখন আপনাকে পেলাম তখন..অনেক খুঁজে দুইজনকে খুঁজে পেয়ে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে আপনাকে ধরে ধরে যখন বাজারের মাচাতে নিয়ে এলাম তখন এসে দেখি যেখানে আমরা শুয়েছিলাম সেইজায়গা তো রাস্তার ধারেই..তো ওখানে একটা লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই দোকানঘরে গিয়ে ধাক্কা মারে।
ভাগ্যিস আপনি দৌঁড় দিয়েছিলেন আর আপনার পেছন পেছন আমিও দৌঁড় দিয়েছিলাম নাহলে দুইজনের যে কি হতো বলা যেত না।

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২০

অক্টোবর ৩০, ২০২০

পাকু চক্রবর্তীর গল্পের দেশে। Ankita Maitra।


রাতের বেলায় পাতকুয়োর ভেতরে পড়ে গেছিলো পাকুরানী নামের এক বিড়ালসোনা।পাকুর বাবা পাতকুয়োর ভেতরে একটা দড়ি দিয়ে পেঁচানো বালতি ফেলে দিয়ে..উপর থেকে বললো..উঠে আয় পাকু..তারপর কি হলো..?


হেই বন্ধুরা আমাদের জীবনে এমন কিছু মুহুর্ত আসে যেই মুহুর্ত কে আমরা বারবার উপভোগ করতে চাই। এই যেমন ছেলেবেলা, স্কুলজীবন।
ছেলেবেলা সত্যিই আমাদের অপূর্ব ছিলো। সেই সুন্দর মুহুর্ত আমাদের স্মৃতির প্রতিটা কোণায় গাঁথা আছে। মাঝেমধ্যে আমরা একবারের জন্য হলেও মনে মনে চিন্তা করি।। ইসস ছেলেবেলাটাকে যদি আবারো ফিরে পেতাম। আমাদের Silient talks of midnight animals ফেসবুক পেজে আপনাকে জানাই স্বাগতম। যেখানে আমরা সকলের ভালোলাগা,ভালোবাসা টাকে অন্যভাবে গল্পের চাঁদরে মুড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা করি। যাতে অবলাপশুদের উপর অত্যাচার কম হয়। আমরা ভালোবাসি অবলাদের, ভালোবাসি সাহিত্যেকে। ভালোবাসি ভাষাকে। 


আজ আমি আপনাদের হাওড়ার অঙ্কিতার বাড়ির ছোটো সদস্য, পাকুরানী চক্রবর্তীর একটা ছোটো গল্প শোনাবো। পাকুর মা'য়ের কাছে আমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি..আমাদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও ছবি দিয়ে শেয়ার করার জন্য। গল্পটি জানিনা আপনারা কতটা উপভোগ করবেন..তবে চেষ্টা করবেন একটু মন দিয়ে গল্পের ঘটনা গুলোকে অনুভব করার। তাহলে আপনি পাকুদের বাড়ির প্রতিটা মুহুর্ত উপলব্ধি করতে পারবেন। তো আসুন আমাদের গল্পের দুনিয়ায়..আমি আপনাদের স্বাগতম জানালাম..এক মা ও তার মেয়ের এক ভালোবাসা ভরা দুনিয়ায়।


পাকু অঙ্কিতার বাপের বাড়িতেই জন্ম নিয়েছিলো ২০২০ সালের সম্ভবত জানুয়ারি কিংবা ফেব্রুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে। মার্চ মাস থেকে লকডাউন পরে যাওয়ায় তিনি বাপের বাড়িতেই আটকে গেছিলেন। তখন থেকেই গল্পের মোড় অন্যদিকে এগোতে থাকে। 

পাকু সে তার মা'কে প্রচন্ড ভালোবাসে। মায়ের লক্ষী মেয়ে যাকে বলে। সকালে খাওয়ার হিসেবে পাকু সোনা ম্যাগি,দুধ বিস্কুট ( মেরি বিস্কুট ) এবং আমুল দুধ খায়।
আমাদের পাকু সোনা কিন্তু আর পাঁচটা থেকে আলাদা। তাকে যখন মাঝেমধ্যে চিকেন খেতে দেওয়া হয় তখন সে কোনো এক অজানা ভাষার গান খুশির মেজাজে গাইতে থাকে, এই হচ্ছে গানের একটা লাইন। " amna namna na "
যখন পাকুকে রাগানোর জন্য পাকুর পাতের থেকে চিকেন-টা তুলে নেওয়া হয় তখন পাকুর করুণ মুখের দিকে তাকালে যেন মনে হয় এই বুঝি ঝগড়া লাগলো বলে।  

ছবি - পাকুর সাথে পাকুুর মা ও বাবা

তবে সেই রাগ সাময়িক। পাকুর যখন আনন্দ হয় তখন সে..মশার মতোন গুনগুন করে..আর এইপ্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে ছুঁটে বেড়ায়।

খুশির মেজাজে কখনো সে অঙ্কিতার মায়ের শাড়ির আচল টেনে বেড়ায় কিংবা অঙ্কিতার বাড়ির বাকি লোকজন্দের জামা কাপড় যাই পারে টান দিয়ে খেলা করার চেষ্টা করে।

পাকুর যখন আদর খাওয়ার ইচ্ছে হয় তখন সে মাটিতে গড়াগড়ি খায়। মানে বাবুকে কোলে তুলে আদর করে।

পাকু সোনা বল নিয়ে খেলতে খুব ভালোবাসে। বিশেষ গুণ বলতে পাকু মাঝেমধ্যে মানুষের মতোন হাত দিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করতে থাকে। কিন্তু খারাপ লাগার বিষয় এই যে..পাকুর হাতে খাওয়ার ওঠেনা। খাওয়ার সময়ের বিশেষ কোনো নিয়মাবলী নেই। বাবা মায়ের সাথেই পাকু খেতে বসে, আলাদা কোনো খাবার সময় নেই। তবে হ্যাঁ খাওয়ার আগে হাত দিয়ে মাঝেমধ্যে যাচাই করে নেয় খাওয়ার গরম নাকি ঠান্ডা।
ছবিতে যেই চেয়ারটি দেখছেন সেটি পাকুর প্রিয় চেয়ার।

পাকু তার মায়ের শরীর খারাপ হলে কিছুটা হলেও বুঝতে পারে, সে তার মায়ের মাথার কাছে এসে ডাকে। মানে সে বলতে চাইছে কি হয়েছে তোমার?

পাকুর মা, পাকুকে তার মনের কথা যখন বলে তখন সে চুপ করে শোনে।

বাড়ির মধ্যে আরশোলা,ইঁদুর, পিঁপড়ে, টিকটিকি যাই দেখুক না কেন বাবু ওদের ধরে খেলা শুরু করে দেয়। তখন অবশ্য ওদের অনেকেই ভয়ে মারা যায়।

একটা ঘটনা শেয়ার করি তাহলে..
একবার পাকু টিকটিকি খেয়ে নিয়েছিলো। পাকুর মা তখন খুব দুশ্চিন্তা করছিলেন কারণ টিকটিকি খুবই বিষাক্ত। তখন তিনি এক ভেট কে জানায় ভেট তাদের কিছু মেডিসিন বলে। তবে সেই মেডিসিনের আর দরকার পড়েনি..কিছুক্ষণ পর পাকু বমি করে সব বের করে দিয়ে
পাশের পাঁচিলে উঠে বসলো। কিছুক্ষণ পর সে ঘাস খেয়ে আবার স্বাভাবিক হয়ে গেলো। বাবু পুরো ফিট্। 

পাকুর গায়ে কালো দাগ গুলী হৃদয়ের আকারের সেটি আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন। পাকুর যাতে নজর না লাগে সেজন্য পাকুর মা পাকুকে কাজলের টিকা পড়িয়ে দেন।

ছবিতে যেই টুলটি দেখছেন এটি পাকুর অন্য একটি প্রিয় টুল।

পাকুর জীবনে একটি স্মরণীয় ঘটনা, জুলাই মাসের একদিন খুব ঝড় বৃষ্টি হচ্ছিলো,পাকু খেলতে খেলতে বাড়ি থেকে দুপুরে বেড়িয়ে যায়। ঝড় বৃষ্টিতে বাড়ির দরজা জানলা বন্ধ ছিলো। পাকুর মা দুশিন্তা করলেও তিনি ভেবেছিলেন পাকু হয়তো কোনো ছাওনির তলায় আছে,ঝড়বৃষ্টি থামলে এমনি চলে আসবে। কিন্তু পাকু বাড়িতে না আসায় তার মা..এদিকওদিক খুঁজতে বেড়িয়ে যায়..পাকুর নাম ধরে ডাকতে থাকে  কিন্তু কোনো সাড়া পায়না। 

সেইদিন রাত দশটার সময় অঙ্কিতার বোন সেদিন ওই বাড়িতে যায়। তিনি কথায় কথায় বলেন যে..কোথা থেকে একটা বিড়ালের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। 

তখন একটু ধাতস্থ হয়ে অঙ্কিতা বোঝার চেষ্টা করে আওয়াজটা কোথা থেকে আসছে। এদিকে অঙ্কিতার বর বাড়িতে একটু দেরী করে ফিরেছিলো সেইদিন। তিনিও অঙ্কিতার সাথে আশেপাশে খুঁজতে থাকে। তখন তারা খুঁজতে খুঁজতে উপলব্ধি করতে পারে এই আওয়াজ তাদের বাড়ির পেছন দিকের পাতকুয়োর মধ্যে থেকে আসছে। তারা দুইজনে সেখানে গিয়ে দেখে পাকু পাতকুয়োর ভেতরে পড়ে গেছে। তারা যতোবার নাম ধরে ডাকছিলো পাকু সাড়া দিচ্ছিলো। তখন সেইরকম অবস্থায় তাদের মাথায় কিছুই আসছিলোনা। তারা তখন কি করে ওকে বাঁচাবে। তখন ওই কুয়োর ভেতরে একটা বালতিকে পুরনো দড়ি দিয়ে বেঁধে পাকুর বাবা কুয়োর ভেতরে ফেলে দেয়। এবং পাকুর নাম ধরে ডাকতে থাকে। বেশ কিছুবার প্রচেষ্টা ও ভাগ্যের জোড় থাকায়..পাকুও বালতির ভেতরে উঠে পড়ে। হ্যাঁ বন্ধুরা আপনাদের কাছে এটি গল্প মনে হতে পারে তবে তখন সেই মুহুর্তে অঙ্কিতা ও তার বরের পক্ষে কতটা যে ভয়ঙ্কর ছিলো সেটা কেবল তারাই জানে। পাকুর জায়গাই অন্য কোনো বিড়াল হলে ভয় পেতো..তবে পাকুকে তার মা বাবা যেমনভাবেই হোক সুরক্ষিত ভাবে উপরে তুলতে 
চাইছিলেন। পাকুর বুদ্ধিকেও স্যালুট দিতে হয়। সে খুবি সাহসী ও বুদ্ধিমতী। 


পাকুর মা বলে, অনেকেই বিড়ালের নখ কেটে দেন। তবে তিনি এই বিষয়ে বলেন যে..এটা মোটেও উচিৎ কাজ নয়। কারণ তাদের নিরাপত্তার জন্য ওটি বিশেষ জরুরী। 

পাকু সকলের কাছে যায়না। ও খুব মানুষ চেনে। নিজের পিছন্দের ব্যক্তির কাছেই যায়। ওর অভিমান হলে চুপ করে বসে থাকে..বেশী রাগ হলে ও বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায়। তখন পাকুকে অনেক আদর করতে হয়,বেশীবেশী করে ভালোবাসতে হয়।

খুববেশীদিন না..পাকু তার বয়ফ্রেন্ড কে তার মায়ের কাছে নিয়ে যায়। তবে বিড়ালটি সারা ঘরে বাথরুম করতো..এটা স্বাভাবিক, বিড়ালরা এটি করেই থাকে।

পাকুর বাবা যখন বাড়িতে আসে..একদিন পাকুর মা তার বর মানে পাকুর বাবাকে জানায় পুরো ব্যাপারটা। সবশুনে পাকুর বাবা পাকুকে একটু বকে আর কানমুলে দেয়।

সেইরাগে পাকু একদিনের জন্য বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায়।

আমাদের পাকু সোনা ঠাকুরের সিংহাসনে উঠে বসে থাকে মাঝেমধ্যে। একবার সে ঠাকুরের সিংহাসনে উঠে সিঁদুর মেখে লাল হয়ে যায়। পাকুর গায়ের রঙ দেখে পাকুর মা..তো ভয় পেয়ে যায়..সে ভাবে হয় পাকুর কিছু হয়েছে নাহলে শিকার করেছে..পরে তার মা ঠাকুর ঘরে গিয়ে বুঝতে পারলো পাকুর কুকীর্তির কথা।


পাকুর দুটো জায়গা খুব প্রিয়। সে ওই দুটো জায়গার ভাগ কাউকে দিতে চায়না। এক হচ্ছে তার প্রিয় টুল, অন্যটা হচ্ছে তার প্রিয় চেয়ার। যদি এই দুটোর মধ্যে কোনোটা কেউ দখল করে নেয়..ব্যস পাকুর চেঁচামেচি করে ওখান থেকে নামিয়ে দেয় তাদের।

পাকুর হাতের সামনে যেই জিনিস-টাই থাকুক না কেন..সোনার সবকিছুই চাই। যদি চেয়ার বা টুলের উপর সেই জিনিস-টা থাকে তাহলে তো কথাই নেই। 
পাকু মাঝেমধ্যে আলনা ও আলমারির মাথায় উঠে টেডি বিয়ার দের সাথে বসে থাকবে। তখন পাকুকে ডকলে সাড়া দেয়না।

পাকুর সদ্য প্রেম বিচ্ছেদ হয়েছে। হয়েছে নয় করেছে..বাবার ভয়ে। পাকুর বাবা সেই হুলো বিড়ালটিকে বকেছে আর বলেছে বাড়িতে এলে ঠ্যাং খোড়া করে দেবে।

বেচারি পাকু সোনাকে নিয়ে অঙ্কিতা ও তার মা একটা কাল্পনিক গান বানিয়েছেন।

" বাড়িতে ঢুকলেই ঠ্যাং খোড়া করে দেবো, বলেছে তোমার বাবাটা। অন্য বাড়ীতে আমি যাচ্ছি তাই। পাকুমানা আমি আর আসবো না..এখানে পাকুমানা আমি আর আসবোনা "

এই গানটি মজার উদ্দেশ্য নির্মিত্ত..কাউকে অসম্মান কিংবা ছোটো করার উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার হয়নি।

পাকুর মা ও পাকু দুইজনে দুইজনকে প্রচন্ড ভালোবাসে। তাদের ভালোবাসার বন্ধন টা যেমন একজন সন্তানের সাথে তার মায়ের যে বন্ধন ঠিক সেইরকম। পাকুর মা ও পাকুর বাবা দুইজনেই পাকুর প্রচন্ড খেয়াল রাখে। পাকু বিড়াল হয়েও সে তার মায়ের প্রতি এক সন্তানের যে দায়িত্ব সেটি মানুষের মতোন যথাযথ পালন না করতে পারলেও..পাকু নিজের থেকে যতোটা সম্ভব তার বাবা ও মা কে ভালোবাসায় ভরিয়ে দেয়। পাকুর মা ও বাবা সন্তানস্নেহে ও ভালোবাসায় পাকুকে বড়ো করে তুলছে।  


তো বন্ধুরা এই হলো পাকুর জীবনের একটা ছোটো কাহিনী, যেটাকে গল্পের চাঁদরে ঢেকে দিয়েছি আমরা। তোমরা সকলে পাকু এবং তার মা-বাবা ও বাড়ির সবাইকে আশীর্বাদ করো যাতে ওরা ভালো থাকে।


উপরের গল্প রুপী ঘটনাটি ও চিত্রগুলো আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন - Ankita Maitra 

আর তথ্যসূত্র নিয়ে গল্পটি পরিবেশন করেছে - Silient talks of midnight animals

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০

অক্টোবর ২৯, ২০২০

ছোটো সোনা মুনিয়া। Anuradha Patel।


ছবি ও তথ্যসূত্র - Anuradha Patel
 উপস্থাপনায় - Silient Talks Of Midnight Animals      

হেই বন্ধুরা ধরুন একজন আপনাকে অনেক উৎসাহ নিয়ে কোনো কথা বলা শুরু করলো..আর আপনি তখন তাকে বললেন হ্যাঁ আমি তো এইকথাটা জানিই। সেইসময় যিনি আপনাকে কথাটা বলছিলেন তার মনের অবস্থাটা শুধুমাত্র তিনি ছাড়া আর কেউই সেটা উপলব্ধি করতে পারবেনা। আসলে আমাদের জীবনে কিছু কিছু ঘটনা থাকে যেগুলোকে আমরা সহজেই এড়িয়ে যাই। অথচ আজ যদি আপনি তার কথাটা একটু মন দিয়ে শুনতেন তাহলে হয়তো আপনার জানা কথার মধ্যেও একটা রহস্যজনক গন্ধ পেতেন। 

আমাদের রোজকার জীবনটা সত্যিই খুব সুন্দর হয়ে উঠতো যদি আমরা দোষ না খুঁজে কারুর মন খুঁজতাম, কারুর টাকা পয়সা না খুঁজে তার বন্ধুত্ব খুঁজতাম, কাউকে কষ্ট না দিয়ে বুকে টেনে নিতাম। আমাদের নেওয়া একটা ছোটো সিদ্ধান্ত আমাদের মনের মধ্যে একটা চাপ সৃষ্টি করে..সেটার ভার আমরা পরে গিয়ে উপলব্ধি করতে পারি।

ভেবে দেখুন, একদিকে একশো কেজি ওজনের এক ব্যাগ ভরতি খুচরো টাকা, আবার অন্যদিকে ১০০ কেজি ওজনের এক ব্যাগ ভরতি পালক।
 এখন আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, এখানে সবথেকে ভারী ব্যাগ কোনটি?
আপনি উত্তর দিলেন 
- নিশ্চয়ই ওই খুচরো টাকার ব্যাগটি।

না বন্ধুরা উত্তর হবে দুটো ব্যাগের ওজনই সমান।
( সকলেই যে উপরের প্রশ্নটার ভুল উত্তর দেবে সেটা নয়। ) 

কিছু সময় আমাদের কাছে সত্যিই অনেক মূল্যবান। যেগুলো জীবনের ইতিহাসের ভেলায় কাগজের নৌকা হয়ে ভাসমান অবস্থায় থাকে। 

আজ আমি আপনাদের দমদম থেকে অনুরাধা পাটেলর নামের এক মায়ের দুষ্টু ছেলে মুনিয়ার গল্প। হ্যাঁ মুনিয়া। আসলে মুনিয়া যখন ছোটো ছিলো তখনি তার নাম মুনিয়া রাখা হয়েছিলো। মুনিয়ার বাড়ির সকলে ভেবেছিলো মেয়েই হবে। কিন্তু ধীরেধীরে যখন মুনিয়া বড়ো হলো তখন তারা বুঝলো মুনিয়া আসলে মেয়ে নয় ছেলে। তাই নামটা আর পরিবর্তন হয়নি।


মুনিয়ার ২০১৭ সালের জুন মাসের কোনো এক তারিখে জন্ম। অন্যসব বিড়ালদের থেকে মুনিয়ার ব্যাপারটা একটুখানি আলাদা।

দুষ্টুমির থেকেও তার সবভেয়ে বেশী প্রিয় চিকেন কষা। হ্যাঁ সেই চিকেন..মুনিয়া ছোটো থেকেই তার মায়ের খুব কথা শোনে। তবে মুনিয়া সোনা দুষ্টু হলেও সে তার মাকে প্রচন্ড ভালোবাসে। 


মুনিয়া সোনা রেগে গেলে..ওর রাগ ভাঙাতে তখন মুনিয়ার মা'কে কোলে তুলে নিয়ে বলতে হয়। তুমি আমার হিরে..তুমি আমার মানিক। তুমি আমার সবথেকে দামি জিনিস। তুমি আমার সোনা ছেলে রাগ করেনা বাবু।


আমাদের মুনিয়া কিন্তু আজ অবধি চুরি করে কিছু খাইনি। 
বাবুর খিদে পেলে..সে কিন্তু তার মায়ের কাছে গিয়ে নালিশ জানায়..তার ছোটো মাথাটা মায়ের পায়ের সামনে নিয়ে গিয়ে
 গুটো দেয়..আর সেই গুতোর আঘাতে অভ্যস্ত অনুরাধা বুঝে যায় যে তার বাচ্চার খাবারের সময় হয়ে গেছে।



আসলে ভালোবাসাটাই সব৷
ভালোবাসা দিয়ে অনেক কিছু জয় করা সম্ভব। আমরা শুধু ব্যস্ততা নামক চাদরে নিজেদের মুড়ে রাখি। যেদিন এই ব্যস্ততার চাদর খুলে দেবো সেইদিন আমরা প্রতিটা ছোটো ছোটো আনান্দগুলোর বিন্ধু বিন্দু উপভোগ করতে পারবো।

বন্ধুরা আমাদের উদ্দেশ্যে বিড়াল কুকুরের প্রতি মানুষের ভালোবাসা গুলো একটু অন্যভাবে প্রকাশ করানো। যাতে একটু হলেও ওদের উপর যারা অত্যাচার করে..তাদের বিবেকে আমাদের এই গল্প গুলো গেঁথে তাদের মধ্যে মনুষ্যত্ব, ও অবলাপ্রাণীদের প্রতি ভালোবাসা জন্ম নেয়। জানিনা এইভাবে গল্পের মাধ্যমে আমরা কতটুকু ভালোবাসা বোঝাতে পারি। তবে আমাদের বিশ্বাস একদিন অবলাপ্রাণীদের মর্ম ও উপকারিতা, তাদের বন্ধু সুলভ আচরণ, মানুষের প্রতি ভালোবাসা, তাদের মতোন বন্ধু শত্রুকে সহজে চিনে নেওয়ার ক্ষমতার গুরুত্ব সবাই একদিন উপলব্ধি করতে পারবে।

বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২০

অক্টোবর ২৮, ২০২০

মৌমিতা ও পেটুকসোনার গল্প। Moumita Dhar।

ছবি - Moumita Dhar

হেই বন্ধুরা মাঝেমধ্যে আমরা সকলেই খুব তাড়াতাড়ি রেগে যাই। একটা ভালো কথা মুখ বাঁকিয়ে উত্তর দিই। হ্যাঁ কোনো সময় এর কারণ হয়ে থাকে মন খারাপ আবার কিছু পুরনো স্মৃতি যেগুলো খালি ভাবনার রাজ্যে নিয়ে যায় আবার হতে পারে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা আমাদের এই রাগের কারণ। এই রাগ,হিংসা আমাদের পক্ষে যে কতটা ক্ষতিকর হতে পারে এটা আমরা পরে বুঝতে পারি। সকলে শুধু রাগটাকেই বড়ো করে দেখে। আমরা যদি এই ছোটো ছোটো রাগ গুলোকে ঝেড়ে ফেলে দিতে পারি তাহলে বড়ো ধরনের একটা ক্ষয়ক্ষতির হাত দিয়ে আমরা বেঁচে যাবো। হাজার হোক রাগ করলে আর যাই হোক সমস্যার সমাধান হয়না। বরং সমস্যা আরও বাড়ে। আমাদের সকলকেই দরকার। কারণ আমাদের একটাই পরিচয় আমরা মানুষ। এইসব রাগ,হিংসা জীবনের পথে একটা বাধা যাকিনা সুখের রাস্তা জ্বালিয়ে দেওয়ার কাজে  ব্যবহার হয়। তবে আপনারা এখন গল্পের দুনিয়ায় প্রবেশ করতে চলেছেন তাই এখুনি মনের যতো রাগ,অভিমান আছে সেগুলি দুর করে ফেলুন তো দাদা-দিদিরা।

আমাদের Silient Talks Of Midnight Animals ফেসবুক পেজের গল্পের দুনিয়ায় আপনাকে জানাই স্বাগতম। 

আজ আপনারা যেই গল্পটি পড়তে চলেছেন সেটির শুরুটা ঠিক দুইবছর আগে।
২০১৮ সালের মার্চ মাসে..নিউ ব্যারাকপুরের আশেপাশের কোনো এক জায়গাই সদ্য জন্ম নেয় পেটুক নামের একটি মেয়ে বিড়ালের।

আলোচ্যে গল্পটির যাবতীয় তথ্য ও ছবি আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন - Moumita Dhar

উপস্থাপনায় - Silient Talks Of Midnight Animals.. 


যেইদিন আমাদের পেটুক সোনা ভুমিষ্ঠ হয়েছিলো ওইদিন কোনো কারন বশত মৌমিতা বাড়িতে ছিলোনা। পরে তিনি যখন বাড়ি ফেরে তখন সে তার মা ও বাবার কাছে এই ব্যাপারটি শুনেছে। সেইদিন খুব বৃষ্টি পড়ছিলো। যেই বিড়ালের সন্তান আমাদের পেটুক রানী। সেই বিড়ালটির প্রথম সন্তান ছিলো পেটুক। বাচ্চাটি কোথায় দিয়েছিলো সে সেটি কেউ ঠিকমতো বলতে পারেনি। তবে মৌমিতার বাড়ির গেটের সামনে বাচ্চাটির মা তার সন্তানকে ফেলে দিয়ে কোথায় যেন চলে যায়। তো মৌমিতার মা ওই বাচ্চাটিকে ঘরে নিয়ে আসে। বাচ্চাটিকে মুছিয়ে একটা গরম জায়গাই রেখে দিয়েছিলো। কিন্তু বৃষ্টি থামতেই বাচ্চাটির মা সেই গেটের সামনে এসে খুব কান্নাকাটি করতে থাকে..নিজের বাচ্চাকে না দেখতে পেয়ে। তখন মৌমিতার মা আমাদের পেটুকরানী কে তুলে দেয় তার মায়ের হাতে। আর ওর মা তার সন্তানকে নিয়ে চলে যায়।


পরের দিন,

মৌমিতার চোখে পড়ে সেই বাচ্চাটিকে মানে আমাদের পেটুকরানীকে। পেটুকের মা পেটুককে আবারো মুখে করে সেই বাড়িতে নিয়ে আসে। পেটুকের গায়ের একটুও লোম ছিলোনা, তার শরীরের পুরো লাল চামড়াটা দেখা যাচ্ছিলো..সেই দৃশ্য মৌমিতার গায়ের লোম কে দাক্বড় করিয়ে দেয়।

এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই পেটুকের মা পেটুককে মৌমিতার বাড়িতে নিয়ে আসতো। একদিন সন্ধ্যাবেলায় মৌমিতা একটু অন্যমনস্ক ছিলো, তখন পেটুকের মা পেটুককে নিয়ে আসে মৌমিতাদের বাড়িতে। তারা দুইজনেই খেলছিলো। খেলতে খেলতে পেটুকের মা একটু বেখেয়াল হয়ে যায়। ঠিক তখনি কোথা থেকে একটা বড়ো ইঁদুর এসে পেটুলের লেজ ধরে টানতে টানতে নিয়ে যায়। ওর মা যখন বুঝতে পারে যে তার সন্তানকে কেউ নিয়ে যাচ্ছে তখন সে চিৎকার করে উঠে। সেই চিৎকার শুনে মৌমিতা বাইরে যায় এবং সেই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে..তবে ইঁদুরটি তখন পালিয়ে গিয়েছিলো। পেটুকের মা তখন জোড়ে জোড়ে কাঁদছিলো। আর পেটুক ভয়ে চুপ করে এক জায়গায় বসে আছে। পেটুকের লেজের গোড়ায় লেগে আছে রক্ত। মৌমিতা বিড়ালছানাটিকে ঘরে নিয়ে আসে। ব্যস তারপর থেকে আর কখনো সে তার পেটুককে পেটুকের মায়ের কাছে তুলে দেয়নি। পেটুক তখন একটা নতুন ঘর পেলো, সাথে পেলো একটা নতুন পরিবার।


পেটুককে দেখতে না পেয়ে পেটুকের মা যখন খুব কান্নাকাটি করতো। তখন পেটুকের মা'কে ধরে এনে বারান্দায় আটকে রেখে পেটুককে তার মায়ের কাছে দিয়ে দিতো। ওখানে পেটুকের মা পেটুককে দুধ খাওয়াতো, আর আদর করতো। যাই হয়ে যাক না কেন..পেটুকের মায়ের কাছে পেটুককে কখনোই একা ছাড়তো না..আর পেটুকের মা যাতে পেটুককে না নিয়ে যেতে পারে সেইদিকেও লক্ষ্য রাখতো।
পেটুককে আদর করানো হোক, কিংবা খেলা করা সিব মৌমিতার বাড়িতেই হতো। একসময় যখন মোহ কাটতে থাকে তখন পেটুকের মা আস্তে আস্তে করে ওইবাড়িতে আসা বন্ধ করে দিলো। শুধু পরে থাকলো তার সন্তান। শুরু হলো একটা নতুন জীবনের গল্প। পেটুকরানীর গল্প।

মৌমিতার বাড়ির একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হলো পেটুক। যখনি মৌমিতার কোনো আত্মীয়স্বজন ফোন করতো তারা আগে পেটুকের খবর নিতো। পেটুকসোনা ছোটোবেলায় খুব খেতে ভালোবাসতো। ঘুমাতো খুব কম। সবসময়ই মুখ চলতে থাকতো পেটুকের। তাই এই নাম। মৌমিতার পাশের বাড়ির এক প্রতিবেশী আমাদের নাদুসনুদুস পেটুকের আরও একটা নাম দিয়েছিলেন..তারা ভালোবেসে টেপি বলে ডাকতেন।



পেটুকের যতো আদর তার দিদি মৌমিতার কাছে। পেটুক এসে মৌমিতার নাকে চুমু দেয়, কখনো পায়ের আঙুল কামড়ে কিংবা হাতের আঙুল মুখে নিয়ে বোঝাতে চাইতো যে, আমাকে এখন আদর করো।

মৌমিতা যাই খাবার খাক না কেন..পেটুক মৌমিতার সামনে এসে আস্তে আস্তে মুখ নাড়াবে..মানে খাবার-টার ভাগ আমাকেও দাও।

ওর প্রিয় খাবার মিষ্টি।
বাড়িতে পূজো দেওয়ার সময় মৌমিতার মায়ের পাশে চুপ করে বসে থাকবে। মিষ্টির জন্য। ও জানে যে, মৌমিতার মা পূজো হয়ে গেলে ঠিক মিষ্টি দেবে।


আমাদের পেটুকরানীর রাগ ভাঙানোর জন্য হয় গুঁড়ো দুধ নাহয় মিষ্টি দিতেই হবে। নাহলে রাগ কমেনা।

মৌমিতার বাবা যেইদিন বাজারে যায়না সেইদিন পেটুক ঠিক বুঝে যায়। তখন পেটুক মৌমিতার বাবার পা টেনে ধরবে আর নাহলে পায়ে,হাতে মাথা দিয়ে আদর করে বোঝাতে চাইছে যে এখন বাজারে যাও। এটা একপ্রকার ঘুষ যেটার মাধ্যমে  পেটুক মৌমিতার বাবাকে বোঝাতে চাইছে এইবার বাজারে যাও।

বাবা যখন বাজারে যাবে তখন পেটুক গেট অবধি সে তার বাবাকে এগিয়ে দেবে, তখন সে গেটের আশেপাশেই অপেক্ষা করে..কখন মৌমিতার বাবা বাজার থেকে মাছ নিয়ে আসবে।


মৌমিতার বাবা যখন খেতেবসে..তখন পেটুক ও ওখানে বসে থাকে কারন সে জানে ওখানে বসে থাকলে কিছুনা কিছু সে পাবেই।

আমাদের এই ছোটো পেটুক মৌমিতার ছোটো বনের মতোন। মৌমিতা যাই করুক, যেই জিনিসটাই দেখুক তা সে ফুল হোক কিংবা অন্যকিছু সেইসব কিছুর-ই খুঁটিয়ে দেখে পেটুকরানী। পেটুকরানীর একটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো তার দিদি মৌমিতাকে সকালে ঘুম থেকে উঠিয়ে দেয়। তা সে চুমুর মাধ্যমে হোক কিংবা হাল্কা সুরে ডেকে। তবে এমনি এমনি নয়। সেইসময় পেটুককে চটকে চটকে আদর করতে হয়।


একবার মৌমিতা দুইদিন বাড়ি ছিলোনা সেইসময় পেটুক মৌমিতার বাবার সাথে ঘুমিয়েভহিলো। তো ওইদুইদিন রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠে মৌমিতার খাটের দিকে মাথা উঁচু করে দেখতো মৌমিতা আছে কি না। মৌমিতাকে না পেয়ে পেটুক মৌমিতার মায়ের কাছে গিয়ে ডাকতো।


ছবিতে যেই গোলাপফুলটা দেখছেন ওটা আগে মৌমিতার হাতে ছিলো। মৌমিতার সব জিনিস-ই পেটুকের পছন্দ তাইতো যখন মৌমিতা গোলাপফুলটা পেটুকের দিকে বাড়িয়ে দিলো..তখন পেটুক বুড়ো আঙুল দিয়ে ফুলটা ধরলো। আর ফুলের গন্ধ শুকে একভানে ফুলটার দিকে তাকিয়ে বুঝতে চেষ্টা করলো জিনিস-টা কি।


তো এটাই ছিলো আমাদের পেটুক সোনার গল্প। আমাদের আজকের গল্পটা কেমন লাগলো সেটা অবশ্যই জানাবেন।

বন্ধুরা আমাদের উদ্দেশ্যে সকলের মাঝে ভালোবাসা পৌঁছে দেওয়া যাতে একটু হলেও বিড়াল কুকুরের উপর অত্যাচার কম হয়। ওদের ও বাঁচার অধিকার আছে। আমরা মাঝেমধ্যে কোনো না কোনো ভাবে যারা বিড়াল কুকুর পোষে তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করি। এর মূলত অনেক কারণ আছে..এই যেমন ধরুন কারুর বাড়ির সামনে যদি অন্য কুকুরে এসে পায়খানা করে গেলো..তো সেক্ষেত্রে দোষ পড়বে পাশের বাড়ির কুকুরটার উপর। আবার এও ধরুন পাশের পাড়া থেকে একটা বিড়াল এসে এপাড়ার কারুর বাড়ি থেকে মাছ নিয়ে গেলো..তো এক্ষেত্রেও দোষটা সেই বিড়ালপ্রেমীদের বিড়ালের উপর পড়বেই। এছাড়া অনেকে বলে বিড়াল কুকুর ডাকা অমঙ্গল।

পায়খানা,বাথরুম,ডাক এগুলো স্বাভাবিক জিনিস। মানছি সবসময় উপরের কারণ গুলোর মতোন এপাড়ার বিড়ালগুলোর নির্দোষ নাও হতে পারে। 
তবে বিড়াল কুকুর পোষ মেনে গেলে ওরা প্রায় অনেক নিয়মকানুন মেনে চলে। আর সবথেকে বড়ো কথা কুকুর কে বাড়িতে রেখে যদিও পোষা যায় ( সবক্ষেত্রে নাও হতে পারে ) তবে বিড়ালকে আটকে রাখা একটু শক্ত। তবে পুরোপুরি পোষ মেনে গেলে আর তো কোনো কথাই নেই।

আপনাদের সকলের কাছে একটা বিনীত অনুরোধ, আপনি যদি কোনো বিড়াল কুকুরের দায়িত্ব না নিতে পারেন তবে যারা ওদের দেখভাল করে তাদের মনোযোগ ভেঙে দেবেন না। পারলে তাদের উৎসাহ দিন। ওইযে আগেই বলেছি ছোটো ছোটো রাগ গুলো আমরা যদি ঝেড়ে ফেলতে পারি তবে একটা বড়ো ধরণের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে আমরা নিজেদের রক্ষা করতে পারি।

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২০

অক্টোবর ২৭, ২০২০

কালু ও তার দিদির গল্প। Poulami Acharjee।

ছবি ও তথ্য - Poulami Acharjee 
উপস্থাপনয় - Silient Talks Of Midnight Animals  
হেই বন্ধুরা আমরা সকলেই জানি আমাদের জীবনের দাঁড়িপাল্লায় এমন একটা সময়ের ওজন পরিমাপ করতে হয় যেটার ফলাফল ওজন পরিমাপক ব্যাবহার করে হোক কিংবা না করে ফলাফল সবসময় চাহিদার বিপরীতে আসে। কারুর বংশে ছেলের সংখ্যা বেশী, আবার কেউ লাখ তপস্যা, তাবিজ কবজ, এই মন্দির ওই মন্দির। এই আমাবস্যায় পূজা করো তো আমাবস্যায় ওই করো, ওই গাছে সুতো বাঁধো, ওই ব্রত রাখো..গঙ্গা স্নান করো।

মানে মানুষ কে যে কত হেনস্থা করা হয় শুধুমাত্র যাদের ছেলে সন্তান হচ্ছেনা তাদের ছেলে হওয়ার জন্য। হ্যাঁ ঠিক তাই এইসব মানুষদের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে শুষে নেওয়া হয়। কিন্তু ফলাফল তারা কিছুই পায়না। কিন্তু শেষে যখন তারা ব্যাপারটা উপলব্ধি করে, তখন অনেকটা দেরী হয়ে গেছে। খরচের টাকার পরিমাণ হয় অনেক বেশী।
এক্ষেত্রে দম্পতি যদি পয়সাওয়ালা হয় তবে তাদের আঘাত সহজে হজম হলেও..মধ্যবিত্ত ঘরের লোকেদের হিসাবের অঙ্কটা গ্যাসের ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এদিকে যখন মা চাপ দেয় - বাবা, নাতি হলে দশটা আঙুল ভরে আংটি দেবো..এই ঘন্টাধ্বনি তে ঘরের চারিদিকে খুশির জোয়ারে চারিদিকে থইথই।
অন্যদিকে যে মা..মাসের পর মাস নিজের গর্ভে একটা প্রাণকে পরম স্নেহে বড়ো করতে থাকে..সেই মায়ের যখন ভ্রণ পরীক্ষা করে ছেলে না মেয়ে সেই বিষয়ের পরীক্ষা  করে বাচ্চাটি নষ্ট করার পরিকল্পনা সাজানো হয়..
তখন একটা মায়ের বুকে যে কি পরিমাণ কষ্ট হয় সেটা কি কেউ বোঝে?

তবে আমি আজ যেই গল্পটা বলবো সেটি অভিন্ন। আগেই বলে দিচ্ছি আমাদের গল্পের দুনিয়ায় আসতে গেলে.. আপনাকে হিংসা,রাজনীতি, ব্যস্ততা,অদয়ালু মনোভাবকে সুটকেস ভরে রেখে আসতে হবে। কারণ এই জগৎ পশুপাখি ঘিরে। এই জগৎ অবলা পশুদের অত্যাচার বন্ধের বিরুদ্ধে, এই জগৎ অবলাদের প্রতি অত্যাচার বন্ধ করে তাদের একটা ভালোবাসার দুনিয়ার চাঁদরে মুড়িয়ে দেওয়ার একটা ক্ষুদ্র প্রয়াস। তবে সেটি সম্ভব নয় যদি আপনারা আমাদের সাহায্যে করেন। একা একা রাজা হওয়া যায়না, আমাদের সকলের উদ্দেশ্য যেন এই অবলাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।


৩১/০৩/২০২০। দিনটি আরটা পাঁচটা দিনের মতোন এক নয়। ওইদিন বার্ণপুরের আশেপাশে কোনো একটা জায়গায় জন্ম হয়েছিলো ফুটফুটে একটি বিড়াল সোনার। যে বাড়িতে জন্ম নিয়েছিলো বিড়ালটি তারাই পরে ওর নাম রাখে কালু। 
আমাদের কালু খুব বদমায়েশি করলেও। কালুসোনার মা,বাবা ও দিদিকে ছাড়া পাঁচ মিনিটও চলেনা। বাবা যখন অফিস থেকে ফিরে আসে তখন যেই সময়ে বাবা বাড়ি আসে সেই সময়ে কালুসোনা জানলায় গিয়ে বসে থাকে। বাবার সাথেই রাতে বিছানায় ঘুমায়। 


খাবারের মধ্যে আমাদের কালুসোনার আমুল দুধের গুঁড়ো,ভাত, মাছ আর বেসনের পোকড়া তার খুব প্রিয়। যেটার গন্ধ যদি একবারও কালুর নাকে গেছে তো..কালু তার মা'কে পাঁচ মিনিটও দাঁড়াতে দেয়না।

ওর কোনো অভিযোগ থাকলে..সেটা ধরে নেওয়া খুব সোজা। কারণ ওইদিন বাবু রাতের বেলায় তার বাবার কাছে শুতে আসেনা। রাগ করে বসে থাকে। বাবার আদরের অপেক্ষা করে জানলায় বসে। হয়তো ভাবে কখন বাবা আদর করে তুলে নিয়ে যাবে তাকে। কালুর একটা দিদিও আছে যার নাম চিনি। সেই একমাত্র কালুর সঙ্গী। এরা দুইজনে যদি একবার এক হয়ে যায়..তো পুরো বাড়ি মাথায় তুলে রাখে।


ছবি - কালুর বাবা ও তার মায়ের সাথে তোলা ছবি

কালু সোনা সচরাচর রাগেনা, তবে রেগে গেলে তাকে আমুল দুধের গুঁড়ো দিতে হয় গো বাপু। এ ছাড়া সে আর কিছু বোঝে না গো। হ্যাঁ তবে বাবা যদি আদর করে তাহলেও বাবুর রাগ গলে জল হতে বেশী সময় লাগেনা। বাবাকে খুব ভালোবাসে।

ঘুম থেকে উঠে কালু সোনার দুধ খাওয়ার অপেক্ষায় থাকে,  তাইতো সে ডাইনিং চেয়ারের উপর বসে থাকে, যতক্ষণ না বাবুকে দুধ দেওয়া হচ্ছে ততক্ষণ সে ওখানেই বসে থাকবে।

কালু ও তার মায়ের সাথে তোলা ছবি


আমাদের কালু সোনার একটি বিশেষ গুণ হলো..সে কিন্তু ঘর নোংরা করতে একদম পছন্দ করেনা। ছোটোবেলা থেকেই কালুসোনা বাথরুমে গিয়েই প্রাকৃতিক ডাকযোগে সাড়া দিত সে। 

এছাড়া তার মায়ের মন খারাপ থাকলে মায়ের কাছে গিয়ে মা'কে আদর করে..যেন ওহ বলতে চাইছে মা তুমি চিন্তা করোনা, আমরা সবাই আছি তো। বাবা যদি কালু সোনাকে কিছু বলে তবে কালুসোনা সেটাও বোঝার চেষ্টা করে।

এই হচ্ছে তোমাদের প্রিয় কালুসোনা..তোমরা সকলে আশীর্বাদ করো কিন্তু আমাদের সোনাকে..যাতে কালুসোনার দীর্ঘ হয়।

পুরো ঘটনাটি Poulami Acharjee নামের এক দিদিভাই আমাদের জানিয়েছেন। তার খুব আদরের ভাই কালু। একসময় সে মন খারাপ ও করেছে কারণ  তার কোনো ভাই নেই..তবে এখন আর তার মন খারাপ হয়না। পৌলুমির মা, পৌলুমি কে বলেছে..তোর ভাই নেই তো কি হয়েছে? এরাই তোর ভাই..যারা তোকে কোনোদিনও কষ্ট দেবেনা।

গল্পটা কেমন লাগলো আপনাদের সেটা জানিনা। তবে তার মায়ের মতোন মা যেন সব জায়গায় বিরাজ করে। সত্যি এই গল্পটা যারা ছেলে চাই, ছেলে পছন্দ করেন তাদের কিছুটা হলেও শিক্ষার বিষয় হওয়া উচিৎ। তার মা দেখিয়ে দিয়েছেন ছেলে মেয়ের ভেদাভেদ বলে কিছু হয়না।


যেখানে আমরা যেখানে ছেলে ছেলে করে লড়াই করি, যেখানে এক শ্রেণীর সুবিধাবাদী মানুষ সেইসব মানুষদের দুর্বলতাকে ঘিরে ব্যাবসা শুরু করেছে সেখানে এই ঘটনার মূল্যে কতখানি সেটাই প্রশ্নের।

সর্বশেষে ছেলে মেয়ের মধ্যে ভেদাভেদ করবেন না। একটা মেয়ের জন্ম হয় বাবার ঘরে, সে বেশি দিন বাবার ঘরে থাকার ভাগ্যে নিয়ে আসেনা..কারণ তার মৃত্যু লেখা থাকে স্বামীর ঘরে। একটা মেয়ে হওয়া যে কতটা কষ্টের সেটার মর্ম সকলে বোঝেনা। তাই একটা অনুরোধ রইলো..পরেরবার থেকে ছেলে চাই, ছেলে চাই না করে যদি কন্যা সন্তান হয়..তো তাকে না ফেলে বরণ করে নিন। আর পারলে যে টাকা ছেলে হওয়ার পেছনে খরচ করতেন সেই টাকা মেয়ের ভবিষ্যৎ ও পড়াশোনার উপর খরচ করুন দেখবেন ঠকবেন না।

আলোচ্যে ঘটনাটি অনেক মেয়ের কাছেই ভরসা হয়ে দাঁড়াবে যাদের কিনা ভাই নেই, অথচ বাড়িতে ছোটোছোটো বিড়াল কুকুরের মতোন বন্ধুরা রয়েছে।

আমাদের উদ্দেশ্যে সকলের মধ্যে ভালোবাসা পৌঁছে দেওয়া যাতে মানুষ গুলো পশুগুলোর উপর একটু হলেও কম অত্যাচার করে।

সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২০

অক্টোবর ২৬, ২০২০

ওরিও ও তার মায়ের গল্প।


ছবি ও তথ্য আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন -  প্রিয়াঙ্কা মণ্ডল।  






আমাদের জীবনে প্রতিনিয়ত এমন কিছু ঘটনা ঘটে যে ঘটনাগুলো আমাদের জীবনের চলার পথের রাস্তাকে সম্পুর্ণ পালটে দেয়। আমরা সবকিছুর ভাগ সকলের সাথে ভাগ করে নিতে পারি। কিন্তু নিজের প্রিয়জনদের ভাগ আমরা কাউকে দিইনা। আমরা ভালোবাসাকে ছড়িয়ে দিতে পিছুপা নাহলেও ভালোবাসার ভাগ দিতে পারিনা। 

আজ আমি আপনাদের  প্রিয়াঙ্কা মন্ডলের জীবনে ঘটে যাওয়া একটা হৃদয়বিদারক ঘটনা শেয়ার করবো। 

বন্ধুরা আমাদের পেজ ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে চাই সকলের মধ্যে। যাতে ভালোবাসার রঙে সকলে ভেসে যেতে পারে সেই দুনিয়াই। যেখানে কোনো মানুষ অবলাদের উপর অত্যাচারের  সম্মুখীন হয়না। হ্যাঁ সেখানে অবলাদের খুব যত্ন করা হয়। হ্যাঁ এমন এক দুনিয়া সত্যি আছে যেখানে হিংসে নেই, আছে ভালোবাসা।

ফেসবুক খুলে চলে যান সার্চ বক্সে সেখানে লিখুন silient talks of midnight animals. ব্যাস আপনি এবার পৌঁছে গেছেন আমাদের সেই মজার দুনিয়াতে। এবার আপনি যেমন খুশি ইচ্ছুক সেইরকম গল্প পড়ুন,অথবা শুনুন। এরজন্য কোনো পয়সা লাগবেনা।



2019/09/10 বসিরহাটে ভ্যাবলা নামক একটি জায়গায় জন্মেছিলো প্রিয়াঙ্কা মণ্ডল নামের এক দিদিভাইয়ের মেয়ে সন্তান নাম ওরিও। ওরিওর বয়স তখন ৪/৫ দিন হবে। বেচারির তখন চোখ ফোটেনি এবং পেটের নারি এখনও কাঁচা। সেই অবস্থায় বাড়িতে যখন প্রিয়াঙ্কা দিদি নিয়ে আসেন তখন বাড়ি থেকে অনেকেই বলেছিলো ওকে তুই বাঁচাতে পারবিনা। কিন্তু ওইযে মনের যেদ মানুষকে অনেক অসাধ্য সাধন করার ক্ষমতা দেয়। প্রিয়াঙ্কা দিদি বলেন, হ্যাঁ আমি ঠিক বাঁচাবো। তারপর থেকে শুরু হয় রাত-দিন এক করে সেবা। এই আদর আর সেবাই আমাদের ছোটো সোনাকে বড়ো করছিলো ধীরেধীরে। 


দিদির নিজের একজন কন্যা সন্তান আছে। তাকে যখন দিদি বিছানায় নিয়ে দুপুরে ঘুমোয় তখন আমাদের ছোটো ওরিও সোনাও দিদির কাছে শুয়ে পড়বে..তখন দিদি পরম স্নেহে ওকে ধরে নিজের পাশে শুয়ে দিত। 

ছবি - ছোটো ওরিও সোনা যখন দুধ খাচ্ছিলো তখনকার ছবি।  
বাড়ির সকলেও ওকে খুব ভালোবাসতো। দিদি নিজে ওকে ছোটো মেয়ে ভাবতো। যদি দিদিকে ওরিও কোথায় না দেখতে পেতো তখন সে চুপচাপ বসে থাকতো। তবে দিদির দেখা পেলে ব্যস..সোনাকে তখন আটকানো মুশকিল। যেখানেই থাকুকনা কেন দিদির আওয়াজ পেলে ছুটে চলে আসতো। পুরো যেন মানুষের মতোন।

রাতের বেলাতেও আমাদের প্রিয় সোনা তার মা ( প্রিয়াঙ্কা ) ও বাবার ( প্রিয়াঙ্কার বর ) মাঝখানে না শুলে ওর ঘুম-ই আসতো না।
ওহ না যদি না শোয় তবে দিদিদের ও রাতে ঠিকমতোন ঘুম হতোনা। প্রিয়াঙ্কা দিদির মেয়েও কিন্তু ছোটো বোন ওরিও কে খুব ভালোবাসতো।

বন্ধুরা আমরা সকলেই জানি সুখ-দুঃখ, হাসিখুশি,আবেগ আবদার এইসব টুকটাক জিনিস নিয়েই আমাদের পথ চলতে হয়। তাই ভালোর মাঝে খারাপ, খারাপের মাঝে ভালো এইসব সার্কেলের মতোন চলতে থাকে।


ওরিও'র যখন ১১ মাস বয়স তখন সে গর্ভবতী হয়। কিন্তু বেচারী খুব কষ্ট পাচ্ছিলো। তাই তার মা ডাক্তারকে ডাকেন। ডাক্তার এসে ট্রিটমেন্ট শুরু করে। ওরিও শেষমেশ তিনটি সন্তান প্রসব করে। কিন্তু বাচ্চাগুলো জীবিত নয় মৃত। সুখের সংসার সমুদ্রে জোয়ারভাটা লেগেই থাকে। সেইঘটনায় প্রিয়াঙ্কা দিদির মনেও উথাল-পাতাল ঢেউ তুলেছিলো। ঠিক তখনি তিনি জানতে পারেন যে, তার ছোটো মেয়ে ওরিও এই দুনিয়ায় নেই। 

বন্ধুরা ভুল চিকিৎসা জন্য এই পরিনতি হয়েছিলো নাকি সোনার ভাগ্যে তার সাথে লুকোচুরি খেলছিলো সেটির ইতিহাস এখনো অজানা। তবে চলে গেলো এক মেয়ে তার মায়ের বুক খালি করে। এর চেয়ে খারাপ আর কিছু হতে পারে।


ওরিও যেখানে থাকুক ভালো থাকুক। ওরিও'র মা যেন সুস্থ থাকে। বন্ধুরা আপনারা সবাই তাদের হয়ে দোয়া করবেন।

মুল ঘটনা-টি প্রিয়াঙ্কা মণ্ডল দিদিভাই আমাদের জানিয়েছেন।

ছবি - প্রিয়াঙ্কা মণ্ডল। 

ঘটনাটি কতটা ভালো লেগেছে আপনাদের সেটি জানিনা। তবে ঘটনাটি হৃদয় বিদারক। ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল প্রাণ।

রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০

অক্টোবর ২৫, ২০২০

কোকোর দুষ্টুমি। Lahari Bhattacharjee। দেখুন কোকোর ছবিগুলি।

ছবি- Lahari Bhattacharjee  
উপস্থাপনায় - Silient Talks Of Midnight Animals     
তো বন্ধুরা সকলে কেমন আছো? আমাদের পেজের গল্প গুলো কিরকম লাগছে তোমাদের? আমাদের উদ্দেশ্যে সকলের কাছে অবলাপ্রাণীদের প্রতি ভালোবাসা সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এইজন্য সবসময় চেষ্টা করি তোমাদের জীবনের অভিজ্ঞতা গুলোকে গল্পের গহনাতে ভরিয়ে উপস্থাপনা করতে। যাতে যেসকল মানুষেরা পূর্বে অবলা প্রাণীদের উপর একটু হলেও অবজ্ঞা নজরে দেখতো তাদের পাষাণ মন গলে কচি সবুজ ঘাসে পরিণত হয়। তাই এই প্রচেষ্টা। 

 প্রতিটা মানুষের জীবনে এমন একটা সময় আসে যেই সময়টার স্বাদ তারা বার বার পেতে চায়। সেই সময়টাকে খারাপ সময়ে আঁকড়ে বাঁচতে চায়। কিন্তু চেয়েও পায়না। যতোই বয়স বাড়ে ততোই নানা ধরনের সময়ের সাক্ষী থাকি আমরা..
আসলে বয়স হচ্ছে শুধু একটা সংখ্যার খেলা। যেটার খেলা আমরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে,বিভিন্নসাজে দেখে এসেছি। কিন্তু ছোটোবেলার স্বাদ পেতে কার না ভালোলাগে??

আমাদের পেজটি তো আর রুপকথার পেজ না..পশুপাখি দের ভালোবাসায় ভরা আপনাদের প্রিয় ফেসবুক পেজ - silient talks of midnight animals ( stoma ) পেজটি আজ আবারো চলে এসেছে এক ভিন্ন স্বাদের গল্প নিয়ে। 


আজ আমি তোমাদের ভিন্নস্বাদের একটা ছোটো গল্প শোনাবো।


কলকাতা থেকে অনেকটা দূরে নিউ জলপাইগুড়ির আশেপাশের কোনো এক জায়গাতে ২০১৮ সালের ২৮ শে জুন শুরু হয়েছিলো। ওইদিন ফুটফুটে কোকো নামের এক বিড়ালছানার জন্ম হয়। দিনটা আর কারুর জীবনে স্মরণীয় হোক কিংবা না হোক লাহরী ভট্টাচার্য নামের একজন বিড়ালপ্রেমীর কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার কাছে সেইদিন কোলজুড়ে আসে কোকো সোনা। কোকো খুব দুষ্টু মেয়ে। কোকোরা হলো যমজ, কোকোর অন্য বোনের নাম চকো।



ছবি - চকো 

কোকোর মা লহরী খুবই দায়িত্ববান। সে তার সন্তানদের যত্নের কোনো ত্রুটি রাখেনা। বন্ধুরা আসুন আপনাদের একটু অতীতে নিয়ে যাই। এইযে লাহরীর কথা আপনারা শুনছেন ওনার এককালে ৩৬-টা বিড়াল ছিলো। ছানাপোনা, মাঝারি, ও বড়ো বিড়াল মিলে মোট ৩৬-টা বিড়াল ছিলো। তবে তিনি যেহেতু ফ্ল্যাটে থাকতেন। আর বাচ্চাগুলো একে অন্যর সাথে মারপিট করতো এছাড়া নানান রকমের সমস্যায় পড়েন তিনি। তাই তিনি বাচ্চাগুলোকে ভালোঘরে দত্তক দিয়ে দেন। যাতে ওদের কোনো কষ্ট না হয়।

লাহরী মত অনুযায়ী - আমরা চাইলেই ওদের অনেকভাবে সাহায্যে করতে পারি। কারুর বাড়িতে যদি অবলা পোষ্যদের রাখতে কোনো অসুবিধা হয় তো তাদের দত্তক দিয়ে দেওয়া উচিৎ। যাতে তারা সকলে ভালো একটা ঘর ও পরিবার পায়। লাহরী অত্যন্ত কষ্টের সহিত বাচ্চাগুলোকে অন্যর বাড়িতে তুলে দিয়ে আসে। তবে এইসব একদিনে হয়নি। সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে কোকোর যখন একে একে সব ভাইবোনেরা অন্যত্র চলে যেতে শুরু করেছিলো। তখন কোকোর ও মন ভীষণ খারাপ হয়ে গেছিলো।

তো গল্পে আসা যাক। আমাদের কোকো রানী। খুব দুষ্টু৷ নিমেষের মধ্যে কোথায়,কি কাজ করে ফেলবে আপনি ধরতে পারবেন না। কোকোর জন্ম হয়েছিলো তার মা লাহরীর ঘরেই। পুঁচু নামের একটা বিড়াল কোকোর জন্ম দেয়। এই পুঁচুরও একটা ইতিহাস আছে..সে যখন খুব ছোটো ছিলো তখন তার মা, তাকে মুখে করে লহরীর বাড়িতে এনেছিলো। লহরী তিনবছর পুঁচুকে নিজের কাছে রেখে বড়ো করে। তবে পরবর্তীকালে সে তার প্রিয় পুঁচুর আরেক মেয়ে চকোকে দিদার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

ছবি - পুঁচু কোকোর মা

সকালে কোকোর মায়ের ঘুম ভাঙে কোকোর ছোটো-ছোটো হাতের মার খেয়ে। যদি তার মায়ের ঘুম ভাঙতে  ন'টার এক মিনিটের ও বেশী হয়। তাহলে পুচকে কোকোর নাকি রাগ হয়। বাড়ির প্রত্যেক-টা জিনিস তার দখলে। ঘরের কলিংবেল বাজলে আগে কোকো ছুটে গিয়ে দেখতে যাবে, যে কে এসেছে তার বাড়িতে। যেই আসুক না কেন তাকে ঘর অবধি নিয়ে আসা, আবার যাওয়ার সময় বাইরে দৌঁড়ে গিয়ে ছেড়ে দিয়ে আসাও তার বড়ো এক দায়িত্ব। ঘরের মাইক্রোওয়েভে কেউ হাত দিতে পারবেনা। ওটাও কোকোর দখলে। ওইখানে কোকোর খাবার গরম হয়।



কোকো তার সারাদিনের মনের কথা তার মায়ের সাথেই শেয়ার করে। কোকোর মা কোকোকে প্রচন্ড ভালোবাসে। এইজন্য সে তার মেয়ের মনের কথা কিছুটা হলেও বেশ বুঝতে পারে। কোকোর মায়ের উপর কোকোর কোনো কারনে রাগ হলে সে তার নিজের ছোটো দুটো হাত দিয়ে  মারে। বেশীর ভাগটাই গালেই চড় গুলো দেয়..তবে সেটি তার মা বেশ উপভোগ করে।

কোকো এমনি খুব দুষ্টু হলেও যদি বাড়ির কেউ কোকোকে বকা দেয়। তাহলে কোকো সোজা তার মায়ের কাছে দৌঁড়ে গিয়ে কোলের উঠে শুয়ে পড়ে। যতক্ষণ না পর্যন্ত যে বকা দিয়েছে সে এসে নিজের থেকে কোকোকে কোলে তুলে আদর না করে ততক্ষণ অবধি কোকোর রাগ ভাঙেনা।

কোকোকে দিনে তার মা পাঁচবার খেতে দেয়। কোকোর আবার পছন্দের খাবারের তালিকাটা একটু বড়ো। কোকো ইলিশ ভাত খুব ভালোবাসে। এছাড়া ছোটো মাছ ভাজা, পুডিং, মুড়িও বাদ যায়না। মুড়ি খেতেও কোকো পছন্দ করে। এছাড়া সে pedigree..ভালোবাসে। কোনো কোকো দিন কোকো দুপুরে খাওয়ার সবে ঘুমের দেশে পাড়ি দেয়। তখন কোকো এসে তাকে আস্তে করে ডাক দেয়..মুড়ি খাওয়ার জন্য। তবে কোকোর মা তখন কোকোকে আদর করে ঘুম পাড়িয়ে দেয়। 

কোকোর মা কোকোকে ছাড়া এক মুহুর্ত অন্য কিছু ভাবতে পারেনা। আর কোকোও সে তার বেশীরভাগ সময় তার মায়ের সাথে কাটাই। 

আমাদের কোকোর সবথেকে মহৎ যে গুন সেটি হলো..হেডফোন দেখতে পেলেই হয়েছে মুখে করে নিয়ে খাটের নীচে চলে যায়।
কোকো যখন হেডফোন নিয়ে খেলতে ব্যস্ত ছিলো তখনকার ছবি।

কোকোর মা যখন মাঝেমধ্যে ড্রয়িং করতে বসেন তখন কোকোও তার পাশে বসে থাকবে..সেই সুযোগ পাবে ওমনি পেন্সিল-টা মুখে নিয়ে কামড়ে ভেঙে দেয়। কোনো কোনো সময় পেন্সিল-টা ভেঙেও যায় কামড়াকামড়িতে। কোকোর মা, ভায়োলিন বাজানোর সময় Bow টাকে ধরার জন্য কোকো অপেক্ষা করতে থাকে। দুষ্টুমিতে সে কারুর থেকেই কম যায়না।


আর এসব এতো দ্রুত হয়যে। সেগুলো ক্যামেরা বন্দি করা যায়না।


তো বন্ধুরা এটাই ছিলো আমাদের কোকোসোনার গল্প। তোমরা সকলে কোকো ও তার মা লহরীকে আশীর্বাদ করো যাতে ওরা সারাজীবন এভাবেই একসাথে থাকতে পারে।

শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০

অক্টোবর ২৪, ২০২০

মায়ের ভালোবাসা। Rupsha Sb।

ছবি ও তথ্যসূত্র -  Rupsha Sb
উপস্থাপনায় - Silent Talks Of Midnight Animals       

একটু একটু করে ক্লান্তি গুলো চোখের পাতায় বাসা বাঁধছে..সারাদিনের ক্লান্তি দুর করার জন্য চোখের সাথে আমাদের এই দেহটাকেও বিশ্রাম দেওয়ার প্রয়োজন। আজও মনে পড়ে যায় ছোটোবেলায় ঘুমানোর আগে দাদু-ঠাকুমারা কত গল্প বলতো, শ্লোক বলতো..কিন্তু এখন সেইসব দিনগুলো অতীত। এখন কেউ ঘুমানোর আগে শ্লোক বলে পিঠ সাপটে দেয়না..কিংবা ঘুরতে যাওয়ার আগে পকেটে জোর করে কিছু পয়সা দিয়ে কেউ বলেনা " এইনে টাকাটা রাখ..লজেন্স খাবি " এখন তো আমরা বড়ো হয়ে গেছি। তো বন্ধুরা ছোটোবেলায় না ফিরে যেতে পারলেও ছোটোবেলা টাকে কিছুক্ষণের জন্য উপভোগ করাই যেতে পারে। তো দেরী কিসের..চলে আসুন ঝটপট আমাদের গল্পের দুনিয়ায়। 

দমদম এয়ারপোর্ট গেটের আশেপাশের কোনো এক জায়গা থেকে বালিগঞ্জের এক দিদির কাছে খবর আসে একটা বিড়ালছানা দত্তক নেওয়ার জন্য। সেই বিড়ালছানাটিকে ওখান থেকে নিয়ে অন্য একটা জায়গাই নিয়ে যেতে হবে। ওই বাড়িতে আরও একটা বিড়ালছানা আছে। ছেলে বিড়াল ছানা। যার দত্তক নেওয়ার কথা বলে হচ্চে সে মেয়ে। তো যে দিদির কথা বলছি তার নাম রুপসা। 


এই ছবিটি যাদের বাড়ি থেকে বিড়ালের বাচ্চাটিকে দত্তক দেওয়ার কথা বলা হয়েছে তেনাদের বাড়ির গ্যারেজে তোলা ছবিটি। এটা শ্যাম্পেনের দত্তক নেওয়ার আগের ছবি।

রুপসা যথারীতি যথাসময়ে যথাস্থানে গিয়ে হাজির হয়ে যায়। কিন্তু ওইযে কথায় আছে কপালের নাম গোপাল..কার ভাগ্যে কোথায় ঘুরে যায় কেউ বলতে পারেনা। যে বিড়ালছানাটি দত্তকের জন্য রুপসা দিদি ওই বাড়িতে গিয়েছিলো..সেই মেয়ে বিড়ালটিকে কিছুতেই ধরা যাচ্ছিলো না প্রথমে। পরে যখন ধরা হলো বাচ্চাটিকে..তখন সে কামড় দিয়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু..ওপর এক ছেলে বিড়ালছানাটি ক্রমাগত ওই দিদির পেছনে ঘুরে বেড়াচ্ছিলো সেইদিন। বাচ্চাটি এতো রুগ্ন যে দিদির মনে সেইসময় বিড়ালছানাটি কোনো দাগ কাটতে পারেনি। কিন্তু তবুও সাহস করে দিদি ওই বিড়ালটিকে ধরে যেই বাড়িতে দত্তক নেওয়া হবে সেখানে পৌঁছে যায়। দিদির মনে তখন একটা বিশ্বাস হয়েছিলো..তারা ওকে ফিরিয়ে দেবেনা। কিন্তু ওইযে ভাগ্যে। আমাদের ছেলে বিড়ালটি সেইদিন প্রতিজ্ঞা করেছিলো সে রুপসার সাথে রুপসার বাড়িতেই যাবে। তাইতো ওই নতুন বাড়িতে যাওয়ার পরেও সে সারাদিন কিছুই দাঁতে কাটেনি। 

রাত অবধি ওই নতুন বাড়ির লোকেরা ওই বিড়ালটিকে চোখে চোখে রেখেছিলেন। প্রায় রাত দুটো বাজার পর যে বা যিনি পাহারায় ছিলেন তার চোখ লেগে যায়। ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠে বিড়ালটিকে না দেখতে পেয়ে সকলে ভয় পেতে যান। ওরা সকলে খেয়াল করেন ওই বাড়ির-ই কোনো এক জানলা ঠেলেঠুলে পালিয়ে গেছে বিড়ালটি। উনারা সাথে সাথে রুপসা দিদিকে ফোন করে জানায়।  তো ততক্ষণে নতুন বাড়ির লোকেরা সেই বিড়ালটিকে খুঁজেও পেয়ে যায়। তারা দিদিকে সেই ব্যাপারটি জানায়। কিন্তু বিড়ালটি সেই আগের দিনের মতোন সেইদিনকেও কিছু খাইনি। এই বিষয়টা জানার পর থেকে রুপসা দিদিও চিন্তায় পরে যায়।

দিদি বিড়ালকে বোতল ফিড করানোর সকল সরঞ্জাম নিয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে খবর পেলো বিড়ালটি আবারো নিখোঁজ। উনারা অনেক খুঁজলো কিন্তু পাইনি। দিদিও শেষবারের মতোন ওদের সাথে বাচ্চাটিকে খোঁজার একটা বৃথা চেষ্টা করলো। কিন্তু পেলোনা। শেষে সবাই যখন পুরোপুরি ব্যর্থ, দিদিও হার স্বীকার করে ফিরছে তখন কোনো এক গাড়ির তলা থেকে বিড়ালটি সরু গলায় ডাকতে ডাকতে বাইরে বেড়িয়ে এলো। ঘটনাটি সকলকে অবাক করে..ওর বাড়ির লোকেরা তন্নতন্ন করে খুঁজেও বিড়ালটির কোনো খোঁজ পেলোনা আর এদিকে ওহ স্বইচ্ছায় নিজে থেকে বেড়িয়ে এসে দিদির কাছে ধরা দিলো।

রুপসা দিদি তখন এটা বুঝতে পারে যে..এই ছেলে মনেপ্রাণে সিদ্ধান্ত নিয়েই নিয়েছে সে রুপসা দিদির বাড়িতেই থাকবে।

দিদির তখন এই বিষয়ে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিলোনা। কিন্তু ওইযে বিড়ালটির মুখের দিকে তাকিয়ে মায়ায় পড়ে গেলেন। বিড়ালটি ৩৬ ঘন্টার উপরে কিছুই খাইনি। দিদি তাকে তৎক্ষনাৎ একটা পেট স্টোরে নিয়ে গেলো..সেখানে গিয়ে জানতে পারলো ওখানে কোনো ভেট ( vet - পশুচিকিৎসক ) আজকে বসিনি। তবুও কষ্টকরে একজন ভেটের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারলেন বিড়ালটিকে স্যালাইন দিতে হবে । দিদির বক্তব্য অনুযায়ী, পরের দিন যখন ভেটের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়.. severe respiratory tract infection, nebuliser and heat দিয়ে দিয়ে বিড়ালটিকে অনেক কষ্টে সুস্থ করে তোলা হয়। বিড়ালটি আস্তে আস্তে খাওয়া শুরু করে।


এই ছবিটি vet দেখানোর দ্বিতীয় কি তৃতীয় দিনের ছবি।  

সেইদিন থেকেই শুরু হলো রুপসা দিসি আর শ্যাম্পেন এর এক নতুন জীবন। হ্যাঁ ভালোবেসে অনেক নাম ধরেই বাবুকে ডাকা হয় কিন্তু বাবু শুধু এই নামেই সাড়া দেয়।

জন্মতারিখ আনুমানিক ১৫ এই সেপ্টেম্বর ২০১৭..কারণ যার বাড়ির বিড়াল সে নিজেও বলতে পারিনি বিড়ালটার জন্মতারিখ।

শ্যাম্পেন এর এক ভাই আছে যার নাম T'Challa। তার গল্প অন্যদিন শোনাবো।

ভাবতেও অবাক লাগে। দিদিতো সেইদিন একটা বিড়লকে অন্য একটা পরিবারে পৌঁছে দিতে গেছিলো। কিন্তু সেখানে গিয়ে ঘটে গেলো এই ম্যাজিক। শ্যাম্পেনের বোনকে কে দত্তক নেয় সেটা দিদি জানতে পারিনি।


ফ্যামিলির ফটো 

দিদির মনে শ্যাম্পেন অনেকটা জায়গা দখল করে রয়েছে। তারা দুইজন দুইজনকে খুব ভালোবাসে। শ্যাম্পেন যখন দিদির উপর রাগ করে তখন তাকে ট্রিট দিতে হয় নাহলে বাবুর রাগ ভাঙেনা। তবে সত্যি বলতে অহ একদম অভিমানী নয়। যখনি দিদির বাড়ির কেউ কষ্ট পায় কিংবা অসুস্থ হয়ে যায় অহ তখন একদম পাশ ছাড়েনা। বিশেষত দিদির। একটা বিড়াল হয়েও সে রুপসা দিদির একজন আদর্শ ছেলে হয়ে উঠার চেষ্টা করছে।  ওর সবথেকে বিশেষ যে গুন। দিদির প্রতি ভালোবাসা ও এক বিশেষ আকর্ষণ। যার চাকা সেই ছোটোথেকেই ঘুরতে শুরু করেছিলো।


ভাবতেও অবাক লাগে ফেসবুকের একটা পোস্ট দেখে এই একটা দীর্ঘ যাত্রা শুরু হয়েছিলো। যাকিনা আজও বর্তমান। আপনারা সবাই আশীর্বাদ করবেন যেন দিদি ও তার প্রিয় শ্যাম্পেন ভালোথাকে।

অঙ্কিতা দিদি ও দিদির ছানাপোনা

বন্ধুরা সবাই কেমন আছো? অনেকদিন পর আবারো একটা গল্প নিয়ে চলে এলাম।  যেই গল্পের মুখ্য চরিত্র কাজল, আলু আর মায়াকে নিয়ে। অঙ্কিতা দিই হচ্ছে এই বাচ...